kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

সমন্বয়হীনতার বঞ্চনা থেকে ক্ষোভ

রফিকুল ইসলাম ও হাসান মেহেদী   

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সমন্বয়হীনতার বঞ্চনা থেকে ক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। আগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বয়স, যোগ্যতা ও ক্লিন ইমেজ সব শর্ত পূরণ করেও শোভন-রাব্বানী কমিটিতে স্থান হয়নি তাঁর।

মেহেদী হাসান সানি। বর্তমানে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। হল শাখা কমিটিতে নেতৃত্ব দিলেও এবার তাঁর কপালে জোটেনি কোনো পদ। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বেই শোভন তাঁকে কমিটিতে রাখেননি এমন অভিযোগ সানির অনুসারীদের। শোভন সভাপতি হওয়ার আগে সানি হলের নেতা নির্বাচিত হন। তখন সিট নিয়ে শোভনের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিব হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন রিফাত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেলকে জেতাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ও বিদ্রোহ দমাতে সক্রিয় ছিলেন তাঁরা। কিন্তু ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোনো পদ পাননি।

মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরের সেকশন কমান্ডার মৃত মানিক উদ্দিনের সন্তান শাকিল আহমেদ তানভীর। বিভাগে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি খেলাধুলায় বিশেষ পারদর্শী তানভীর বর্তমানে ডাকসু ক্রীড়া সম্পাদক। গত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপসম্পাদকও ছিলেন। কিন্তু এবারের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাঁর স্থান হয়নি।

এমন উদাহরণ দু-একটি নয়। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখা কমিটিতে পদ ছিল এমন শতাধিক পদপত্যাশীকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। হল শাখা ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দেওয়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদেরও স্থান হয়নি কেন্দ্রীয় কমিটিতে। যাঁরা ছাত্রলীগে পুরোদমে সক্রিয় ছিলেন, রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন, এ জন্য চাকরির পরীক্ষায়ও বসেননি। তাঁদেরও স্থান হয়নি কেন্দ্রীয় কমিটিতে। ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়া পদবঞ্চিতরা বাধ্য হয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন।

অথচ সক্রিয় ছিলেন না, মাইম্যান বা নিজের লোক বিবেচনায় ছাত্রলীগে এমন অনেককে পদ দেওয়া হয়েছে। মাদকাসক্ত, বিবাহিত, বয়স উত্তীর্ণ ও বিতর্কিতদের কমিটিতে পদায়ন করে যোগ্যদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলছে ছাত্রলীগের একটি অংশ।

সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শ নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা ছাত্রলীগের রীতি। কিন্তু বর্তমান নেতৃবৃন্দ সাবেকদের পরামর্শ না নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কয়েক দফা বৈঠকের পর সমন্বয় ছাড়াই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সদ্য সাবেক নেতাদের পাশ কাটিয়ে বর্তমান সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী রাজনীতিতে সক্রিয় এমন অনেককে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করেছেন। বিশেষ করে সোহাগ-জাকিরের অনুসারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির সহসভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, সম্পাদক ও সহসম্পাদকদেরও কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ দেওয়া হয়নি।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছাত্রলীগে যাঁরা সক্রিয় ছিলেন তাঁদেরকেই কমিটিকে রাখা হয়েছে। আগের কমিটির নেতাদের মধ্য থেকে ১৭৪ জনকে পদ দেওয়া হয়েছে। তার পরও যারা বাদ পড়েছে তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কমিটি পুনর্গঠনের সময় তাদের পদ দেওয়া হবে।

বিতর্কিত কমিটি ভাঙতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙে দিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুন্দর কমিটি করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। একই সঙ্গে গত সোমবার সন্ধ্যায় পদবঞ্চিতদের ওপর হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি না মানলে গণঅনশনের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সাঈফ উদ্দীন বাবু লিখিত বক্তব্যে এ আলটিমেটাম দেন।

পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা