kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

হুয়াওয়ে নিয়ে চীনের পাশে পুতিন

মার্কিন আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বিশ্বকে সত্যিকার যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মার্কিন আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বিশ্বকে সত্যিকার যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে

চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু বাণিজ্য যুদ্ধই নয়, বিশ্বকে সত্যিকারের যুদ্ধের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গ ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে পুতিনের এ মন্তব্যকে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ‘চমৎকার সম্পর্কের’ নজির হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। হুয়াওয়েকে নিয়ে বাণিজ্য যুদ্ধ রাজনৈতিক যুদ্ধের দিকে যাওয়ার বিষয়ে পুতিনের বক্তব্যও ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

কয়েক দিন আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন। সেই সময় তিনি মস্কো ও বেইজিংয়ের বর্তমান সম্পর্ককে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের মধ্যে ‘সবচেয়ে ভালো’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

সেন্ট পিটার্সবার্গ ইকোনমিক ফোরামে রুশ প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘লাগামহীন অহমিকার’ অভিযোগ তোলেন। পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপে রাশিয়ার কম্পানির গ্যাস সরবরাহ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতারও সমালোচনা করেন তিনি। পুতিন আরো বলেন, “যেসব রাষ্ট্র এত দিন মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসারে কাজ করে এসেছিল, তারাই এখন বাণিজ্য যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে। অবাজারি পদ্ধতিতে তারা এখন প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘হুয়াওয়ের উদাহরণটাই দেখুন। তারা শুধু প্রতিষ্ঠানটিকে সংকুচিত করারই চেষ্টা চালাচ্ছে না, বরং একে বিশ্ববাজার থেকে হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিছু কিছু অঙ্গনে এরই মধ্যে একে ডিজিটাল যুগের প্রথম প্রযুক্তি যুদ্ধ হিসেবেও ডাকা শুরু হয়েছে।’ পুতিন এ ধরনের ‘আগ্রাসী আচরণের’ ফলাফল নিয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘এটি অনিঃশেষ সংঘাত ও বাণিজ্য যুদ্ধের পথ। সম্ভবত এটি শুধু বাণিজ্য যুদ্ধেই থেমে থাকবে না। সত্যি করে বললে, এই পথ নিয়মনীতি বহির্ভূত এমন একটি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, যেখানে সবাই সবার বিরুদ্ধে লড়বে।’

পুতিনের বক্তব্যে কড়া ভাব থাকলেও ওই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সুর ছিল তুলনামূলক নরম। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ শিগগিরই কেটে যাবে বলেও আশাবাদ শুনিয়েছেন তিনি। চিনপিং বলেন, ‘আমরা (বিবাদে) আগ্রহী নই, আমাদের মার্কিন অংশীদাররাও সম্ভবত আগ্রহী নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমার বন্ধু এবং তিনিও যে এ রকমটা চান না সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত।’

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের দর-কষাকষিতে হুয়াওয়ে কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

হুয়াওয়ের প্রযুক্তিকে চীন বিশ্বজুড়ে নজরদারি চালানোর কাজে ব্যবহার করতে পারে—এমন উদ্বেগ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে চীনা এ টেলিকম জায়ান্টকে বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। হুয়াওয়ে শুরু থেকেই চীনা সরকারের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের সরঞ্জামে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে দাবি করে আসছে। সূত্র : রয়টার্স।

 

মন্তব্য