kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বরগুনায় নির্বাচনী সহিংসতা

‘শুধু হাত-পা গুঁড়িয়ে দিলাম জানটা ভিক্ষা দিলাম’

বরগুনা প্রতিনিধি   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘শুধু হাত-পা গুঁড়িয়ে দিলাম জানটা ভিক্ষা দিলাম’

বরগুনায় হাত-পা গুঁড়িয়ে দিয়ে এক যুবকের ‘প্রাণ ভিক্ষা’ দিলেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। হাত-পা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরে হামলাকারীরা ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে আহত যুবককে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে দেয়। এ সময় ওই স্বতন্ত্র প্রার্থী হামলার শিকার যুবককে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘তোর শুধু হাত-পা ভাঙা হলো, প্রাণে মারলাম না, জানটা ভিক্ষা দিলাম।’

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতর আহত ওই যুবক মো. নাজমুল আহসান হিরু (৩০) সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

হামলার শিকার নাজমুল আহসান হিরু সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের উত্তর লাকুরতলা গ্রামের প্রবাসী মো. হাবিবুর রহমানের একমাত্র পুত্রসন্তান। তাঁর বাবা হাবিবুর রহমান বর্তমানে ওমানপ্রবাসী। গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিত্সার জন্য তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিজেকে নৌকা প্রতীকের একজন সমর্থক পরিচয় দিয়ে হামলার শিকার নাজমুল আহসান হিরু আরো জানান, তাঁদের বাড়ির কাছাকাছি সোনারবাংলা এলাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এ সময় আনারস প্রতীকের সমর্থক আলীম নামের এক যুবক গামছা দিয়ে তাঁর গলা বেঁধে ফেলে। এর পরপরই আনারস প্রতীকের সমর্থক আলিফ, সোহেল, মাসুদ, সুজন, শফিক ও অলি ধারালো রামদা ও ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাঁর দুই হাত ও পা ভেঙে দেয়। এ সময় সোনারবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়তে আসা তাঁর ছোট বোন মারুফা এগিয়ে এলে তাকেও লাথি মেরে ফেলে দেয় সন্ত্রাসীরা। 

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. নীহাররঞ্জন বৈদ্য জানান, আহত হিরুর দুই পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে। জখম রয়েছে দুই হাতেও। উন্নত চিকিত্সার জন্য তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহ মো. ওয়ালী উল্লাহ অলি জানান, এর আগেও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম মনির একাধিকবার সশরীরে হামলা চালিয়ে তাঁর একাধিক সমর্থককে আহত করেছেন। ভেঙেছেন নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী ক্যাম্প। ছিঁড়ে ফেলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি।

এ বিষয়ে কিছুই জানেন না দাবি করে অভিযুক্ত প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম মনির পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল দুপুরেও শহরের মিষ্টিপট্টি এলাকায় নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা তাঁর ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এতে তিনি অক্ষত থাকলেও তাঁর একাধিক সমর্থক আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসাইন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বরগুনা সদর উপজেলায় ভোট ৩১ মার্চ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা