kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

ঈদ যাত্রা

সব পথেই যাত্রীর ঢল ভোগান্তি সয়েও আনন্দ

পার্থ সারথি দাস   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সব পথেই যাত্রীর ঢল ভোগান্তি সয়েও আনন্দ

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ট্রেনে গাদাগাদি করেও বাড়ির পথে ছুটছে যাত্রীরা। ছবিটি গতকাল রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আকাশ ঝেঁপে বৃষ্টি নামছে ঝমঝমিয়ে। কমলাপুর রেলস্টেশনে প্ল্যাটফর্মের অদূরে বারান্দায় একটি মোড়ায় বসে অস্থির অপেক্ষায় হামিদা নূর। সামনের দিকে ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে তিনি। কোলে দুই বছরের মেয়ে জারা হামিদ। জারা অস্থির হয়ে কাঁদছে। হামিদা ঘামছেন, মেয়েকে সামলাতে গিয়ে আরো ঘামছেন। তবে তাঁর চোখে-মুখে উদ্বেগ ট্রেন না আসায়।

চিলাহাটির উদ্দেশে নীলসাগর ট্রেনটিতে চড়ে যাবেন সৈয়দপুর। ট্রেনটি ছাড়ার কথা সকাল ৮টায়, দুপুর সাড়ে ১২টায়ও ট্রেনের দেখা নেই। তবে শেষ পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে ট্রেনটি ছাড়ে দুপুর ১টায়। গতকাল সোমবার ট্রেনটিতে ভিড় ঠেলে উঠতে গিয়ে মেয়েকে কোলে নিয়ে বারবার পড়ে যাচ্ছিলেন হামিদা। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রেন বাঁশি বাজিয়ে চলতে শুরু করলে হামিদার কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম হারিয়ে যায় ঠাণ্ডা হাওয়ায়। কোলে জারার কান্নাও ততক্ষণে থেমে যায়। মা-মেয়ের মুখে ফোটে অন্য এক হাসি।

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে হামিদার মতো গতকাল দিনভর রাজধানীর রেলপথ, সড়কপথ ও নৌপথে ছিল বাড়ি ফেরার আনন্দযাত্রা। সময়মতো পরিবহন ছাড়েনি তবে শেষ পর্যন্ত যাত্রা শুরুর পর তাদের সব বিরক্তি, ভোগান্তি হারিয়ে যায় বাড়ি যাওয়ার খুশিতে। আকাশে রুপালি বাঁকা চাঁদের হাসি ফোটার আগেই বাড়ি গেছে রাজধানী থেকে লাখ লাখ মানুষ।

গত বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক ঈদ যাত্রা শুরু হয়। গতকাল ছিল ঈদের আগে সর্বশেষ কর্মদিবস। তাই ঈদ যাত্রায় সরকারি চাকরিজীবীদের বাকি অংশ, যারা ৩ জুন বাড়তি ছুটি নিতে পারেনি তারা অফিস শেষে যাত্রায় যোগ দেয়। ঢাকার আশপাশে তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি হয়েছে বলে গতকাল পোশাককর্মীরাও বাড়ির পথ ধরে। গাজীপুর চৌরাস্তা, চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, নবীনগর, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আগেই প্রস্তুত রাখা বাসে তাদের যাত্রা শুরু হয়। বিআরটিসির ৩০টি বাস গাজীপুর থেকে পোশাককর্মীদের নিয়ে রওনা হয় উত্তরের বিভিন্ন জেলায়। তবে বাড়তি চাপ থাকলেও আগের বছরগুলোর মতো ঢাকা-চট্টগ্রাম বা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অস্বস্তি ছিল না। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা অংশে বাসের গতি ছিল ধীর। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকেই ছেড়ে যায় ৫৫টি ট্রেন। দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় যেতে সদরঘাটে লঞ্চের জন্য নামে যাত্রীর ঢল। 

গতকাল আগাম টিকিটে চতুর্থ দিনের মতো ট্রেনে যাত্রীরা ঢাকা ছাড়ে। বিকেল থেকে ট্রেনে চাপ বাড়ে। ভোর থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ২২টি ট্রেন ছেড়ে যায়। তবে বেশির ভাগ ট্রেন ছাড়ে দেরিতে। যেমন লালমনিরহাট ঈদ স্পেশাল সকাল সোয়া ৯টার বদলে দুপুর ১২টায়, রংপুর এক্সপ্রেস পৌনে দুই ঘণ্টা, ময়মনসিংহগামী ঈশা খান এক্সপ্রেস তিন ঘণ্টা ১০ মিনিট দেরিতে ছাড়ে। গতকাল তিনটি বিশেষ ট্রেন কমলাপুর থেকে ছাড়ে।

রাজধানীর সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ ছিল বেশি। তবে হিমাচল, শ্যামলী, হানিফ, শাহ ফতেহ আলী পরিবহনসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ করেছে যাত্রীরা। ঈদের আগে দুটি বাস টার্মিনালে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে চারটি বাস কম্পানি থেকে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজ মন্ত্রণালয়ে এ তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি পরিবহন মালিকদের ঈদ মৌসুমে সংযমী হতে অনুরোধ করছেন।

গতকাল ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে গাড়ির চাপ ছিল। বেশি ভাড়ায় বাসে চড়তে হয় যাত্রীদের। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, সিএনবি, নবীনগর, বাইপাইল, জামগড়াসহ বিভিন্ন স্থানে যাত্রীরা অভিযোগ করে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কে ঈদ যাত্রা এর আগে এত স্বস্তিদায়ক হয়নি বলে স্বস্তিতে আছেন সড়কমন্ত্রীও। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গতকাল সাড়ে চার ঘণ্টায় চলাচল করতে পেরে খুশি হানিফ পরিবহনের যাত্রী নয়ন মিয়া। চট্টগ্রামে বিকেলে পৌঁছার পর মোবাইল ফোনে বললেন, ‘নতুন মেঘনা ও গোমতী সেতু হওয়ায় সুফল পাচ্ছি।’

 

 

মন্তব্য