kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

শূন্যতা সৃষ্টি হবে এরশাদের অবর্তমানে

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শূন্যতা সৃষ্টি হবে এরশাদের অবর্তমানে

আবার জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের ওরফে জি এম কাদের। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান এরশাদের মতিগতির অনিশ্চয়তা সম্পর্কে যদিও দেশবাসী অবগত, তবু তাঁর  এখনকার বয়স ও স্বাস্থ্য বিবেচনায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছে, নিজের অবর্তমানে ভবিষ্যৎ জাতীয় পার্টির কাণ্ডারি হিসেবে আপন ছোট ভাই জি এম কাদেরকেই শেষ পর্যন্ত বেছে নিয়েছেন এরশাদ। দলটির বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ বিষয়ে জি এম কাদের সম্প্রতি কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক লায়েকুজ্জামান

 

কালের কণ্ঠ : এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে বলে আপনি কী মনে করেন?

জি এম কাদের : এরশাদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রকাণ্ড এক বটগাছের মতো। তিনি টানা ৯ বছর দেশ শাসন করেছেন। তাঁর আমলেই দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্ননের সূচনা হয়, আজকের উপজেলা পদ্ধতি তিনি চালু করেছিলেন। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তিনিই প্রথম বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এখনো গ্রামের মানুষের কাছে এরশাদ এক জনপ্রিয় নাম। ক্ষমতা ছাড়ার পরও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। রাজনীতির অনেক শূন্যতা তিনি পূরণ করেছেন। জাতীয় পার্টি তাঁর সুশীতল ছায়ায় টিকে আছে নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে। এটা বলা যায়, এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টিতে এক ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি হবে, জাতীয় রাজনীতিতেও সেটা হবে। জাতীয় পার্টিতে এরশাদের শূন্যতা আমাকে বা এককভাবে অন্য কাউকে দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

 

কালের কণ্ঠ : সংগঠনে নতুন মুখ না আসায় একসময় মুসলিম লীগ মুখ থুবড়ে পড়েছে, জাতীয় পার্টিতেও নতুন মুখের আনাগোনা কম—আপনি কী মনে করেন?

জি এম কাদের : এটা ঠিক, জাতীয় পার্টিতে তুলনামূলকভাবে নতুন মুখের আগমন কম। আমরা এটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। বাস্তবতা হলো জাতীয় পার্টিতে নেতাকর্মীদের আগমন ঘটে এরশাদ যখন ক্ষমতায় ছিলেন, এরপরও এসেছে তবে সংখ্যায় কম। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় পার্টি ক্ষমতার বাইরে, দলের চেয়ারম্যানকে অযথা-অযৌক্তিক কারাগারে নেওয়া হয়েছে, পার্টির নামে নানা বদনাম রটানো হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়টায় পার্টিতে নতুন মুখ তেমন আসেনি। তবে দীর্ঘ সময়টা আমরা ভালোভাবেই পাড়ি দিয়েছি, টিকে আছি। রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি ডিসাইডিং ফ্যাক্টর হিসেবেই আছে। এখন সময় বদলেছে, মানুষও পরখ করে দেখেছে জাপা ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে টিকে আছে। নতুন প্রজন্মও এটা দেখছে। আমরা ছাত্র-যুব সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছি। নতুন প্রজন্মের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পার্টিতে নতুন করে কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : বিএনপির সংসদে যোগদানকে কিভাবে দেখছেন?

জি এম কাদের : গণতন্ত্রের জন্য এটা ইতিবাচক দিক। শুভ খবর। তাদেরকে স্বাগত জানাই। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম সংসদে থাকলে আরো ভালো হতো। শুনছি, কৌশলগত কারণে তিনি শপথ নেননি। তাঁদের এ কৌশলটার বিষয়ে পরিষ্কার হতে পারছি না।

 

কালের কণ্ঠ : ২০ দলীয় জোট ভেঙে যাচ্ছে, এটাকে কোন দৃষ্টিতে দেখেন?

জি এম কাদের : কোনো রাজনৈতিক দল ভাঙা বা জোট ভাঙা গোটা রাজনীতির জন্য শুভ লক্ষণ মনে করি না। হয়তো বাস্তব কারণেই ২০ দলীয় জোট ভাঙছে। এখানে নেতৃত্ব একটা বড় বিষয়। বিএনপিই ২০ দলের নেতৃত্ব দিয়েছে। এখন বিএনপির চেয়ারম্যান কারাগারে এবং দলের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রবাসে। নেতৃত্বের একটি সংকট চলছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা যেমন হতাশ, তেমনি ২০ দলের শরিকরাও হতাশ। এ ছাড়া বিগত নির্বাচনের সময় ২০ দলের শরিকদের আসলে তেমন মূল্যায়ন করা হয়নি।

 

কালের কণ্ঠ : বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সমর্থনের ভিত্তি তো একই, সেই অ্যান্টি আওয়ামী লীগ ধারা। তাহলে কি এ দুটি ধারা ভবিষ্যতে এক ধারায় আসতে পারে মনে করেন?

জি এম কাদের : এটা ঠিক, বিএনপি ও জাপার সমর্থনের ভিত্তি অনেকটাই কাছাকাছি। যারা কোনোভাবেই আওয়ামী ধারায় শামিল হয় না, তারা এ দুটি দলের একটিকে বেছে নেয়। এখন আমি মনে করি, জাতীয় পার্টি ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারায় তার সঠিক অবস্থান তুলে ধরে ভালোভাবে টিকে আছে। বিএনপি সেটা পেরেছে কি ভুল করেছে, জনগণ কিন্তু তা দেখছে। বলতে পারি, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে জাপা সঠিক নেতৃত্বে এগোতে পারলে ভবিষ্যতে জাপার ধারা মূল স্রোতে পরিণত হতে পারে।

 

কালের কণ্ঠ : জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরে নানা গ্রুপিং। একটি গ্রুপ আপনাকে মেনে নিতে পারছে না? কী বলেন?

জি এম কাদের : প্রকাশ্যে কেউ বলেনি, আমরা এরশাদের সিদ্ধান্ত মানি না বা জি এম কাদেরকে মানি না। কেউ কিন্তু বলেনি। এখন কেউ যদি প্রকাশ্যে কিছু না বলে, তাহলে কিভাবে বুঝব যে জাপায় গ্রপিং আছে! এরপরও ধরি হয়তো আছে, সেটা গোপনে। এখন গোপনে অনেকে অনেক কিছু করতে পারে। জাতীয় পার্টির সবাই আমাকে পছন্দ করবে, এমনটা নাও হতে পারে। আমি বলব জাপায় কোনো গ্রুপিং নেই, বড় সংগঠন বলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে। এটা সব দলেই থাকে।

 

কালের কণ্ঠ : আবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন, কেমন লাগছে?

জি এম কাদের : আসলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় পার্টিকে আগামী দিনের জন্য সংগঠিত করাই মূল কাজ। এটা করতে পারলে পার্টির নেতাকর্মীরা উপকৃত হবে, দেশের কল্যাণেও কাজ করা যাবে। এখানে নেতৃত্ব পাওয়ার ভালো লাগা যেমন আছে, তেমনি দায়িত্ব পালনের দায়ও আছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা