kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

বিশেষজ্ঞ মত

গরম থেকে বাঁচতে যা করতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গরম থেকে বাঁচতে যা করতে হবে

বৈশাখ মাস শুরু হতে না হতেই গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। একটু শীতল হতে গাছতলায় শুয়ে জিরিয়ে নেওয়ার এই দৃশ্য গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ছবি : স্টার মেইল

বৈশাখ মাস শুরু হতে না হতেই বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। গরমের আগ্রাসন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে কী করতে হবে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসক ডা. বেনজীর আহমেদ বলছেন, গরমের সময় শুধু সতর্ক থেকে অনেক বিপদ এড়ানো যেতে পারে। তাঁর পরামর্শগুলো হলো—

সূর্যের আলো এড়িয়ে চলা : দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রোদের তীব্রতা বেশি থাকে। এ সময় জরুরি কাজ না থাকলে বাইরে বের না হওয়াই ভালো।

ছাতা ব্যবহার : বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করা, যাতে সরাসরি রোদের মধ্যে থাকতে না হয়। এ সময় চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপও ব্যবহার করা যেতে পারে। যারা মাঠেঘাটে কাজ করে, তারা মাথায় ‘মাথাল’ জাতীয় টুপি

ব্যবহার করতে পারবে, যা তাদের রোদ থেকে রক্ষা করবে।

বেশি করে পানি পান করা : গরমে ঘাম হয়ে শরীর থেকে প্রচুর পরিষ্কার পানি বের হয়ে যায়, তখন ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালান্স তৈরি হতে পারে। এ কারণে এই সময় প্রচুর পানি পান করতে হবে। লবণ মিশিয়ে পানি পান করতে পারলে আরো ভালো। ফলের জুস খাওয়া শরীরের জন্য ভালো, তবে এজাতীয় জুস খাওয়ার সময় দেখে নিতে হবে সেটি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত পানি দিয়ে তৈরি কি না। খোলা, পথের পাশের দূষিত পানি বা শরবত এড়িয়ে চলতে হবে।

সুতি কাপড় পরতে হবে : গরমের এই সময় জিন্স বা মোটা কাপড় না পরে সুতির নরম কাপড় ব্যবহার করতে হবে। এ ধরনের কাপড়ের অতিরিক্ত ঘাম হবে না এবং শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করবে। গরমের সময় কালো বা গাঢ় রঙের কাপড় এড়িয়ে সাদা বা হালকা রঙের কাপড় পরিধান করা ভালো। কারণ হালকা কাপড় তাপ শোষণ করে কম।

সঠিক জুতা নির্বাচন : গরমের সময় খোলামেলা জুতা পরা উচিত, যাতে পায়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। কাপড় বা সিনথেটিক বাদ দিয়ে চামড়ার জুতা হলে ভালো। কারণ এতে গরম কম লাগে। সম্ভব হলে মোজা এড়িয়ে চলা যেতে পারে।

ভারী ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন : এজাতীয় খাবার হজম করতে সময় বেশি লাগে। ফলে সেটি শরীরের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে এবং শরীরের উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সেটি আরো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। খাবারের মেন্যু থেকে গরমের সময় তেলযুক্ত খাবার, মাংস, বিরিয়ানি, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি বাদ দেওয়া যেতে পারে। বরং শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খাওয়া যেতে পারে।

পুরনো বা বাসি খাবার না খাওয়া : গরমে খাবারদাবার তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাসি খাবার বা আগের দিন রান্না করা খাবার খাওয়ার আগে দেখে নিতে হবে যে সেটি নষ্ট কি না। এজাতীয় খাবার খেলে ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানাসহ পেটের অসুখ হতে পারে।

ঘরে পানিভর্তি বালতি রাখা : এসি না থাকলেও সমস্যা নেই। ঘরের ভেতর ফ্যানের নিচে একটি পানিভর্তি বালতি রাখুন, যা ঘরকে খানিকটা ঠাণ্ডা করে তুলবে।

হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা : প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে। ফলে মাংসপেশি ব্যথা, দুর্বল লাগা ও প্রচণ্ড পিপাসা হওয়া, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, বমিভাব ইত্যাদি লক্ষণ দেখা গেলে প্রেশার পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রতিদিন অবশ্যই গোসল করা : গরমের সময় প্রতিদিন অবশ্যই গোসল করতে হবে, যা শরীর ঠাণ্ডা রাখবে। দিনে একাধিকবার হাত, মুখ, পায়ে পানি দিয়ে ধুতে পারলে ভালো। বাইরে বের হলে একটি রুমাল ভিজিয়ে সঙ্গে রাখতে হবে, যা দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর মুখ মুছে নেওয়া যাবে। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য