kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য

দরকার কঠোর আইন, সেবা সহজীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দরকার কঠোর আইন, সেবা সহজীকরণ

সেবা নিতে যাওয়া রোগীকে সরকারি হাসপাতালে ঢুকতে না দিয়ে ভালো সেবার কথা বলে কমিশন নিয়ে অন্য হাসপাতালে পাঠানো, বিনিময়ে হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়াসহ নানা ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটছে অহরহ। বিশেষ করে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালে ওই ধরনের দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ পাওয়া যায় নিয়মিত। আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, সরকারি হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে দরকার আইনের কঠোর বিধান এবং সেবা সহজীকরণ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন সময় পুলিশ দালালদের আটক করলেও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। কখনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়া আবার কখনো অপরাধের কোনো আইনি ব্যাখ্যা থাকায় তাদের ছেড়ে দিতে হয়। এ কারণে বারবার একই কাজে ফিরে আসে দালালচক্রের সদস্যরা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘‘দালালদের দৌরাত্ম্য কমানো বা শাস্তির বিষয়ে আসলে আমাদের প্রচলিত আইনে তেমন কোনো বিধান নেই। ‘টাউট অ্যাক্ট ১৯৭৯’ থাকলেও সেটি তখনকার সময় কোর্ট চত্বরে এই ধরনের অপরাধ কমানোর জন্য করা হয়েছিল। হাসপাতাল বা সরকারি দপ্তরগুলোতে যারা এ ধরনের অপরাধ করে থাকে, তাদের নিয়ন্ত্রণ বা শাস্তির জন্য প্রতারণা আইন প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে এর জন্য আলাদা নির্দিষ্ট আইন থাকলে ভালো হয়।’’ দালালদের দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আমার জানা মতে দুই শতাধিক দালাল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এদের কাছে অনেক সময় সাধারণ মানুষকে জিম্মি হয়ে পড়তে হয়।’

র‌্যাব সদর দপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচলানাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইনের সুনির্দিষ্ট ধারা থাকলে শাস্তির আওতায় আনতে সুবিধা হতো। তবে এখানে সদিচ্ছা বড় একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশ চাইলে তাদের দমন করতে পারে। সরকারি আদেশ অমান্য আইনসহ প্রতারণার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে। আমি বিভিন্ন হাসপাতালে দুই শর ওপরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি। স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শাস্তিও দিয়েছি। কিন্তু এতে কোনো লাভ নেই। যত দিন ডাক্তার আর কর্মচারীরা ওই দালালচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবেন, তত দিন কিছুই হবে না। সবার আগে সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবা সহজীকরণ করতে হবে।’

 

 

মন্তব্য