kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

ক্রাইস্টচার্চে ‘ভালোবাসার শোভাযাত্রা’

আবার নামাজ শুরু আল-নূর মসজিদে

ককালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবার নামাজ শুরু আল-নূর মসজিদে

ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর মসজিদ গতকাল খুলে দেওয়া হলে নামাজ আদায়ের জন্য সেখানে প্রবেশ করেন মুসল্লিরা। ছবি : এএফপি

বর্ণবিদ্বেষী হামলায় রক্তাক্ত হওয়া ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর মসজিদ খুলে দেওয়া হয়েছে। হামলার আট দিন পর গতকাল শনিবার সেখানে ১৫ জন মুসল্লি জোহরের নামাজ আদায় করে। এদিকে হামলায় নিহতদের স্মরণে গতকাল ‘ভালোবাসার শোভাযাত্রা’ হয়েছে ক্রাইস্টচার্চে। এতে বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন বর্ণের প্রায় তিন হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে।

গত ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে ব্রেন্টন টারান্টের বর্ণবিদ্বেষী হামলায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর তদন্তের অংশ হিসেবে মসজিদ দুটির নিয়ন্ত্রণ নেয় পুলিশ।

গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে মসজিদটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর সেখানে জোহরের নামাজ আদায় করে মুসল্লিরা। ওই মসজিদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সৈয়দ হাসেন বলেন, ‘স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে আমরা প্রথম দিন একসঙ্গে ১৫ জনকে মসজিদে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছি। পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

আল-নূর মসজিদে গতকাল নামাজ আদায়ের পাশাপাশি অশ্রুও ঝরেছে। মসজিদের ভেতরে রক্তের দাগ আর নেই। জানালা দিয়ে ভেতরে যে বাতাস ঢুকছিল, তাতে  ছিল দেয়ালে লাগানো নতুন রঙের গন্ধ।

গতকাল আল-নূর মসজিদে নামাজ পড়েন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আদেন দিরিয়ে, যিনি ১৫ মার্চের হামলায় তিন বছরের সন্তান হারিয়েছেন। দিরিয়ে বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে পেরে ভালো লাগছে।’

আল-নূর মসজিদে গতকাল নামাজ আদায় করেন মোহাম্মদ হুজেফ। হামলায় তাঁর দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। টারান্টের বন্দুকের হাত থেকে রক্ষা পেতে হুজেফ সেদিন লুকিয়ে ছিলেন লাশের নিচে। হামলার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একের পর এক গুলিতে মুসল্লিদের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার দৃশ্য এখনো আমার চোখে ভেসে ওঠে।’

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল আল-নূর মসজিদে যান ক্রাইস্টচার্চের আধাপেশাদার ফুটবল ক্লাব ওয়েস্টার্ন এএফসির সদস্যরা। তাঁরা মসজিদের ফটকের সামনে একটি ফুলের তোড়া রেখে নিহতদের স্মরণ করেন। ১৫ মার্চের হামলায় নিহতদের তিনজন ছিল ফুটবলভক্ত, যারা ক্লাবটির খুব ঘনিষ্ঠ ছিল। তাদের একজন ১৪ বছর বয়সী সায়াদ মিলনে, যার স্বপ্ন ছিল একদিন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলা। 

আল-নূর মসজিদ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লিনউড মসজিদও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে এখনো সর্বসাধারণের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এদিকে নিহতদের স্মরণে গতকাল ক্রাইস্টচার্চে ‘ভালোবাসার শোভাযাত্রা’ করেছে প্রায় তিন হাজার মানুষ। এই শোভাযাত্রার আয়োজকদের একজন ১৬ বছরের শিক্ষার্থী মানাইয়া বাটলার। সে বলে, ‘ঘৃণার কারণে সময়ে সময়ে সমাজে অন্ধকার নেমে আসে। সেই অন্ধকার দূর করার সবচেয়ে ভালো নিয়ামক হলো ভালোবাসা।’

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় নিহতদের দুই স্বজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের একজন ৬৫ বছর বয়সী সুয়াদ আদনান, যিনি ছেলে কামেল দারউশের (৩৮) অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে জর্দান থেকে নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলেন। এদিকে ঘুমের মধ্যে গতকাল রাতে মৃত্যু হয়েছে ছেলে হারানো এক মায়ের। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেই তাঁর ছেলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়। পুলিশ দুজনের মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলেছে।

এএফপির খবরে বলা হয়, হামলার শোক কাটিয়ে ক্রমে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ক্রাইস্টচার্চের জীবনযাপন। গতকাল আল-নূর মসজিদের পাশে বাচ্চাদের ক্রিকেট খেলতে দেখা গেছে। অনুষ্ঠিত হয়েছে পূর্বনির্ধারিত ১০০ কিলোমিটারের একটি সাইক্লিং প্রতিযোগিতাও। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা