kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

অবৈধ ব্যাংকিংয়ে তিন সমবায়

সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও অর্থপাচারেও জড়িত কি না খতিয়ে দেখবে বিএফআইইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




অবৈধ ব্যাংকিংয়ে তিন সমবায়

ব্যাংক না হয়েও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহের মতো অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে তিনটি সমবায় প্রতিষ্ঠান। সেগুলো হলো আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ব্যাংক, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক এবং নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যাংকিং পরিচালনা করার প্রমাণ মিলেছে। ওই তিনটি সমবায় প্রতিষ্ঠান অবৈধ ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নে জড়িত কি না সেটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়সভায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সভায় ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএফআইইউকে প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরস্পরের মধ্যে সহজে ও অবাধে তথ্য আদান-প্রদানেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। এ ছাড়া বড় প্রকল্পে অর্থায়নে বন্ড মার্কেট আরো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সভায় বলা হয়, তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো জটিলতা থাকলে প্রয়োজনে তা সংশোধন এবং যেখানে এ ধরনের জটিলতা নেই সেখানে পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করতে হবে। সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, সভায় যে তিনটি সমবায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, সেগুলোর কার্যক্রম মূলত একই প্রকৃতির। এগুলো সমবায় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নিয়ে জনগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহের মতো অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এরই মধ্যে তা প্রমাণিত হয়েছে। এগুলো অবৈধ ব্যাংকিং ছাড়া অন্যান্য কার্যক্রম, যেমন—অর্থপাচার বা সন্ত্রাসে অর্থায়ন করার মতো কিছু করছে কি না সেটি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএফআইইউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলোর বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো সমবায় অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নেয় সমবায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে। কিন্তু তারা নামের শেষে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার ও অবৈধ ব্যাংকিং করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কৈফিয়ত তলব করা হলেই তারা হাইকোর্টে রিট করে। তখন আর কিছু করার থাকে না।

সিরাজুল ইসলাম জানান, সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সবাই একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এক প্রতিষ্ঠানের তথ্য আরেক প্রতিষ্ঠান যথাসময়ে পায় না। যেমন—কোনো ফরেন ইনভেস্টর এ দেশে বিনিয়োগ করতে চাইলে বিডার মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়। এটি কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকে রেকর্ড থাকে না। যখন ওই বিদেশি বিনিয়োগের লাভ প্রত্যাবাসন করতে চায় তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়। ওই বিদেশির বিনিয়োগের তথ্য সম্পর্কে আগে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়াকিবহাল না থাকায় অনুমতি দিতে জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু তার সম্পর্কে বিডা থেকে আগেভাগে তথ্য পাওয়া গেলে এ সমস্যা হতো না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, দেশে বড় শিল্পায়নের জন্য বন্ড মার্কেটের কোনো বিকল্প নেই। এর প্রসারে এরই মধ্যে দুটি কমিটি করা হয়েছে। একটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এবং ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যৌথ কমিটি। অন্যটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উচ্চপর্যায়ের কমিটি। উভয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গঠন করা হবে। সভায় বন্ড মার্কেট গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উঠে আসে। এর মধ্যে এনবিআরের কর কাঠামো ঢেলে সাজানোর দাবি জানান কেউ কেউ। বন্ড মার্কেট গঠনের প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে নিতে সবাই সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গতকালের সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (আইডিআরএ), যৌথ মূলধন কম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের কার্যালয়, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), সমবায় অধিদপ্তর, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। সভায় আরো ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, গভর্নরের উপদেষ্টা ও নির্বাহী পরিচালকরা।

সভায় ব্যাংকের গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের বিপরীতে এসএমএস চার্জ যৌক্তিকীকরণের জন্য বিটিআরসিকে পুনরায় নির্দেশ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। আলোচনা হয় জুবিলি ব্যাংকের বেনামি শেয়ার এবং ব্যাংকটিতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বিষয়েও।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা