kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ঘরে বাইরে সাজ সাজ

ফারজানা লাবনী   

৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘরে বাইরে সাজ সাজ

বাংলা বছরকে স্বাগত জানাতে নানা মাত্রায় আয়োজন হয় বরণ উৎসবের। এটি এমনই এক উৎসব যেখানে কোনো ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের ভেদাভেদ থাকে না। সে সুবাদে সর্বজনীন এই আয়োজন পরিণত হয়েছে জাতীয় উৎসবে। দুই ঈদের পর দেশে এখন সবচেয়ে বড় উৎসব এটি।

পহেলা বৈশাখ বরণে ঘরে-বাইরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। বিত্তবান থেকে অল্প আয়ের মানুষ—সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দের কেনাকাটায়ও তাদের ব্যস্ত সময় কাটছে। ফেরিওয়ালার ঝুড়ি থেকে ফুটপাত, শপিং মল—বৈশাখী বিকিকিনিতে জমজমাট সর্বত্র। শহরের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই গ্রাম-গঞ্জও। সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাংলা বছরের প্রথম দিনটি বরণে পোশাক, সাজসজ্জা আর খাদ্যসামগ্রীর বিক্রি চলছে দেদার। দোকানে দোকানে ঘুরে কেনাকাটার পাশাপাশি অনলাইনে বৈশাখের কেনাকাটাও এবারে বেশ ভালোই। শহরের বড় বড় হাউসের হাল ফ্যাশনের পণ্য বিক্রির সঙ্গে পিছিয়ে নেই কুটির শিল্পজাত সামগ্রীর বিকিকিনিও।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও ফুটপাত ঘুরে দেখা যায়, গ্রামবাংলার দৃশ্য পাখি, ফুল, ফল, নদী, বাঙালি ললনার ছবি আঁকা, সুতা দিয়ে নকশা করা রংবেরঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ ও ফতুয়ার চাহিদা বেড়েছে। বাংলা ঐতিহ্য লালন করে এসব পোশাকে আনা হয়েছে নতুন মাত্রা।

ব্র্যান্ডের দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোর পোশাক বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ। এ বিষয়ে দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোর সংগঠন ফ্যাশন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এবং সাদা-কালো ফ্যাশন হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহারুল হক আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলা নববর্ষে দেশি সংস্কৃতির প্রতি সবার আগ্রহ বাড়ে। এ সময় দেশি পোশাকের বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আমরাও মাস ছয়েক আগে থেকেই পছন্দমতো পণ্য সরবরাহে প্রস্তুতি নিয়েছি।’

দেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড রং বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস বলেন, ‘এত দিন বৈশাখের রং মানে ছিল লাল-সাদা। এবারে বৈশাখের অল্প সময় পরই রোজার ঈদ হওয়ায় অধিকাংশ ক্রেতা বৈশাখের পোশাক ঈদেও পরতে চাইছে। তারা লাল-সাদার সঙ্গে অন্য রং মেশানো পোশাক কিনতে চাইছে। আমরা ক্রেতার পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে লাল-সাদার সঙ্গে অন্য রং মিশিয়েছি।’

আড়ংয়ে সালোয়ার-কামিজ কেনার পর গৃহিণী নাফিসা আলী বলেন, ‘সাদা জমিনের ওপর লাল, হলুদ ও কালো সুতার কাজ করা সুতির শাড়ি কিনেছি। অন্যবার শুধু লাল-সাদা শাড়ি কিনলেও এবার একটু অন্য রঙের শাড়ি কিনেছি। শাড়িটি বৈশাখের পর ঈদেও পরার ইচ্ছা আছে।’   

মিরপুর ১০ নম্বরে ফুটপাতে পহেলা বৈশাখের জন্য সালোয়ার-কামিজ কেনার পর গার্মেন্টকর্মী মরিয়ম বলেন, ‘বৈশাখের জন্য পানির ট্যাংকির ফুটপাত থেকে সালোয়ার-কামিজ ও ওড়না কিনেছি সাত শ টাকা দিয়ে। তবে দাম ৫০-৬০ টাকা বেশি নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

দেশি খাবার, হাতের তৈরি শিল্পপণ্যও পহেলা বৈশাখ ঘিরে রমরমা ব্যবসা করছে। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে প্রসাধনী, জুয়েলারি কিনছে অনেকে। বিশেষভাবে মাটি, পাট ও কাপড়ের তৈরি গয়নার চাহিদা বেশি।

বাঙালির যেকোনো উৎসব উদ্যাপনে নারীদের হাতে বাহারি চুড়ি না থাকলে যেন সাজে পূর্ণতা আসে না। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানিরা রংবেরঙের বাহারি ডিজাইনের রকমারি সব চুড়ির পসরা সাজিয়েছেন। দরদাম করে ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে কিনে নিচ্ছে পছন্দের চুড়ি। আর চুড়ি ক্রেতার ভিড় শপিং মল থেকে একেবারে ফেরিওয়ালার ঝুড়ি ও ফুটপাত পর্যন্ত। তবে লাল-সাদা চুড়ির চাহিদা বেশি।

মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা, পান্তা-ইলিশ, ভর্তা-ভাজি—নববর্ষ উদ্যাপনে অনেকে আগেভাগে এসবের প্রস্তুতিও সেরে রাখছে। বিক্রি বেড়েছে বেগুন, ধনেপাতা, বিভিন্ন ধরনের মসলারও। এসব পণ্যের বিক্রি বরাবর পহেলা বৈশাখের দু-এক দিন আগে থাকতে বাড়লেও এবার প্রস্তুতিটা আগেভাগেই সেরে রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

মিরপুর ৬ নম্বরে কাঁচাবাজারের বিক্রেতা শায়েব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৈশাখের তিন-চার দিন আগে থেকে মসলার বিক্রি বেড়ে যায়। শেষ সময়ে এসে যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে সে জন্য বেশি করে কিনে রেখেছি।’

বিভিন্ন জেলা শহর থেকে রাজধানীতে মাটির তৈরি পণ্য এনে সরবরহকারী শাহাবুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের এক মাস বাকি থাকতেই খুচরা বিক্রেতারা আমার কাছে পণ্যের অর্ডার দিয়ে রাখে। বৈশাখের ১৫ দিন আগে থাকতে তারা পণ্য নেওয়া শুরু করে। তবে বাংলা বর্ষবরণ উৎসবে বরাবরই বাড়তি চাহিদা থাকে মাটির মোমবাতি, থালা-বাসন, মগ, ফুলদানি ও মুখোশের।’

 

 

মন্তব্য