kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি

পাচারকারীচক্রের তিনজন ঢাকায় গ্রেপ্তার

জড়িত দেশের ১০-১৫টি চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাচারকারীচক্রের তিনজন ঢাকায় গ্রেপ্তার

অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে ৩৯ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় মানবপাচারচক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর আব্দুল্লাপুর, খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো শরীয়তপুরের আক্কাস মাতুব্বর, সিলেটের এনামুল হক তালুকদার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া। এদের মধ্যে এনামুল হক ও রাজ্জাক আন্তর্জাতিক দালালচক্রের সদস্য। আক্কাস দেশে তাদের সহযোগিতা করত। সিলেটের জিন্দাবাজারে ইয়াহিয়া ওভারসিজ নামে এদের একটি ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে। ভূমধ্যসাগরের ঘটনার পর থেকে এরা পালিয়ে ঢাকায় ছিল। সেই সঙ্গে তারা বিদেশে পালানোর সুযোগ খুঁজছিল।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে কারওয়ানবাজার অফিসে এ বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারীচক্রের সদস্য। মানবপাচারকারীদের কৌশল সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, এরা বিদেশ গমনেচ্ছুকদের এক একজনের কাছ থেকে সাত থেকে আট লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাতে। এর মধ্যে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা লিবিয়া যাওয়ার আগেই দিতে হয় তাদের। লিবিয়া যাওয়ার পর বাকি টাকা স্বজনদের কাছ থেকে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে মানবপাচারকারীচক্রটি একাধিক রুট ব্যবহার করে থাকে। তারা বাংলাদেশ থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুল হয়ে লিবিয়া, বাংলাদেশ থেকে ভারত, শ্রীলঙ্কা হয়ে ট্রানজিট ব্যবহার করে ইস্তাম্বুল হয়ে লিবিয়া এবং বাংলাদেশ থেকে দুবাই ও জর্ডান হয়ে লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে ইউরোপে লোক পাঠায় বলে জানা গেছে। ত্রিপোলিতে কথিত ‘গুডলাক ভাই’ তাদের দায়িত্ব নেয়। সেখানে তাদের কয়েক দিন থাকার ব্যবস্থা করা হয়। ওই সময় দেশে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় চুক্তির বাকি টাকা।

র‌্যাব জানায়, বর্তমানে দেশে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি চক্র মানবপাচারে জড়িত। পাঁচ থেকে ছয়টি চক্রের মাধ্যমে পাচার হওয়া বাংলাদেশিরা সেদিন নৌ-দুর্ঘটনায় পতিত হন বলে জানা গেছে।

গত ৯ মে লিবিয়ার জুয়ারা থেকে অবৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার পথে তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে ৮৫ থেকে ৯০ জন নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে ৩৯ জনই ছিল বাংলাদেশি।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় ২০ জনকে আসামি করে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ দমন আইনে মামলা করেন ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে নিহত আব্দুল আজিজের ভাই মফিজ উদ্দিন। এজাহারে সিলেটের রাজা ম্যানশনের নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজের মালিক গোলাপগঞ্জ উপজেলার পনাইরচক গ্রামের এনামুল হক, একই উপজেলার হাওরতলা গ্রামের ইলিয়াস মিয়ার ছেলে জায়েদ আহমেদ, ঢাকার রাজ্জাক হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মঞ্জুর ইসলাম ওরফে গুডলাক ও তাদের ১০-১৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিরা নিহত হওয়ার আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে এ বছরের ১০ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে লিবিয়ায় আটকে রেখে তাদের মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বাবদে দেশে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

 

মন্তব্য