kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

পাহাড়ের বাহারি সম্ভারে জমজমাট পার্বত্য মেলা

নওশাদ জামিল   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাহাড়ের বাহারি সম্ভারে জমজমাট পার্বত্য মেলা

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গতকাল শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত চার দিনব্যাপী পার্বত্য মেলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেই সমৃদ্ধ নয়, নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও তুলনাহীন। বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আছে খাদ্য, ফসল, পোশাকের বৈচিত্র্যময় সম্ভার। রাজধানীবাসীর জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছে পাহাড়ের বাহারি পণ্যের বিপুল সম্ভার। দেখা গেল জুমচাষের মাধ্যমে উৎপাদিত নানা ফসল ও ফল। শুধু ফল নয়, থরে থরে সাজানো পাহাড়ি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও পোশাক। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মেলে পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় নৃত্য-গীত ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। সব মিলিয়ে উৎসমুখর এক পরিবেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রান্তরে শুরু হয়েছে চার দিনের পার্বত্য মেলা।

পাহাড়ের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর সংস্কৃতির সুবাস যেন ছড়িয়ে রয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে। শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রান্তর যেন এখন এক খণ্ড পাহাড়ি জনপদ। পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবন-সংস্কৃতি, পোশাক-পরিচ্ছদ, ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সমতলের মানুষদের পরিচয় করিয়ে দিতে এই আয়োজন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

গতকাল বিকেলে রঙিন বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে জমকালো ও বর্ণাঢ্য এ আয়োজন উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম।

ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশের আপামর মানুষের সঙ্গে পাহাড়ের নিবিড় সম্পর্ক আরো দৃঢ় করবে এই মেলা। বাংলাদেশে রয়েছে নানা জাতি-গোষ্ঠীর অপূর্ব সম্মিলন। আমরা সবাই মিলেই নির্মাণ করব অসাম্প্রদায়িক ও মানবতার বাংলাদেশ।

বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, পার্বত্য এলাকা বোঝা নয়, সম্পদশালী এলাকা। যারা সেখানে সন্ত্রাস করে, অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে, আমরা তাদের ঘৃণা করি। সরকারের সহায়তা নিয়ে আমরা সবাই মিলে পার্বত্য এলাকাকে আরো সমৃদ্ধশালী করব।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের নানা তরতাজা ফলফলাদি, খাবার ও পোশাকে ভরা। বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখা গেল পাহাড়ি আনারস, তরমুজ, কলা, তেঁতুল, কাঁঠালসহ নানা ফলের সমাহার। আছে পাহাড়ি কাঁচা হলুদ, কফি, লাল, কালো ও সাদা বিন্নি চাল। পাহাড়ি আখ, সেই আখের তৈরি গুড়, ডায়াবেটিস প্রতিরোধক বিশেষ চা—কী নেই! সবজির মধ্যে আছে পাহাড়ি পাকা হলুদ বেগুন, পাহাড়ি আলু, ফরাশ শিম, কুমড়া, সজিনা ডাঁটা, কলার মোচা, পাহাড়ি মুলা প্রভৃতি। স্বাদ নেওয়া যাবে কলাপাতায় মোড়ানো বিভিন্ন

ধানের তৈরি ‘বিনি হোগা’ নামের বিশেষ এক ধরনের পিঠা, কাঁকড়া ফ্রাইসহ হরেক রকমের খাবারের। পোশাকের মধ্যে লুঙ্গি-গামছা থেকে শুরু করে বিছানা, গায়ের চাদর, ফতুয়া, খামির বাহার রয়েছে। অলংকারের মধ্যে রয়েছে হাসুলি, ঝুমকা, চোকার, নানা ধরনের মালা, ব্রেসলেট।

মেলায় দেখা গেল বিভিন্ন ধরনের পণ্যসহ ঝুড়ি। এ ছাড়া আছে নানা আসবাব। বাঁশ ও বেতের তৈরি সুদৃশ্য চেয়ার, নান্দনিকতায় ভরা ফুলদানি তো আছেই। সব মিলিয়ে পাহাড়ের নানা জনগোষ্ঠীর বিপুল পণ্যের অপূর্ব সমাহার।

পার্বত্য মেলা আয়োজনে সহযোগিতা করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বিশ্ব খাদ্য সংস্থা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আরণ্যক, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল, কারিতাস, পদক্ষেপ ও বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব।

আয়োজকরা জানান, মেলা চলবে আগামী ২৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। মেলামঞ্চে থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মুগ্ধ করবে সবাইকে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা