kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরতেও ভোগান্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরতেও ভোগান্তি

ছবি: কালের কণ্ঠ

ঈদ শেষে দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। বিভিন্ন জেলায় বাস কাউন্টারগুলোতে রাজধানী ঢাকাসহ কর্মস্থল অভিমুখী যাত্রীদের ভিড়, বাস পেতে বিলম্ব, টিকিটের অভাব, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়াসহ নানা ধরনের ভোগান্তি তৈরি হয়। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এবং বাড়তি ভাড়া আদায়সহ ভোগান্তি চলছে নদীপথেও। টিকিট কেটেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নিজ আসনে বসতে পারছে না বরিশালের অনেক লঞ্চযাত্রী। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে রেলপথে। পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদের ফিরতি যাত্রায় আজ রবিবারই সবচেয়ে চাপ থাকবে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ।

ঢাকা : গতকাল শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার ফাঁকা রাজপথ আবার ভরে উঠতে শুরু করেছে যানবাহনে। যদিও আজ রবিবার সকালে ঢাকায় ফিরতি মানুষের সবচেয়ে বেশি ঢল নামবে বলে জানান পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। লঞ্চ ও বাসের ক্ষেত্রে যাত্রী ভোগান্তি তুলনামূলক কম থাকলেও ট্রেনে শিডিউল এলোমেলো হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই ঘটে বিলম্ব।

ফিরতি ট্রিপ ধরার জন্য লঞ্চগুলো ঢাকা ঘাটে এসে যাত্রীদের তড়িঘড়ি করে নামিয়ে দেওয়ায় যাত্রীদের নানা রকম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক আলমগীর কবীর কালের কণ্ঠকে জানান, গতকাল দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন রুটের ৮০টির বেশি লঞ্চ ঢাকা সদরঘাটে আসে। তবে ফিরতি যাত্রীদের বেশি ভিড় হবে আজ।

সড়ক ও রেলপথেও গতকাল সকালে ঢাকায় আসে হাজার হাজার যাত্রী। খুলনা থেকে ঢাকায় গাবতলী বাস টার্মিনালে আসা যাত্রী সাইফুর রহমান জানান, দীর্ঘ কোনো যানজটে আটকা পড়তে হয়নি। এমনকি ফেরিঘাটেও তুলনামূলক কম অপেক্ষা করতে হয়েছে।

বিলম্বের কারণে ট্রেনের যাত্রীরা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে ঢাকায় আসছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, রংপুর রেলস্টেশন থেকে গত শুক্রবার রাত ৮টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা রংপুর এক্সপ্রেস সোয়া তিন ঘণ্টা দেরিতে গতকাল সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে ঢাকার কমলাপুরে আসে। রেল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রংপুর এক্সপ্রেসের মতো আরো কয়েকটি ট্রেন দেরিতে আসে ঢাকায়। সুন্দরবন এক্সপ্রেস আসে সোয়া এক ঘণ্টা দেরিতে।

নীলসাগর এক্সপ্রেস কমলাপুরে পৌঁছে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট দেরিতে। গতকাল ৬৯টি ট্রেনে কমলাপুরে যাত্রীরা বাড়ি থেকে ফেরে। প্রতিটি ট্রেনেই যাত্রীর ভিড় ছিল।

শিবচর (মাদারীপুর) : গতকাল দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাত্রীরা সড়কপথে এসে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মার কাঁঠালবাড়ী ঘাটে এসে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হয়েছে। প্রতিটি লঞ্চ, স্পিডবোটেই ছিল প্রচুর যাত্রী। ঘাটে বিআইডাব্লিউটিএর ঢাকা থেকে আসা টিমসহ একাধিক টিম অবস্থান করলেও অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো থামাতে তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো পদ্মা পাড়ি দেয়। লঞ্চগুলো ঘাট ছাড়ার পর যাত্রীপ্রতি ৩৩ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা করে আদায় করেছে। স্পিডবোটে ১৩০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা করে আদায় করে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গতকাল দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটে কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া এমএল লিটন পরিবহন লঞ্চের সামনে ধারণক্ষমতা ১০১ জন যাত্রী লেখা থাকলেও যাত্রী তোলা হয় ৩২৪ জন।

চাঁদপুর : ঈদের ছুটি শেষ, তাই আপনজনদের ছেড়ে আবারও কর্মস্থলে ছুটে যাচ্ছে হাজারো মানুষ। গতকাল ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল থেকে রাজধানীর সদরঘাটের উদ্দেশে ১৫টি লঞ্চ যাত্রা করে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জসহ আরো কয়েকটি রুটেও বেশ কয়েকটি ছোট-বড় লঞ্চ চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল ত্যাগ করে।

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গতকাল ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে চলাচলকারী আন্ত নগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। সকাল ১০টায় ট্রেনটি গফরগাঁওয়ে আসার পর এ ঘটনা ঘটে। এর ফলে ঈদফেরত যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে টঙ্গী থেকে বিকল্প ইঞ্জিন এনে প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেনটি গফরগাঁও স্টেশন ত্যাগ করে।

বরিশাল : বরিশাল নদীবন্দরে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। লঞ্চের প্ল্যাটফর্ম, ডেক, করিডর কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। অনেকে লঞ্চের টিকিট পেলেও নির্ধারিত আসনে বসতে পারেনি। সন্ধ্যায় লঞ্চ ছাড়বে অথচ আসন পেতে গতকাল শনিবার দুপুর থেকেই লঞ্চঘাটে অবস্থান নিয়েছে অনেক যাত্রীই। যাত্রীরা জানায়, আগে থেকে লঞ্চের আসন দখল না করলে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে তাদের।

চট্টগ্রাম : ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাড়ি যাওয়া মানুষ ফের চট্টগ্রামে ফিরতে শুরু করেছে। তবে গত বুধবার ঈদের দিন থেকে ঈদ বকশিশের নামে নগরীর বিভিন্ন যানবাহনে যেভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু হয়েছিল, তা এখনো অব্যাহত আছে। গতকাল শনিবার সকালে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামা ফোরকান নামের এক যাত্রী জানান, নিউ মার্কেট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অলংকার মোড়ে যেতে তাকে ভাড়া দিতে হয়েছে ২২০ টাকা। অন্য সময় এই দূরত্বের ভাড়া ১০০ থেকে ১২০ টাকা। যাত্রীরা জানান, নগরীর চকবাজার থেকে মুরাদপুরগামী অটোটেম্পোগুলো যাত্রীপ্রতি পাঁচ থেকে দশ টাকা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। একইভাবে মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন, অক্সিজেন থেকে ষোলশহর ২ নম্বর গেট, বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতু এলাকা এবং বাস টার্মিনাল, কাপ্তাই রাস্তার মাথাসহ নগরীর বিভিন্ন রুটে যানবাহনে যাত্রীদের কাছ থেকে ঈদ বকশিশের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা গতকালও অব্যাহত ছিল।

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে ভাটিয়ারী এলাকার নিয়মিত ভাড়া ২০ টাকা। কিন্তু গতকাল শনিবার এই দূরত্বে যেতে গণপরিবহনগুলো আদায় করেছে ৬০ টাকা। ফলে তিন গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে যেতে হয়েছে যাত্রীদের। একইভাবে সীতাকুণ্ড থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর অলংকারের নিয়মিত ভাড়া ৩০ টাকা হলেও গতকাল যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা করে।

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর বাসিন্দা মো. ইলিয়াছ হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে জানান, সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাসস্ট্যান্ড থেকে তিনি উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় যেতে বাসে উঠলে তাঁর কাছ থেকে ৬০ টাকা ভাড়া আদায় করে তারা। এ টাকা দিতে রাজি না হলে তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলা হয়।

 

 

মন্তব্য