kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

সবিশেষ

সৌরঝড়ের পূর্বাভাস দিতে নতুন উদ্যোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌরঝড়ের পূর্বাভাস দিতে নতুন উদ্যোগ

সূর্যই আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র। মহাজাগতিক এই বস্তুর মধ্যে তুমুল আলোড়ন চলে। গোটা মানবজাতি সারা বছর যত পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে, সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সূর্যের মধ্যে একই পরিমাণ জ্বালানি সৃষ্টি হয়। আকার-আয়তনের তুলনায় সূর্যের কাছে পৃথিবী অত্যন্ত ক্ষুদ্র। সূর্য থেকে বৈদ্যুতিক কণায় ভরা মেঘ বারবার মহাকাশে বেরিয়ে আসে। তার থাবা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এমন সৌরঝড়ের কবলে পড়ে স্যাটেলাইটের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। এ সৌরঝড় সম্পর্কে আরো জানতে ও সময়মতো তার পূর্বাভাস দিতে উদ্যোগ নিচ্ছেন জার্মানির বিজ্ঞানীরা।

সৌরঝড়ের কারণে ১৯৮৯ সালে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে সৌর পদার্থবিজ্ঞানী ড. আলেক্সান্ডার ভারমুট বলেন, ‘সেই সময়ে কানাডার কুইবেক প্রদেশে ট্রান্সফরমার গলে যাওয়ায় গোটা বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক বিকল হয়ে পড়েছিল। ফলে শীতকালের চরম আবহাওয়ার মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ আচমকা বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।’

জার্মানির পটসডাম শহরের পদার্থবিদরা সংবেদনশীল প্রযুক্তির সুরক্ষার লক্ষ্যে সৌরঝড় সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে চান। সেই লক্ষ্যে তাঁদের আরো ভালোভাবে সূর্য পরীক্ষা করতে হবে। এরই মধ্যে একাধিক স্যাটেলাইট সূর্য ও তার ঝোড়ো বায়ুমণ্ডলের অতি সূক্ষ্ম ছবি সরবরাহ করেছে।

লাইবনিৎস ইনস্টিটিউটের সৌর পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান ড. গটফ্রিড মান বলেন, ‘এমন ছবি সত্যি খুব বিস্ময়কর। এটাই সৌর পদার্থবিদ্যার বৈশিষ্ট্য। যে সহকর্মীরা নক্ষত্র বা ছায়াপথের পদার্থবিদ্যা নিয়ে চর্চা করেন, তাঁরা এত কাছ থেকে প্রক্রিয়াগুলো দেখতে পারেন না, যেমনটা সূর্যের ক্ষেত্রে সম্ভব। তা ছাড়া তাঁদের কাছে সময়ের মানদণ্ডও অন্য রকম।’

সোলার অর্বিটার মহাকাশযানের মাধ্যমে গবেষকরা এই প্রথম সৌরঝড়ের উৎপত্তি পর্যবেক্ষণ করতে চান। তার জন্য এই স্যাটেলাইটকে সূর্যের কাছে গিয়ে ১০ দিন ধরে একই অংশের দিকে নজর রাখতে হবে। এ স্যাটেলাইটের জন্য পটসডাম শহরের পদার্থবিদরা গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র সৃষ্টির কাজে অংশ নিয়েছেন এবং আইনস্টাইন টাওয়ারে তা পরীক্ষাও করেছেন। ৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে সৌর গবেষণার কাজ চলছে। এ ঐতিহাসিক ভবনে তাঁরা এখন বিশেষ ধরনের টেলিস্কোপের জন্য জটিল যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করছেন।

২০২০ সালে নতুন এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। গবেষকরা এখন থেকেই এই অভিযান থেকে প্রাপ্য তথ্যের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। কারণ তা থেকে সূর্যের কর্মপ্রণালি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুন জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবে। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা