kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই...

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই...

দুই দলের সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজটির পর আড়াই মাসও পেরোয়নি। সে অ্যাওয়ে সিরিজে পাকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। আজ বিশ্বকাপে যখন দুই দল মুখোমুখি—তখন কারা ফেভারিট, তা নিশ্চয়ই বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে ফেভারিট? অমনটা বলায়ও ঝুঁকি আছে; প্রবল ঝুঁকি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তো কিছু দিন আগের সিরিজে ০-৪ ব্যবধানে হেরেছিল সরফরাজ আহমেদের দল। কিন্তু বিশ্বকাপে এসে ঠিকই হারিয়ে দেয় স্বাগতিকদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বৈরথের আগে সেটিই মনে করিয়ে দেন পাকিস্তান অধিনায়ক, ‘সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খুব বেশি ম্যাচ আমরা জিতিনি। সেটি তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতছিলাম না। কিন্তু বিশ্বকাপে এসে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি। সেটি আমাদের অনেক বেশি আশাবাদী করে তুলেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেমন আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেছি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও তেমনভাবে খেলব।’ মার্চের শেষ সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সিরিজটি নিয়ে যে খুব ভাবছেন না, তা-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন সরফরাজ, ‘সেটি অতীত। তা নিয়ে আমরা মোটেই ভাবছি না। ভাবছি শুধু কালকের ম্যাচ নিয়ে। দল খুব আত্মবিশ্বাসী। আশা করছি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমরা ভালো করতে পারব।’

পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাসের কারণটা অনুমেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে যাচ্ছেতাইভাবে হেরে বিশ্বকাপ শুরুর পর সবাইকে চমকে তারা হারিয়ে দেয় ইংল্যান্ডকে। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলাটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় তাদের এখন তিন পয়েন্ট। অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট চার। তবে আফগানিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর সর্বশেষ খেলায় ভারতের কাছে হেরে তারা হোঁচট খেয়েছে। তার ওপর সে ম্যাচে সাইড স্ট্রেইন ইনজুরিতে পড়েছেন অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস। আজ তিনি খেলতে পারছেন না নিশ্চিতভাবে। কবে পারবেন, সেটিও জানা নেই। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড সফরে আসার কথা যে মিচেল মার্শের, বিকল্প হিসেবে তিনি আসছেন আগেভাগে। তবে এখনই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে স্টয়নিসের বদলি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না বলে জানান অসি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ, ‘মার্কাস যদি দ্রুত সেরে না ওঠে তাহলে মিচকে বদলি হিসেবে নেব। এখনো ঠিক জানি না, ও কত ম্যাচ খেলতে পারবে না। সপ্তাহের শেষের দিকে হয়তো বোঝা যাবে। এখন আমাদের ভাবতে হবে, মার্কাসের জায়গায় একজন অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান বে নাকি অ্যালেক্স ক্যারিকে ছয় নম্বরে খেলিয়ে বাড়তি বোলার নেব।’

অস্ট্রেলিয়ার সমস্যা রয়েছে আরো। ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ভারতের ৩৫২ রান তাড়ায় ৮৪ বলে ৫৬ রান করে পড়েছেন সমালোচনার মুখে। তবে অধিনায়ককে তিনি পাশেই পাচ্ছেন, ‘ভারতীয় বোলাররা ওয়ার্নারের বিপক্ষে খুব ভালো বোলিং করেছে। ও বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান। ওর মানিয়ে নেওয়ার জন্য আরো কিছুটা সময় প্রয়োজন। এরপর ওয়ার্নার যে আমাদের ইনিংসের দুর্দান্ত সূচনা এনে দিতে পারবে— সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত।’

আরেক সমস্যা বৃষ্টি। টন্টনের আজকের ম্যাচেও রয়েছে এর চোখরাঙানি। অসি অধিনায়ক ফিঞ্চ অবশ্য প্রস্তুত যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই, ‘বৃষ্টির ওপর তো আর পরিকল্পনা করা যায় না। পরিকল্পনা করতে হয় পুরো ৫০ ওভার ঘিরেই। সবাইকে তাই প্রস্তুত থাকতে হবে। যদি খেলা শুরু হতে অনেক দেরি হয়, তাহলে একাদশে পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। কিন্তু আমাদের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ টুর্নামেন্টের শুরুর দিকের ম্যাচে জয়ের গুরুত্বও উচ্চারিত তাঁর কণ্ঠে, ‘বিশ্বকাপের আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া বড় ভূমিকা রাখতে পারে। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে বেশ কিছু ম্যাচ জেতা থাকাটা ভালো। নইলে বৃষ্টিতে দু-একটি ম্যাচ ভেসে গেলে সেরা চার থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

সে আশঙ্কা দূরে ঠেলে ম্যাচ মাঠে গড়ালে অস্ট্রেলিয়া যে সর্বশক্তি দিয়ে পাকিস্তানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, তা সবার জানা। বিশেষত ভারতের কাছে হারের পর। পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ অবশ্য সে জন্য প্রস্তুত, ‘আমরা জানি, অস্ট্রেলিয়া প্রবলভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করবে। স্মিথ ও ওয়ার্নার ফেরায় ওরা শক্তিশালীও হয়েছে খুব। ওদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত; যদিও সব প্রতিপক্ষকেই সম্মান করি।’

সর্বশেষ সিরিজে ৫-০ ব্যবধানে জিতলেও অস্ট্রেলিয়া নিশ্চয় সম্মান করে আজকের প্রতিপক্ষকেও। দলটির নাম যে পাকিস্তান!

মন্তব্য