kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

ভারতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ

ষড়যন্ত্র, বললেন গগৈ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




ভারতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ

ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর বিরুদ্ধে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক কর্মকর্তা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী এক হলফনামায় গত বছর অক্টোবর মাসে ঘটা দুটি অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন। ঘটনার কিছুদিন আগেই গগৈ ভারতের প্রধান বিচারপতি পদে নিযুক্ত হন।

তবে প্রধান বিচারপতি গগৈ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের ‘বিচারব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বিনষ্ট’ করার জন্যই এই অভিযোগ আনা হয়েছে।

যৌন নির্যাতনের ওপর ওই নারীর হলফনামাটি সুপ্রিম কোর্টের ২২ জন বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। ভারতের আইন অনুযায়ী অভিযোগকারী নারীর পরিচয় প্রকাশ করা যায় না।

হলফনামায় ওই বিবাহিত নারী বলছেন, ২০১৮ সালের ১০ ও ১১ অক্টোবর তাঁকে নিজ বাড়ির অফিস কক্ষে ডেকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন রঞ্জন গগৈ। এতে তিনি লিখেছেন, ‘তিনি (গগৈ) আমার কোমর জড়িয়ে ধরে সারা শরীর স্পর্শ করছিলেন। আমি নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করলেও তিনি আমাকে জোর করে ধরে রেখেছিলেন।’ ওই নারী তখন দুই হাত দিয়ে তাঁকে ধাক্কা মেরে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন বলে জানান। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তোলা তাঁর এই অভিযোগ প্রকাশিত হয় স্ক্রোল, দ্য ওয়্যার, লিফলেট এবং দ্য ক্যারাভান পত্রিকায়।

ওই নারী আরো জানান, এরপর তাঁকে তিনবার বদলি করা হয় এবং গত ডিসেম্বর মাসে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। মহিলার স্বামী ও ভাইকেও তাঁদের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে হলফনামায় বলা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি গগৈ যা বলছেন : দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার এই বেনজির অভিযোগ সামনে আসার পর গগৈয়ের তরফ থেকে প্রথম জবাব আসে সুপ্রিম কোর্টের মহাসচিবের মাধ্যমে। এতে বলা হয় ‘অভিযোগগুলো সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা এবং কুৎসিত’। এতে আরো বলা হয়, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যোগাযোগের কোনো সুযোগ ওই নারীর ছিল না। এরপর গতকাল শনিবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির ডাক দেয় সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ। সেই বেঞ্চের প্রধান হিসেবে রঞ্জন গগৈ শুনানির সময় বলেন, ‘এই অভিযোগ অবিশ্বাস্য। এই অভিযোগ অস্বীকার করতে গেলেও যতটা নিচে নামতে হয়, তার জন্য আমি প্রস্তুত নই। আমি সুপ্রিম কোর্টের সব কর্মচারীর প্রতি সমান শ্রদ্ধা বজায় রাখি।’ যদিও এই মামলায় তিনি কোনো রায় দেবেন না, প্রবীণতম বিচারপতি অরুণ মিশ্রই এই মামলায় রায় দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

এই অভিযোগের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র আছে বলেও দাবি করেন রঞ্জন গগৈ। তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই এসব অভিযোগের পেছনে কোনো একটি শক্তি কাজ করছে, যারা প্রধান বিচারপতির অফিসকেই নিষ্ক্রিয় করে দিতে চাইছে।’ তাঁর বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই, সেই কারণেই এই রাস্তা বেছে নেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘২০ বছর ধরে চাকরি করার পর আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আছে ছয় লাখ ৮০ হাজার টাকা। আমার পিয়নের কাছেও এর থেকে বেশি টাকা আছে। ২০ বছর ধরে চাকরি করার পর এটা কি প্রাপ্য ছিল আমার?’

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, যে নারী তাঁর বিরুদ্ধে এই মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন, তাঁর সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন অপরাধের যোগ আছে। ওই নারীর বিরুদ্ধে দুটি পুলিশ কেসও আছে বলে জানান তিনি। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটাও শুনানির সময় বলেছেন, এই অভিযোগ প্রধান বিচারপতিকে ব্ল্যাকমেইল করার কোনো কৌশল হতে পারে।

যদিও এই মুহূর্তে এই মামলায় কোনো রায় দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টিতে সংবাদমাধ্যমকে সংযত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে অনুরোধ করেছেন তাঁরা। বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেছেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ এলে বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নড়ে যেতে পারে।’ এই মামলার রায় ভবিষ্যতে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সূত্র : বিবিসি, আনন্দবাজার পত্রিকা।

 

 

মন্তব্য