kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ছিনতাইকারীর গুলিতে গুলিস্তানে দুজন গুলিবিদ্ধ

পুলিশের দাবি, আহতদের একজন ছিনতাইকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছিনতাইকারীর গুলিতে গুলিস্তানে দুজন গুলিবিদ্ধ

সুজাউদ্দিন তালুকদার (৩৮) নাভানা গ্রুপের নির্বাহী কর্মকর্তা। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে হানিফ ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুই ছিনতাইকারী এসে তাঁর ব্যাগ ধরে টান দেয়। তিনি ব্যাগ না ছাড়ায় ছিনতাইকারীরা তাঁকে গুলি করে ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পূর্ব দিকের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম সোহাগ (৪০) নামের আরো একজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ দুজনকেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ সোহাগকে ছিনতাইকারী সন্দেহে হাসপাতাল থেকে আটক করে পুলিশ।

সোহাগ হাসপাতালে কালের কণ্ঠ’র কাছে দাবি করেন, তিনি পেশায় ট্রাকচালক। তাঁর বাসা ফরিদপুর বোয়ালমারী এলাকায়। গাড়ির কাগজ ঠিক করতে তিনি ঢাকায় এসেছেন। ঘটনার সময় ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ওই সময় তিনি ঘটনার শিকার হন। অন্যদিকে পুলিশ দাবি করছে, সুজাউদ্দিনকে গুলি করে পালানো ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য সোহাগ।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, লোকজন গুলিবিদ্ধ দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করায়। দুজনেরই বাঁ পায়ে গুলি বিদ্ধ।

আহত সুজাউদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, অফিসের কাজে মতিঝিল থেকে গুলিস্তান হানিফ ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশ দিয়ে হেঁটে নবাবপুর যাচ্ছিলেন তিনি। পথে চার-পাঁচজন তাঁকে ধরে মারধর করতে থাকে এবং গুলি করে তাঁর কাছে থাকা ব্যাগটি নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে চেক বইসহ মূল্যবান কাগজপত্র ছিল। তবে টাকা-পয়সা ছিল না।

সুজাউদ্দিন মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের আহামদনগরে পরিবার নিয়ে থাকেন। তাঁর বাবার নাম গিয়াস উদ্দিন। তিনি গুলশান অফিসে কর্মরত। ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে পুলিশ ছিল না।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সুজাউদ্দিনকে হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণের মধ্যে স্যান্ডো গেঞ্জি ও জিন্স প্যান্ট পরা সোহাগকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে সহকর্মীদের নিয়ে দুপুর ২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী মনিরও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। সোহাগের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে তাঁর হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন ওসি।

ওসি মাহমুদুল হক বলেন, সুজাউদ্দিনের ছিনতাইয়ের ঘটনায় সোহাগ জড়িত থাকতে পারেন। তাঁকে এ ঘটনায় সন্দেহ করা হচ্ছে। এ কারণে আটক করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

এদিকে ঘটনার পরই হাসপাতালে ছুটে যান সুজাউদ্দিনের পরিবার ও অফিসের লোকজন। সুজাউদ্দিনের অফিসের কর্মকর্তা আলামিন বলেন, অফিসের কাজে তিনি ওই পথ দিয়ে নবাবপুর যাচ্ছিলেন।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আলী বলেন, গুলিবিদ্ধ সোহাগ ছিনতাইকারী দলের সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ কারণে তাঁকে আটক করে ঘটনার তদন্ত চলছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা