kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

বিএসটিআই-নিরাপদ খাদ্যের ২ কর্তাকে তলব হাইকোর্টে

৫২ পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়া দরকার ছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



৫২ পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়া দরকার ছিল

বাজারে বিভিন্ন নামি-দামি প্রতিষ্ঠানের ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য থাকায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। আদালত এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একজন করে প্রতিনিধিকে তলব করেছেন। উপপরিচালকের নিচে নয়—এমন পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাকে আগামী রবিবার আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় প্রমাণিত হওয়ার পরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভেজাল ও নিম্নমানের ৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং নতুন করে উৎপাদন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে করা রিট আবেদনের ওপর ওই দিন আদেশের জন্য ধার্য করা হয়েছে।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি’র (সিসিএস) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদের করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়।

রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান।

ভেজাল ও নিম্নমানের ৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার না করায় বিএসটিআইয়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দায়দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন  আদালত।

উচ্চ আদালত বলেন, ‘তারা বড় বড় অফিস নিয়ে বসে আছে। তাদের কাজটা কী? তারা দায়িত্ব পালন করতে না পারলে অফিস ছেড়ে দিক।’ আদালত আরো বলেন, ‘বিএসটিআই একটি বিশেষ সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ধরা পড়ল। এরপর শুধু শোকজ করেই তাদের দায়িত্ব শেষ? তাদের ওই সব পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল।’

আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার আইন আছে। আইনে তাদের সব দেখার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কী করছে? তারা কাজ করতে না পারলে অফিস ছেড়ে দিক। আমরা কেন এসব দেখতে যাব।’

উচ্চ আদালত বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে একটি করে জনস্বার্থমূলক বিষয় আমাদের সামনে আসছে।’ এসব বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলেন, ‘আমরা মানুষের অন্য মামলা করব না এগুলো দেখব? এগুলো তো সরকারের কাজ। এগুলো দেখার দায়িত্ব সরকারের। আদালতের কাজ নয়। কিন্তু বিষয়গুলো এত গুরুত্বপূর্ণ যে এগুলো আমাদের সামনে এলে আমরা তো ফেলে দিতে পারি না। এসব দেখে কি আমরা বসে থাকব? তা হয় না।’ আদালত উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘এসব আমরা দেখলে আমাদের সমালোচনা করা হয়।’

আদালত বলেন, রোজা এলেই বিএসটিআই পণ্যের মান পরীক্ষা করে। ভেজালবিরোধী অভিযানে নামে। রোজার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী? তারা (বিএসটিআই) অন্য সময় কী করে? 

বিএসটিআইয়ের চিহ্নিত ৫২টি পণ্যের তালিকা দেখে আদালত বলেন, এসব পণ্য বাজারে আছে কি না তা তাদের (বিএসটিআই) কাছ থেকে জানা দরকার। আদালত বলেন, ‘এখানে রূপচাঁদা, প্রাণ কম্পানির পণ্য দেখছি। যেসব পণ্যের তালিকা দেখছি তাতো ঘরে ঘরে মানুষ সচরাচর ব্যবহার করছে। কোনো কম্পানিই তো বাদ নেই। অনেক বড় বড় কম্পানির পণ্য বিদেশ রপ্তানি হয়। আমাদের গর্বে বুক ভরে যায়। অথচ তাদের পণ্য নিম্নমানের, ভেজাল? এ কি অবস্থা!’  

খাদ্যে ভেজাল রোধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের কথা তুলে ধরে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, এ আইনে খাদ্যে ভেজালের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির (মৃত্যুদণ্ড) বিধান রয়েছে। তার পরও ভেজাল থেমে নেই। কেন ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না?

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের বিষয়ে গত ৩ মে দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘৫২ প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআইয়ের কারণ দর্শানোর নোটিশ, নামিদামি প্রতিষ্ঠানের পণ্যও নিম্নমানের’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একই বিষয়ে এ ছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে গত বুধবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। রিট আবেদন করার আগে খাদ্য ও বাণিজ্যসচিব, বিএসটিআই মহাপরিচালক, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব না পেয়ে রিট আবেদন করা হয়।

গতকাল এই রিট আবেদন শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করে আইনজীবী বলেন, ভয়াবহ অবস্থা। মানুষ অসহায়। এসব পণ্য খেয়ে তো মানুষ মারা যাবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে শিশুদের। যাদের দেখার দায়িত্ব তারা হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে। বিএসটিআই শোকজ করেই চুপ।

বিএসটিআই-নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

হাইকোর্টের পৃথক একটি বেঞ্চ বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ খাদ্যে ভেজাল রোধে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান। আদালত আগামী ২৪ জুন পরবর্তী শুনানি ও আদেশের দিন নির্ধারণ করে এর মধ্যে সরকারি ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিধি, দুটি সংস্থার কাজের সমন্বয় কিভাবে হয় তা এবং তাদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেন।

মন্তব্য