kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

তৃণমূল আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঈদের পর

তৈমুর ফারুক তুষার   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তৃণমূল আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঈদের পর

জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে তৃণমূলে সংগঠন গোছানোর কাজ ঈদের পরই জোরেশোরে শুরু করবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া শাখাগুলোর সম্মেলন শুরু হবে ঈদের পর। সেই সঙ্গে যেসব শাখার সম্মেলন হয়েছে, সেগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দলের স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূলের নেতাদের বিবাদ নিরসনের লক্ষ্যেও নেওয়া হবে কার্যকর উদ্যোগ। তবে সংগঠন গোছানোর এ কাজ বাজেট অধিবেশনের সময় খানিকটা ভাটা পড়বে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছরের শেষ দিকে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

এক মাসের কিছু বেশি সময় আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলের জাতীয় সম্মেলনের আগেই জেলা, মহানগর, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো গোছানোর সিদ্ধান্ত হয়। তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী করতে আট বিভাগের জন্য গঠন করা হয় আটটি সাংগঠনিক টিম। ওই সব টিমে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্য, বিভাগগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং

সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতারা আছেন। তবে বেশির ভাগ বিভাগেই সংগঠন গোছাতে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাতে পারেনি ওই টিমগুলো। দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু খুলনা বিভাগের বেশির ভাগ জেলায় দলের বর্ধিত সভা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে বর্ধিত সভা হয়েছে সাত জেলায়। অন্য বিভাগগুলোতে ঈদের পর জোরেশোরে শুরু হবে সাংগঠনিক কাজ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের পর থেকে আমরা তৃণমূলে কাউন্সিলগুলো করব। প্রতিটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ঈদের পর নিজ নিজ বিভাগে তৃণমূলে কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করবেন।’

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘সত্য কথা বলতে নানা কারণে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে নেতাকর্মীদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। পারস্পরিক সম্পর্কের ঘাটতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনের সময় আমাদের অনেক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য নৌকার বিরোধিতা করেছেন। এগুলো মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। এসব সমস্যা সমাধানের জন্যই আমাদের সাংগঠনিক সফর শুরু হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সময়মতো সম্মেলন করতে চাই। কাউন্সিলরদের তালিকা আরো সুস্পষ্ট করতে চাই। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এমনও জায়গা আছে, যেখানে সম্মেলন হয়েছে; কিন্তু আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। যদি আমরা সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করতে না পারি, তাহলে দলের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।’ সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা তৃণমূলে সম্মেলন করার উদ্যোগ নিয়েছি। খুলনা বিভাগের বেশির ভাগ জেলায় এরই মধ্যে বর্ধিত সভা করেছি। ঈদের পরই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলনা বিভাগের তৃণমূলের সব ইউনিটের সম্মেলন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিভাগের সাত জেলায় এরই মধ্যে আমরা বর্ধিত সভা করেছি। অন্য জেলাগুলোতেও শিগগিরই সভা হবে। ঈদের পর থেকে মূলত জেলা, উপজেলা ও অন্য কমিটিগুলোর সম্মেলনের কাজ শুরু হবে।’

আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের পরই আমরা থানা ও ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন শুরু করে দেব। বিভাগীয় একটি বর্ধিত সভা করে জেলাভিত্তিক বর্ধিত সভাগুলোও শুরু করে দেব। ঢাকা বিভাগে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কমিটি আছে; কিন্তু পূর্ণাঙ্গ নেই। সে ক্ষেত্রে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আর সংগঠনে তৃণমূলে যে সমস্যা আছে, তা নিয়েও আমরা বসব। বাজেট অধিবেশনের পরই আমরা তৃণমূলে সভা করব। কারণ সংসদ সদস্যরা অধিবেশনের সময় এলাকায় থাকতে পারেন না।’

দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, খুলনা বিভাগের মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা মহানগর, খুলনা জেলা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হয় গত মে মাসে। ওই সব বর্ধিত সভায় তৃণমূলে সম্মেলনের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, এস এম কামাল হোসেন, আমিরুল ইসলাম মিলন, বেগম পারভীন জামান কল্পনা। ওই টিমের সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন আব্দুর রহমান ও আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগে সাংগঠনিক সমস্যা ছিল। সবচেয়ে বেশি সাংগঠনিক ইউনিট এ বিভাগে হলেও এখানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছিল কম। তবে গত দুই মাসে বিভাগে তৃণমূল সংগঠন গোছাতে নানা তৎপরতা দেখা গেছে। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার সময় ঢাকা বিভাগের চার জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছিল না। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এক বৈঠক করেন। সেখানে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। একেকটি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয় তিন-চারজন কেন্দ্রীয় নেতাকে। ঈদের পরই ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাদের নিয়ে একটি বর্ধিত সভা করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

মন্তব্য