kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

এভাবেই ফেরে পাকিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এভাবেই ফেরে পাকিস্তান

প্রথম ম্যাচে বাজে হারের পর অসাধারণ এক জয়ে বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। হারিয়েছে টপ ফেভারিট ইংল্যান্ডকে। ছবি : এএফপি

এ কারণেই পাকিস্তানকে নিয়ে বাজি ধরা যায় না। বিশ্বকাপ শুরু করেছে যারা ১০৫ রানে অলআউট হয়ে, পেছনের ১২ ম্যাচে যাদের জয়ের দেখা নেই, সেই তারাই কিনা ট্রেন্টব্রিজে ব্যাটে বলে এক অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে হারিয়ে দিল খোদ ইংল্যান্ডকে। বিশ্বকাপের আয়োজক বলেই নয়, পারফরম্যান্সের দিক দিয়েও এই আসরের অন্যতম হট ফেভারিট ইংল্যান্ড। লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ যাদের। ট্রেন্টব্রিজেই ৪৮১ এবং ৪৪৪ রানের রেকর্ড দুটি স্কোর তাদের। প্রথম দল হিসেবে ৫০০ ছোঁয়ার দৌড়েও তাদের এগিয়ে রাখে সবাই। সেই দলের বিপক্ষেই কাল ৩৪৮ রান স্কোর বোর্ডে জমা করে পাকিস্তান ম্যাচ জিতেছে ১৪ রানে।

এভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে শুধু পাকিস্তানই। এদিন তাদের টপ অর্ডারের প্রায় প্রত্যেকের কাছ থেকেই এলো দায়িত্বশীল ইনিংস। প্রথম পাঁচজনের মধ্যে তিনজনেরই হাফ সেঞ্চুরি, একজনের রান ৪০-এর ঘরে, ৩০-এর ওপরে অন্যজনের। সর্বোচ্চ ৮৪ মোহাম্মদ হাফিজের। বাবর আজম করেছেন ৬৩, সরফরাজ আহমেদের ৫৫, ৪৪ করেছেন ওপেনার ইমামউল হক। ৪০ বলে ফখর জামানের ৩৬ রানও সাড়ে তিন শর কাছাকাছি স্কোর নিয়ে যেতে রেখেছে বড় ভূমিকা। জবাবে ইংল্যান্ডের ইনিংস থেকে আসে দুটি সেঞ্চুরি, জো রুট করেন ১০৭, বিশ্বকাপে যেটি প্রথম শত রান। তাঁর সঙ্গে ১৩০ রানের জুটি গড়া জস বাটলার করেছেন ১০৩। ৩৪৯ তাড়া করতে নেমে ১১৮ রানে চার শীর্ষ ব্যাটসম্যানকে হারায় ইংল্যান্ড। তাঁদের মধ্যে জেসন রয় ৮, এউইন মরগান ৯, বেন স্টোকস ১৩ ও জনি বেয়ারস্টো আউট হন ৩২ রানে। বোলিং ওপেন করেন লেগ স্পিনার শাদাব খান। নিজের দ্বিতীয় ওভারে তিনি এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন জেসন রয়কে। ইনিংসের নবম ওভারে বেয়ারস্টোকে ফেরান ওয়াহাব রিয়াজ। এরপর দ্রুত ফিরে যান অধিনায়ক মরগান ও স্টোকস। মোহাম্মদ হাফিজ তুলে নেন মরগানকে, উইকেট শিকারে শামিল হয়ে শোয়েব মালিক ফেরান স্টোকসকে। তবে রুট এক প্রান্ত ধরে ঠাণ্ডা মাথায় খেলে যাচ্ছিলেন, তাঁর সঙ্গে যোগ হন বাটলার। এই দুজনের লম্বা পার্টনারশিপেই ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ড, জয়ের পথেও এগোতে থাকে। শাদাবই ফের আঘাত হানেন, দলীয় ২৪৮ রানে রুটকে ফেরান তিনি। বাটলারও থামেননি সেঞ্চুরির আগ পর্যন্ত। তবে ৪৫তম ওভারে তাঁর আউটেই ম্যাচ আবার কিছুটা হেলে পড়ে পাকিস্তানের দিকে। শেষ ৪ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন হয় ৫৩ রান। কিন্তু ৪৭তম ওভারে মোহাম্মদ আমির এসে ১৫ রান দিলে আবার স্বাগতিকদের সম্ভাবনা দেখা দেয়। সেটি আবারও উবে যায় পরের ওভারে ওয়াহাব রিয়াজ পর পর দুই বলে মঈন আলী (১৯) ও ক্রিস ওকসকে (২১) তুলে নিলে। শেষ দুই ওভারে ২৯ রান তুলতে হতো ইংল্যান্ডকে, হাতে দুই উইকেট। ৪৯তম ওভারে আরো এক উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের জন্য কাজটা কঠিন করে দেন আমির। ওয়াহাব রিয়াজের শেষ ওভারে ২৫ রান প্রয়োজন ছিল, অভিজ্ঞ এই পেসার তা কি আর হতে দেন!

১৪ রানের অসাধারণ এক জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে তাই আবার পাকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঠিক আগের সিরিজটাই ৪-০-তে হেরেছে তারা। তিন ম্যাচে ৩৪০-এর ওপর স্কোর করেও জিততে পারেনি। কিন্তু কাল দিনটা ছিল অন্য রকম। পাকিস্তান অননুমেয় তো সে কারণেই।

মন্তব্য