kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

কমিটি নিয়ে ছাত্রলীগে কোন্দল

পদবঞ্চিতদের ওপর মধ্যরাতে হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পদবঞ্চিতদের ওপর মধ্যরাতে হামলা

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া ‘বিতর্কিতদের’ তালিকা সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে দিতে গিয়ে আবার হামলার শিকার হয়েছেন পদবঞ্চিতরা। গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ছাড়া কয়েকজন নেত্রীকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হামলার প্রতিবাদে রাতভর বিক্ষোভের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেছেন পদবঞ্চিত নেতারা। ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো আশ্বাস না পেলে তাঁরা অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে পদবঞ্চিত এক নেত্রীকে উপমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে অপহরণের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২০১৮ সালে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও দুই বছর মেয়াদি ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা করা হয় চলতি মাসের ১৩ মে। ছাত্রলীগে সক্রিয় থাকলেও একটি অংশকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিতর্কিত, বয়সোত্তীর্ণ ও খুনে অভিযুক্তদের কমিটিতে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগ তোলেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। তাঁরা ওই দিন বিকেলে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে হামলার শিকার হন।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তদন্ত সাপেক্ষে ‘বিতর্কিতদের’ বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। কিন্তু সে ঘোষণার কার্যত কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ‘বিতর্কিতদের’ বাদ দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শনিবার মধ্যরাতে টিএসসিতে একটি তালিকা দিতে যান পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাঁরা সেখানে যান। সবাই মিলে সাহির করবেন বলেও ঠিক হয়। রাত ১২টা থেকে অপেক্ষা করছিলেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। রাত সোয়া ২টার দিকে আসেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাক্ষাতের একপর্যায়ে রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও  ডাকসুর ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বি এম লিপি আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। দুজনই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে গোলাম রাব্বানী লিপি আক্তারকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ তাঁদের।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ডাকসুতে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) লিপিকে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে কথোপকথনে অন্যরা (ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ) লিপিকে ‘ভাইরাস’ হিসেবে বিবেচনা করেন—এমন কথা উল্লেখ করেন গোলাম রাব্বানী। এই শব্দটি ঘিরে লিপি উত্তেজিত হয়ে চিৎকার, চেঁচামেচি ও গালাগাল শুরু করেন। রাব্বানী তাঁকে মারতে উদ্যত হন। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ালে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা রাব্বানী ও শোভনের অনুসারীরা পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপপ্রচার সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহর অবস্থা গুরুতর। তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক উপঅর্থবিষয়ক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদারসহ কয়েকজন নেত্রীকে লাঞ্ছিত করা হয়।

তবে গোলাম রাব্বানীর দাবি, তিনি বা অন্য কেউ কাউকে মারধর করেননি। উত্তেজনাপূর্ণ কথা হয়েছিল উভয় পক্ষের মধ্যে। তিনি ও কেন্দ্রীয় সভাপতি উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেছেন।

হামলার পর পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা টিএসসি থেকে সরে গিয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন। পরে গোলাম রাব্বানী তাঁদের কাছে যান এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। গতকাল রবিবারও তাঁদের অনশন চলছিল।

অনশনের বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সাঈফ মোহাম্মদ বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা তাঁদের কাছে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু নেতা হয়ে আমাদের গায়ে হাত তুলেছেন তাঁরা। আমরা এ রকম নেতা চাই না। আমরা নেতার কাছে নিরাপদ নই। আমরা মাননীয় নেত্রীর কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই। নেত্রীর আশ্বাস ছাড়া আমরণ অনশন চালিয়ে যাব।’

পদবঞ্চিত ছাত্রলীগ নেত্রীকে অপহরণচেষ্টার অভিযোগ : গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশা। তিনি অভিযোগ করেছেন, উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নাম ব্যবহার করে তাঁকে হাতিরপুলের একটি বাসা থেকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেত্রী রিমা জড়িত। তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান দিশা। তিনি বলেন, শাহবাগ থানায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

দিশা বলেন, শনিবার দুপুর ১টার দিকে রিমা তাঁকে ফোন করে জানান যে উপমন্ত্রী নওফেল তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর উপমন্ত্রী পরিচয় দিয়ে একজন ফোন করে বলেন, ‘তোমার ওপর হামলার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তোমাকে নিয়ে পিএমের কাছে যাব।’ দিশা বলেন, উপমন্ত্রী পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি তাঁকে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য বলেন। তিনি তাঁর পরিচিত দু-একজনকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় রিমা তাঁর বাসায় যান। তখন উপমন্ত্রী পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি আবার তাঁকে ফোন করেন। দিশা বলেন, নম্বরটি ভুয়া বলে জানালে ওই ব্যক্তি তাঁকে ভয়ভীতি দেখান। ওই সময় তিনি রিমাকে আটকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

 

মন্তব্য