kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

খালেদার ব্রিটেন যাওয়ার প্রশ্নে মুখে কুলুপ ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিবের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খালেদার ব্রিটেন যাওয়ার প্রশ্নে মুখে কুলুপ ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিবের

ফাইল ছবি

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিবের কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘প্যারোল’ নিয়ে ব্রিটেনে যাচ্ছেন বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার কি ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনো কথাবার্তা বলছে?

জবাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব স্যার সায়মন ম্যাকডোনাল্ড শুধু বললেন, তিনি এ ব্যাপারে কোনো উত্তর দেবেন না। বন্দি প্রত্যর্পণ/বহিঃসমর্পণ চুক্তির সম্ভাবনার বিষয়ে প্রশ্ন করতে গেলে স্যার ম্যাকডোনাল্ড উত্তর দেন, তিনি  হাই-প্রফাইল কারো ব্যাপারে কিছু বলবেন না।

এরপর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিশ্বে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটেও ব্রিটেন বাংলাদেশের সঙ্গে বন্দি প্রত্যর্পণ/বহিঃসমর্পণ চুক্তি করবে কি? এ প্রশ্নও তিনি এড়িয়ে যান।

ব্রিটেনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার। এ জন্য ব্রিটেনের সঙ্গে বন্দি প্রত্যর্পণ/বহিঃসমর্পণ চুক্তির ব্যাপারেও আগ্রহী বাংলাদেশ। গত বছর লন্ডনে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিতীয় স্ট্র্যাটেজিক সংলাপেও বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে তারেককে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের অনুরোধ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড গত ৭ এপ্রিল ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এ ধরনের বিষয়ে ব্রিটিশ আদালতে সিদ্ধান্ত হয়। ব্রিটিশ রাজনীতিকদের এখানে করণীয় নেই।

মার্ক ফিল্ডের সফরের প্রায় দুই সপ্তাহ পর পূর্বনির্ধারিত বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য তৃতীয় স্ট্র্যাটেজিক সংলাপে অংশ নিতে গতকাল মঙ্গলবারই ঢাকায় এসেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের ডিপ্লোমেটিক সার্ভিসের প্রধান ও পার্মানেন্ট আন্ডারসেক্রেটারি (পররাষ্ট্রসচিব) স্যার সায়মন ম্যাকডোনাল্ড। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে কালের কণ্ঠসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।

সম্প্রতি ঢাকার একটি আদালত লন্ডনের ব্যাংকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের তিনটি অ্যাকাউন্ট জব্দ করার উদ্যোগ নেওয়ার যে আদেশ দিয়েছেন তারই আলোকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিবের কাছে প্রশ্ন ছিল, বাইরের কেউ কি ব্রিটিশ ব্যাংকিং হিসাব জব্দ করতে পারে? জবাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ব্রিটিশ ব্যাংকগুলোর ওপর বাইরের কারো এখতিয়ার নেই। অর্থাৎ বাইরের (অন্য দেশের) কারো কথা তারা শুনবে না।

পররাষ্ট্রসচিব স্যার সায়মন ম্যাকডোনাল্ডের এটি হচ্ছে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফর। দুই বছর আগে প্রথম স্ট্র্যাটেজিক সংলাপে অংশ নিতে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। ব্রিটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের জোরালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সংলাপের কাঠামোর মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক সংলাপ নামে কাঠামো কেন তৈরি করতে হলো জানতে চাইলে সায়মন বলেন, এটি বিশেষ সম্পর্কের প্রতিফলন। বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের আলোচনা হয় না এমন কিছু নেই। ব্রিটেনের হয়ে বিশ্বের মাত্র তিনটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের স্ট্র্যাটেজিক সংলাপে নেতৃত্ব দেন তিনি। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশ দুটি হচ্ছে কানাডা ও ইসরায়েল।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আজ বুধবার তিনি যখন সংলাপে বসবেন তখন তাঁর সঙ্গে বড় একটি প্রতিনিধিদল থাকবে।

এবারের বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা নিয়ে এসেছেন জানতে চাইলে স্যার সায়মন বলেন, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটেন আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায়। ইইউয়ের সদস্য থাকার কারণে ইউনিয়নের কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের বাণিজ্য সম্পর্ক চলছে। ব্রেক্সিটের পরও বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের জোরালো বাণিজ্য সম্পর্ক থাকবে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সুযোগ আছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এ বছরের শুরুতে মিয়ানমারে গিয়ে বৈঠকের সময় তিনি বুঝতে পেরেছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশার বিষয়ে মিয়ানমার পুরোপুরি অবগত। জাতিসংঘে এই সংকট নিয়ে ব্রিটেন কাজ করছে। তবে শিগগিরই এই সংকট সমাধান হবে বলে মনে করেন না তিনি।

মন্তব্য