kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

মিঠু বাহিনীর ত্রাসের রাজত্ব রূপগঞ্জে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মিঠু বাহিনীর ত্রাসের রাজত্ব রূপগঞ্জে

হুমায়ুন কবীর মিঠু

রাজধানীর পাশে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে হুমায়ুন কবীর মিঠু ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় দু-একজন নব্য নেতার আশীর্বাদে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে এই মিঠু বাহিনী। ওই বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হলেও ভয়ে মামলা করা দূরের কথা, কেউ প্রতিবাদ করতেও সাহস পায় না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিঠু বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কামরুল হাসান নয়ন, মোতাহার ফকির, হালিম মোল্লা, জামান, বাবুল, রেজু, শিবজন, ছলু ও রুবেল। চাঁদা না পেয়ে গত সোমবার মিঠু তার দলবল নিয়ে মেরিন সিটির বালির পাইপ কেটে ফেলে।

পুলিশ জানায়, এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে সন্ত্রাসী মিঠুকে একবার গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। এ ছাড়া গোবিন্দপুরের মহসিন হত্যা, বাগবেড় এলাকার মৌলভি হাসান আলীর হাত-পা ভেঙে দেওয়া, এলাকায় জমি বিক্রেতা ও পূর্বাচলের ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোসহ বহু অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। মিঠুর ভয়ে স্থানীয় অনেক মানুষ এখন এলাকা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেশাখোর বাবার অত্যাচারে ১২ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে সাপুড়ে দলে যোগ দিয়ে সাপের খেলা দেখাত মিঠু। সেখান থেকে ফিরে ১৮ বছর বয়সে রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর দলে যোগ দেয় সে। এরপর মোহাম্মদ আলীর ছত্রচ্ছায়ায় থেকে মামাতো ভাই বেলায়েত হোসেনসহ বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে। পরে সে মোহাম্মদ আলীর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসার অংশীদার হয়। বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্ব মেনে নিতে না পেরে সুযোগমতো তাকে গুলি করে হত্যার পর পুরো দলের নেতৃত্ব নেয় মিঠু। নিজের প্রথম স্ত্রীকে হত্যার পর দ্বিতীয় বিয়ে করে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মোহাম্মদ আলী মারা যাওয়ার পর মিঠু তার দলবলসহ কিছু দিন আত্মগোপনে থাকে।

এ ছাড়া হুমায়ন কবীর মিঠুর বিরুদ্ধে হাইওয়েতে তেলের ড্রামভর্তি ট্রাকে ডাকাতি, গরুবাহী ট্রাক থেকে গরু লুট, হাইওয়ে বাইপাসে বড় গাছ ফেলে গাড়িতে ডাকাতি, নিরীহ মানুষের বাড়িতে ডাকাতি, খুন, নারী ধর্ষণ, দেশি মদ তৈরি করে বিক্রি, ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ আছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা