kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

বিশ্ব শরণার্থী দিবস আজ

বিদেশে ২১ হাজার বাংলাদেশি শরণার্থী

আরো ৫৯ হাজার জনের আশ্রয়ের আবেদন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদেশে ২১ হাজার বাংলাদেশি শরণার্থী

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২১ হাজার ‘শরণার্থী’র (রিফিউজি) উৎস বাংলাদেশ। এর বাইরে বিভিন্ন দেশে এমন ৫৯ হাজার ব্যক্তির ‘অ্যাসাইলাম’-এর (আশ্রয়ের) আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে যাদের উৎস রাষ্ট্রও বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব শরণার্থী দিবস সামনে রেখে গতকাল বুধবার জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) প্রকাশিত ‘২০১৮ সালে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বৈশ্বিক প্রবণতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

শরণার্থী হিসেবে মর্যাদা পাওয়া বা আশ্রয়ের আবেদন করা ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশি কি না সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, তারা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছে। ধরে নেওয়া যায়, তারা বাংলাদেশি।

ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৮ সাল শেষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২০ হাজার ৮৮৮ জন শরণার্থীর উৎস দেশ বাংলাদেশ। এর বাইরে ‘শরণার্থীর মতো পরিস্থিতি’তে আছে বাংলাদেশের আরো ১৪৮ জন। একজন বাংলাদেশিও ‘শরণার্থী’ মর্যাদা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে আসেনি।

অন্যদিকে ২০১৮ সাল শেষে বিদেশে ‘অ্যাসাইলাম-সিকার’ (আশ্রয়প্রার্থী) ছিল ৫৮ হাজার ৮৫৬ জন বাংলাদেশি। এর বাইরে বাংলাদেশের আরো আট ব্যক্তি ইউএনএইচসিআরের উদ্বেগের তালিকায় আছে। বাংলাদেশের মোট ৭৯ হাজার ৯০০ জনকে ‘পপুলেশন অব কনসার্ন’-এর (উদ্বেগের তালিকা) তালিকায় রেখেছে ইউএনএইচসিআর। তবে তাদের কাউকেই বাংলাদেশ ‘স্টেটলেস’ (রাষ্ট্রহীন) করেনি।

শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থীদের উৎস দেশগুলোর তালিকার শীর্ষে যে দেশগুলো আছে সেখানে যুদ্ধ বা যুদ্ধাবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অর্থনৈতিক দুরবস্থা চলছে। সেগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সাদৃশ্য না থাকলেও বাংলাদেশিরা কেন বিদেশে ‘শরণার্থী’ মর্যাদা বা আশ্রয় চাচ্ছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি। তবে ঢাকায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনীতিকদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে অনানুষ্ঠানিক আলাপে জানা গেছে, অনেক বাংলাদেশি ‘শরণার্থী’ বা ‘আশ্রয়’ পাওয়ার শর্ত পূরণ করেই বিদেশে থাকছে। আবার অনেকে সেসব শর্ত পূরণ করার বিষয়টি প্রমাণ করতে না পারলে তাদের ফিরে আসতে হচ্ছে। অনেকে রাজনৈতিক কারণেও বিদেশে আশ্রয় চাচ্ছে। আবার অনেকে উন্নত বিশ্বে তুলনামূলক ভালো জীবন যাপনের আশায় কোনো মতে ওই দেশগুলোতে ঢুকে আশ্রয় চাচ্ছে বা শরণার্থী মর্যাদা চাচ্ছে। এ প্রবণতা বেশ আগে থেকেই ছিল।

এদিকে বিশ্বে ‘শরণার্থী’/‘শরণার্থীর মতো পরিস্থিতি’তে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় (সংখ্যার বিচারে) আট নম্বরে আছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে বিশ্বে শরণার্থীদের চতুর্থ শীর্ষ উৎস রাষ্ট্র মিয়ানমার। সিরিয়া, আফগানিস্তান ও দক্ষিণ সুদান এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের চেয়ে এগিয়ে আছে। সরকারি হিসাবে এ দেশে আশ্রিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি হলেও ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী তা ৯ থেকে ১০ লাখের মধ্যে।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো এখনো শরণার্থীদের বিশাল বোঝা বহন করছে। বাংলাদেশ, চাদ, কঙ্গো, ইথিওপিয়া, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া, উগান্ডা ও ইয়েমেনের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলো ৬৭ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, ‘শরণার্থী পরিস্থিতি যতই দীর্ঘ মেয়াদি হোক না কেন সমস্যার সমাধান এবং লোকজনের নিজেদের বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রে বাধাগুলো দূর করার ওপর আমাদের জোর দিতে হবে।’

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি স্টিভেন করলিস বিশ্বসম্প্রদায়কে বাংলাদেশে শরণার্থী পরিস্থিতির (রোহিঙ্গা পরিস্থিতি) প্রতি আরো সহমর্মিতা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আশ্রিত রোহিঙ্গা এবং এ সংকটে প্রভাব পড়েছে এমন বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য এ বছরের আরো আগের দিকে ৯২ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ চাওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে গতকাল বুধবার পর্যন্ত প্রত্যাশিত অর্থের এক-চতুর্থাংশেরও কম পাওয়া গেছে।

ইউএনএইচসিআর বলেছে, বিশ্বে যুদ্ধ, নিপীড়ন এবং সংঘাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়া লোকের সংখ্যা প্রায় সাত কোটি আট লাখে দাঁড়িয়েছে। গত প্রায় সাত দশকের ইতিহাসে ইউএনএইচসিআরের দেখা এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

 

 

মন্তব্য