kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তুরাগখেকোদের বাধা মাড়িয়ে চলছে উচ্ছেদ

কর্মকর্তা লাঞ্ছিত, আটকের পর চেয়ারম্যান মুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তুরাগখেকোদের বাধা মাড়িয়ে চলছে উচ্ছেদ

কয়েক দিন ধরে তুরাগতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছে বিআইডাব্লিউটিএ। গতকাল মিরপুরের বড়বাজার এলাকা থেকে তোলা ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

দখলদারদের থাবামুক্ত করতে তুরাগ নদের দুই তীরে চলছে সাঁড়াশি অভিযান। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) গতকাল বুধবার অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতও করেছে। এ সময় সাভার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম শান্তকে আটক করা হয়। পরে তিনি ক্ষমা চেয়ে ছাড়া পান। দিনভর অভিযানে বহুতল ভবনসহ ১৮৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অবমুক্ত করা হয় দুই একর জমি।

রাজধানীর কোল ঘেঁঘে বয়ে চলা তুরাগের পানিপ্রবাহ যেমন দূষিত হয়ে কালো রং নিয়েছে, ঠিক তেমনি দখলদারদের কালো থাবায় দুই পাশের তীর এখন খাবিখাচ্ছে। তীর দখল করে নির্মাণ হয়েছে বসতবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। কিছু অংশে চলছে নতুন আবাসন গড়ার ভরাটকাজ। গতকাল বুধবার ক্রেন ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দখলি জমিতে নির্মাণ করা স্থাপনা।

মিরপুর জহুরাবাদ থেকে পালপাড়া পর্যন্ত তুরাগের দুই তীরে গতকাল অভিযান চলে একযোগে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযানকারীরা পৌঁছে সাভারের কাউন্দিয়ায়। সেখানে কাউন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান শান্ত নদীর জায়গা দখল করে সড়ক তৈরি করেছেন। বালু ভরাট করে বিশাল এলাকা নিজের কবজায় রেখেছেন। অভিযানের কিছুক্ষণের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান শান্ত লোকজন নিয়ে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন। তার পরও উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় তিনি চড়াও হন বিআইডাব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক রেজাউল করিমের ওপর। উত্তেজিত হয়ে ধাক্কা দেন তাঁকে। তুরাগের অপর পারে তখন উচ্ছেদ কার্যক্রম তদারকি করছিলেন যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনসহ অন্যরা। খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ আটক করে ইউপি চেয়ারম্যানকে। প্রায় আধাঘণ্টা অভিযান বন্ধ থাকে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেটসহ ঊর্ধ্বতনদের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান শান্ত ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে মুক্ত হন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চেয়ারম্যান যাঁকে লাঞ্ছিত করেছিলেন তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আমরা সার্বিক বিষয় বিবেচনায় তাঁকে ছেড়ে দিয়েছি।’

ঘটনা প্রসঙ্গে বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফউদ্দিন বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান শান্ত বিশাল এলাকায় বালু ভরাট করেছেন। সেখানে ঈদগাহ ও মসজিদ বানাবেন বলে দাবি করেন। সাত-আট মাস আগে একবার অভিযানে বাধা দিলে তাঁকে আটক করা হয়। তখন মুচলেকায় ছাড়া পান। আবারও তিনি বাধা দিতে এসে এক কর্মকর্তার গায়ে হাত তুলেছেন। এ ধরনের ঘটনায় আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যত বাধাই আসুক অভিযান চলবে।’

অভিযানকালে মিরপুর বড়বাজার এলাকায় একটি তিনতলা ভবন উচ্ছেদ করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় পার হয়ে যায়। সেখানে বাধা না এলেও ভবনটি এমনভাবে নির্মাণ করা যা তড়িঘড়ি উচ্ছেদ করতে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল। পাশে নদীর তীর ঘেঁষে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে তুরাগের দুই পাশেই রয়েছে দখলদারদের কালো থাবার নিশানা। আজ বৃহস্পতিবার ফের দুই তীরে অভিযান চালানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

গতকাল উচ্ছেদ অভিযানকালে ভাঙা হয়েছে ১৮৫টি স্থাপনা। এর মধ্যে একটি তিনতলা, ১১টি দোতলা ও ২৩টি একতলা ভবন রয়েছে। এ ছাড়া ৩৮টি আধাপাকা ঘর ও ১১২টি টিনের ঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দিনভর অভিযানে নদীতীরের দুই একর জমি অবমুক্ত হয়েছে। দুপুরে মিরপুর জহুরাবাদ এলাকায় তীর দখল করে রাখা ইট, কাঠ, রড জব্দ করে নিলামে তোলা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা