kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

সবিশেষ

আয়তনে ফ্রান্সের তিন গুণ প্লাস্টিক সমুদ্রে!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আয়তনে ফ্রান্সের তিন গুণ প্লাস্টিক সমুদ্রে!

একুশ শতকে এসে মানবসমাজের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্লাস্টিক। হাজার চেষ্টা করেও বন্ধ করা যাচ্ছে না এ মারণ জিনিসের ব্যবহার। এর ব্যবহার এতটাই মাত্রা ছাড়া যে আয়তনে ফ্রান্সের তিন গুণ প্লাস্টিকের স্তূপ জমা হয়েছে সমুদ্রে।

গবেষণা বলছে, প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক জমা হয় বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রে। নদীর পানির সঙ্গে ভেসে আসে এসব প্লাস্টিক। সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক জমা হয়েছে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ ও ক্যালিফোর্নিয়ার মাঝের বিস্তৃত অংশে। এ প্লাস্টিকের স্তূপের নামই বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন ‘গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচ’, যা আয়তনে টেক্সাসের দ্বিগুণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বৃহত্তম শহরের মধ্যে অন্যতম হলো টেক্সাস। তবে এখানেই শেষ নয়। ফ্রান্সের তুলনায় এই গারবেজ প্যাচ আয়তনে তিন গুণ বড়। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে আঁতকে উঠছে বিশ্ববাসী।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর নদী থেকে সাগরে এসে জমা হয় ১ দশমিক ১৫ থেকে ২ দশমিক ৪১ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক পরিমাণ প্লাস্টিকের ঘনত্ব পানির তুলনায় বেশি। ফলে সমুদ্রের বুকে জমা হলেও তা ডোবে না। প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচের ওপর যত প্লাস্টিক ভেসে থাকে, তার পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন। ওজনে এই বর্জ্য প্রায় ৮০ হাজার টন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ওজন প্রায় ৫০০টি জাম্বো জেটের সমান। আর দিন দিন এই নন-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিকের পরিমাণ প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচে বেড়েই চলেছে।

সামুদ্রিকজীবনেও এর প্রভাব মারাত্মক। বিভিন্ন জলজ প্রাণী এবং মাছেরা হামেশাই এসব প্লাস্টিককে নিজেদের খাবার ভেবে ভুল করে। আর দিনের পর দিন খাবার ভেবে প্লাস্টিক খাওয়ার ফলে কার্যত মড়ক লাগে জলজীবনে। কারণ জমা জঞ্জালের মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ আবর্জনাই থাকে মারাত্মক বিষাক্ত। আর এই বিষ শরীরে প্রবেশ করলে মৃত্যু অবধারিত। ফলে বেঘোরে মারা যায় বহু মাছ এবং সামুদ্রিক প্রাণী। এমনকি এই প্লাস্টিকের দৌলতেই বিলুপ্তির পথেও পৌঁছে যায় সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের বেশ কিছু প্রাণী। সূত্র : দ্য ওয়াল।

 

মন্তব্য