kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

ভর্তুকি প্রণোদনা নগদ ঋণে বরাদ্দ বাড়ছে

সজীব হোম রায়   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভর্তুকি প্রণোদনা নগদ ঋণে বরাদ্দ বাড়ছে

সরকার আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৪২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রাক্কলন করা হয়েছে। এটি চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে চার হাজার ২৯৬ কোটি টাকা বেশি। গত পাঁচ অর্থবছর ধরে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের তথ্য মতে, টানা চার অর্থবছরের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আসন্ন বাজেটেও ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে জিডিপির ১.৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগ বলছে, প্রদর্শিত ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ প্রকৃত ব্যয় এর আগের অর্থবছরগুলোর তুলনায় বাড়লেও জিডিপির শতকরা হিসাবে তা অপরিবর্তিত রয়েছে।

সাধারণত, ভর্তুকি বেশি দেওয়া হয় কৃষি ও খাদ্য খাতে। আর প্রণোদনা বেশি দেওয়া হয় কৃষি, পোশাক রপ্তানি ও পাট খাতে। নগদ ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) অন্যান্য সংস্থাকে। তবে বিপিসি, পিডিবিকে যে নগদ ঋণ দেওয়া হয় সেগুলোকে একধরনের ভর্তুকি হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। কারণ এসব ঋণ সাধারণত সরকার ফেরত পায় না। যে কারণে পরে পুরো ঋণই অনুদান, ভর্তুকিতে রূপান্তরিত হয়। বেসরকারি খাত থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিদ্যুৎ পেতে পিডিবিকে ঋণ দেয় সরকার।

ভর্তুকি: অন্যবারের মতো আগামী অর্থবছরেও ভর্তুকিতেই বেশি বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ খাতে প্রাক্কলিত বরাদ্দের পরিমাণ ২৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দেওয়া হবে বিদ্যুৎ খাতে। বিদ্যুতে ভর্তুকির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থবছর থেকে আগামী অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা কমছে। চলতি অর্থবছর এ খাতে ভর্তুকি রয়েছে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। খাদ্যে ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হচ্ছে চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা। খাদ্যেও চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১০৪ কোটি টাক বরাদ্দ কমছে। এ ছাড়া অন্যান্য খাতের জন্য ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

প্রণোদনা : আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রণোদনার টাকার অঙ্গে কোনো হেরফের হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের মতো আগামীতেও ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে কৃষি খাতের জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। রপ্তানি নগদ প্রণোদনাও রাখা হচ্ছে চার হাজার কোটি টাকা। আর পাট খাতের জন্য ৫০০ কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করছে অর্থ বিভাগ।

নগদ ঋণ : আসছে বাজেটে নগদ ঋণ খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। তবে এই

পাঁচ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরেও এ দুই খাতে কোনো বরাদ্দ রাখেনি সরকার। বরং অন্যান্য খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় গত কয়েক অর্থবছর ধরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) কোনো ভর্তুকি দেয়নি সরকার। আগামী অর্থবছরেও তাই ধারাবাহিকতার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আর বিদ্যুৎ খাতে পিডিবির ব্যাবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী মূল্য সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। তাই এ খাতে ভর্তুকি দেওয়া হবে না।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা