kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কক্সবাজারে ছয় উপজেলার পাঁচটিতে ‘নৌকা’র ভরাডুবি

অনুপ্রবেশ আর কোন্দলে ডুবছে আওয়ামী লীগ

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অনুপ্রবেশ আর কোন্দলে ডুবছে আওয়ামী লীগ

এবারের উপজেলা নির্বাচনে কক্সবাজারের ছয়টি উপজেলার পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। বাকি একটিতে নৌকা প্রতীক জয় পেলেও সেখানে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। নৌকা প্রতীকের ভরাডুবির কারণ হিসেবে দলের স্থানীয় নেতারা বলছেন, অনুপ্রবেশকারী নেতাকর্মী এবং জামায়াত-শিবিরের চক্রান্তের কারণেই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা জয়ী হচ্ছে। তবে দলীয় কোন্দলের বিষয়টিকে একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অনেকে।

অন্যদিকে বিজয়ী ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা মনে করেন, নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে দলের সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি দলের তৃণমূলের সমর্থন ছিল না। এ কারণে দল থেকে মনোনয়ন পেলেও তাঁরা জয়ী হতে পারেননি।

যদিও বিএনপির স্থানীয় এক নেতা স্বীকার করেছেন যে তাঁরা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর হয়েই নির্বাচনের মাঠে কাজ করেছেন।

গত ১৮ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত তিন দফায় কক্সবাজারের আট উপজেলার ছয়টিতে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফে জয় পেয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও যুবলীগের উপজেলা সভাপতি নুরুল আলম। রামুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল জিতেছেন নৌকার প্রার্থী রিয়াজ উল আলমের বিরুদ্ধে। মহেশখালীতে মোহাম্মদ হোছাইন ইব্রাহিম হেরে গেছেন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ শরীফ বাদশার কাছে। পেকুয়ায় উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমও জিতেছেন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে।

তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাসেমকে পরাজিত করেন। আরেক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদী জয় পান চকরিয়ায়। অন্যদিকে উখিয়ায় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় জয় পেয়েছেন নৌকার প্রার্থী অধ্যক্ষ হামিদুল হক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উখিয়ার এক বিএনপি নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উখিয়ায় যাঁরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, তাঁদের ভেতর থেকে একজনকে আমরা টার্গেট করেছিলাম। তিনি প্রত্যাহার করে না নিলে আমরা নৌকা প্রতীককে পরাজিত করতে মাঠে প্রকাশ্যে কাজ করতাম।’

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হারুন সিকদার বলেন, ‘আমাদের দলীয় কোন্দলের সুযোগটা নিয়েছে দলের বাইরের শক্তি। তার ওপর স্থানীয় সাবেক এমপি বদির বিরোধীরাও এমন সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরাও সব সময় সক্রিয় ছিল, যাতে নৌকাকে একদম শেষ করে দেওয়া হয়।’

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর চৌধুরী বলেন, ‘ভাগ্যিস আমিসহ অন্য সবাই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। নইলে এখানেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পরাজয় হতো।’

রামু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণেই দলীয় কর্মীরা এমপি সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। আর এমন সুযোগে এমপি বিরোধী চেয়ারম্যান প্রার্থীর পাল্লাও ভারী হয়ে ওঠে। এ কারণেই নৌকা মনোনীত প্রার্থীর ভরাডুবি ঘটে।’

মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হাইব্রিডদের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী মনে করে, দলীয় কোন্দলের কারণে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের তৃণমূলে ‘এমবিরোধী’ একটা পক্ষ আছে। এই বিরোধী পক্ষকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে জনসমর্থন তৈরি করে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। 

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ রকম ঘটনার ব্যাপারে আমরা সজাগ আছি। আমাদের দলে অনুপ্রবেশকারী কিছু লোক এ ধরনের তৎপরতায় জড়িত। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এবং মহেশখালী দ্বীপের একজন আওয়ামী লীগ নেতার ব্যাপারে এ ধরনের অভিযোগ আমি জেনেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘নৌকার বিরোধিতার ব্যাপারে আরো অনেক কথা আছে, যা তাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’

কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা ও প্রবীণ শিক্ষাবিদ এম এম সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নৌকা প্রতীকের জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে হীন ষড়যন্ত্র চলছে। আর এ ষড়যন্ত্রে আছে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিডরা।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা