kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কালিয়ায় এমপি মুক্তি অবস্থান করলে ভোট বন্ধ

নাসিরনগরে নির্বাচনী প্রচারণায় এমপি ফরহাদ

নড়াইল প্রতিনিধি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কালিয়ায় এমপি মুক্তি অবস্থান করলে ভোট বন্ধ

উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আজ রবিবার নড়াইলের তিনটি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, নাসিরনগর উপজেলায় নির্বাচন আগামী ৩১ মার্চ। কিন্তু এসব এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্যরা এলাকায় অবস্থান করে নিজ দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

কালের কণ্ঠ’র নড়াইল প্রতিনিধি জানান, গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রগুলোয় নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো শুরু হয়েছে। গত রাতে নিজ নিজ উপজেলায় নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানোর পর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে প্রিসাইডিং অফিসাররা কেন্দ্রগুলোয় সামগ্রী ও লোকবল নিয়ে রওনা হচ্ছেন।

তিনটি উপজেলায় মোট ১৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ২৪ জন ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৫ জন লড়ছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে।

এদিকে কালিয়া উপজেলায় নৌকা  প্রতীকের প্রার্থী কৃষ্ণপদ ঘোষের পক্ষে এলাকায় অবস্থান করে নির্বাচনে প্রভাব খাটাচ্ছেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বি এম কবিরুল হক মুক্তি। এই অভিযোগে এমপি কবিরুল হক মুক্তিকে এলাকা ছাড়ার জন্য দুই দফা নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফায় এলাকা ছাড়ার নির্দেশ এবং পরে নির্বাচন বাতিল এবং বাতিল নির্বাচনের সব দায়ভার এমপিকে বহন করে ফের নির্বাচনের সব খরচ কবিরুল হক মুক্তিকে বহন করতে হবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়।

কালিয়া উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রিটার্নিং অফিসার রাজু আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দুই দফা নির্দেশনার পরও এমপি সাহেব নির্বাচনে প্রভাব খাটাচ্ছেন। যে কারণে আমাদের প্রিসাইডিং অফিসাররা নির্বাচনে ডিউটি করতে আতঙ্ক বোধ করছেন। কয়েকজন প্রিসাইডিং অফিসার নানা অজুহাতে নির্বাচনী কাজ থেকে সরে গেছেন।’

জেলায় মোট পাঁচ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩ জন ভোটার উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে। এর মধ্যে নড়াইল সদরে দুই লাখ ৯ হাজার ৫৫৩ জন, লোহাগড়ায় এক লাখ ৭৯ হাজার ৮০৪ জন এবং কালিয়া উপজেলায় ভোট দেবে এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৮২ জন।

নাসিরনগরে সরকারি সুবিধা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় এমপি কালের কণ্ঠ’র ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী রাফিউদ্দিন আহমেদের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় নাসিরনগর সদরের গার্লস স্কুলের অদূরেই। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কার্যালয়ের ভেতরে জনদশেক এবং বাইরে তিনজনকে বসে থাকতে দেখা যায়।

বাইরে যারা ছিল তাদের কাছে জানতে চাইলে বলে, ‘এমপি সাব এলাকাত আছে। আজকা সহাল থেইক্কা বাড়িত আছে। কালকা (শুক্রবার) ডাক বাংলোত কিছু লোকজন লইয়া ইলেকশনের বেফারে কতাবার্তা কইছে। সমস্যা আছে দেইক্কা সরাসরি কোনো মিটিং করে না।’

নির্বাচনী কার্যালয়ে প্রবেশ করে পরিচয় দিয়ে কথা হলে, এমপি ফরহাদ হোসেনের এমন নির্বাচনী প্রচারণার কথা অস্বীকার করেন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ লিয়াকত আব্বাস টিপু। তিনি প্রথমে বলেন, ‘এমপি সাহেব ডাক বাংলোতে যাননি।’ পরে আবার বলেন, ‘এমনিতে গিয়েছিলেন।’

নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের এলাকায় অবস্থান করা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। এ নিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান এ টি এম মনিরুজ্জামান।  গত তিন দিন ধরে এলাকায় অবস্থান করছেন এমপি।

নাসিরনগরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাফিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ টি এম মনিরুজ্জামান সরকারের।

রাফি উদ্দিন অসুস্থতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তি। রাফি উদ্দিনের মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে এলাকায় সমালোচনা রয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ এ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এ টি এম মনিরুজ্জামান আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী রাফি উদ্দিন আহমেদ নির্বাচনী মাঠে এক প্রকার অনুপস্থিত। গত বৃহস্পতিবার মার্চে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধির ২২ (১) ধারা লঙ্ঘন করে এমপি ফরহাদ হোসেন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে উপজেলার সদর, কুণ্ডা ও গোকর্ণ  ইউনিয়নের ভোটারদের উপজেলার ডাকবাংলোতে ডেকে নির্বাচনী সভা করেন। একইভাবে পরদিন গত শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের ভোটারদের ডাকবাংলোতে ডেকে নির্বাচনী সভা করেন। সেখানে তিনি নেতাকর্মী, সমর্থকদের  চাপ প্রয়োগ করেন যেন কেউ মনিরুজ্জামানের পক্ষে প্রচারণায় অংশ না নেয়। এটি উপজেলা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০১৬ এর ২২ (১) ধারার পরিপন্থী। এ বিষয়ে আইনিব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

নাসিরনগর থানার ওসি সাজিদুর রহমান এলাকায় এমপির অবস্থান নিশ্চিত করেন।

তবে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মহসীন গতকাল দুপুরের দিকে এ প্রতিবেদককে জানান, গতকাল সকালেই এমপি হবিগঞ্জে চলে গেছেন। ডাকবাংলোতে তিনি এমনিতেই উঠেছিলেন।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সাইফুল কবির বলেন, ‘সংসদ সদস্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন—এমন কোনো সংবাদ আমার কাছে নেই।’

সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক রাতে আসায় আমি ডাকবাংলোতে অবস্থান করি। এখানে বিভিন্ন কারণে লোকজন আমার কাছে আসে। নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা