kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, ককটেল

বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ, সিসি ক্যামরা ভাঙচুর, সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, ককটেল

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গতকাল ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারসহ বয়সসীমা বাতিলের দাবিতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির নেতারা। গতকাল সোমবারও তাঁরা দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। বিলুপ্ত কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করতে চান তাঁরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা কাকরাইলের স্কাউট ভবনের কাছে সমবেত হয়ে মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। তাঁরা ‘অবৈধ প্রেস রিলিজ মানি না, মানব না’, ‘সিন্ডিকেটের দালালদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘হৈহৈ রৈরৈ, দালালরা গেল কই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। বিক্ষুব্ধ নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন এবং তারেক রহমানের পক্ষেও বিভিন্ন স্লোগানও দেন।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারী নেতারা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফটকের সামনে অবস্থান নেন এবং কার্যালয়ের ভেতরের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। এ সময় ভেঙে ফেলা হয় কার্যালয়ের সামনে থাকা বেশ কয়েকটি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাও। এ সময় কার্যালয়ের ভেতর থেকে কয়েকজন কর্মী বের হতে গেলে তাদের বিক্ষুব্ধরা মারধর করেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানি ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নয়াপল্টনের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে আন্দোলনরতরা তাঁদের ঢুকতে দেননি।

মিলনকে উদ্দেশ করে বিক্ষুব্ধরা বলেন, ‘আপনি আগেই সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এরপর কাউন্সিলে আপনার জুনিয়রদের ভাইস চেয়ারম্যানসহ অনেক পদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আপনাকে সাংগঠনিক সম্পাদকই রাখা হয়েছে, এগুলো আওয়ামী লীগের চক্রান্ত। দলের মধ্যে যারা সরকারের দালাল রয়েছে তাদের বহিষ্কার করতে হবে।’ এমন পরিস্থিতিতে ফজলুল হক মিলন এক পাশে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পরে চলে যান।

কর্মসূচি শেষে বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না বলেন, ‘আমাদের দাবি, ২০০০ সালের বয়সসীমা উঠিয়ে দিতে হবে। যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে তা বাতিল করে পুনঃ তফসিল করতে হবে। দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলনের কর্মসূচি চলবে। আগামীকালও আমরা কর্মসূচির জন্য এখানে আসব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলকে ভালোবাসি, এই দলের জন্য আমরা রাজপথে জীবন-যৌবন সব দিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেতারা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতার (তারেক জিয়া) সঙ্গে আলাপ করে সুষ্ঠু সমাধান করবেন। আমরা নেতার সঙ্গে আলোচনা করতে চাই।’

সাবেক কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত বলেন, ‘যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।’

দুই ঘণ্টার কর্মসূচি শেষে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত এখতিয়ার কবির, এজমল হোসেন পাইলট, মামুন বিল্লাহ, আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, দবির উদ্দিন তুষার, জহিরউদ্দিন তুহিন, রাজীব আহমেদসহ অন্যরা অনুগত নেতাকর্মীদের নিয়ে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁর দিকে চলে যান। এ সময় পেছন দিক থেকে চার-পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। একটি ককটেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। কে বা কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

অন্যদিকে বিক্ষোভ কর্মসূচির পুরো সময়ই নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আমিরুল ইসলাম খান আলিমসহ সাবেক ছাত্রনেতারা ও শতাধিক কর্মী অবস্থান করছিল। এ ছাড়া কার্যালয়ের পাশের ভিক্টরি হোটেলের গলিতে ও পূবালী ব্যাংকের পাশেও স্বেচ্ছাসেবক এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়। বিক্ষুব্ধরা চলে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয় কার্যালয়ে।

এদিকে ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশীরাও সকাল ও বিকেল দুই দফা কার্যালয়ের সামনে মিছিল করেন।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ জুলাই ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর।

 

মন্তব্য