kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

আইনজীবীদের কাছে খালেদা জিয়ার প্রশ্ন

নাইকো মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করছেন না কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নাইকো মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করছেন না কেন

রাজধানীর পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত ৯-এ গতকাল মঙ্গলবার নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানিতে এসে খালেদা জিয়া তাঁর আইনজীবীদের কাছে জানতে চেয়েছেন, কেন মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করছেন না? তখন আইনজীবীরা তাঁকে জানান, আগামী শুনানির দিন মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হবে।

এর আগে ওই আদালতে মামলার শুনানি নিয়ে খালেদা জিয়া ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়েছে। খালেদার পক্ষে শুনানি করেননি তাঁর আইনজীবীরা। পরে বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান আগামী ১ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেন। ওই দিন খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি না করলে আদালত একতরফা আদেশ দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও তাঁকে জোর করে আদালতে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। আবার তাঁকে আদালতে হাজির করার আগে তিনি বমি করেছেন বলেও উপস্থিত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন।

তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালেদা জিয়া আদালতে এসেছেন। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি সুস্থ আছেন।’ দুদকের আইনজীবী আরো বলেন, মামলার আলামতসহ কাগজপত্র চেয়ে খালেদা জিয়ার আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, আগামী ১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি না করলে সেদিন অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ হবে।

দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে হুইলচেয়ারে করে কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে আদালতের এজলাস কক্ষে আনা হয়। এর পরপরই বিচারক এজলাসে ওঠেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার পাশের চেয়ারে বসেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুল কথা বলেন। দুপুর ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত শুনানি চলে।

শুনানি শেষ হলে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডামের শরীর খুব খারাপ। আজ আদালতে আসার আগে তিনি বমি করেছেন। কারাগারে তাঁর কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। কোনো চিকিৎসক তাঁকে দেখতে আদালতে আসেননি। তাঁর রক্ত পরীক্ষা করানো হয়নি।’

কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনতে চাইলেও তিনি আসেননি কেন? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পিজিতে উনার (খালেদা) কোনো চিকিৎসা হয় না। আমরা বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বলছি, কিন্তু তাঁকে নেওয়া হচ্ছে না। মেডিক্যাল বোর্ডেও চিকিৎসক পাঠানো যেতে পারে।’

শুনানির শুরুতে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, এই মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিদের পক্ষে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি শেষ হয়েছে। আগের শুনানির দিনও খালেদা জিয়ার পক্ষে সময় নেওয়া হয়। এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, শুনানির জন্য মামলার কাগজপত্রের অনুলিপি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কাগজপত্রের অনুলিপি দেওয়া হয়নি। কাগজপত্র পেলে অল্প সময়ে শুনানি করা হবে। তখন মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, আসামির আইনজীবীরা বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্ব করতে চাচ্ছেন।

আদালত তখন বলেন, ‘আগেও সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আপনারা শুনানি করছেন না। যে আবেদন দিয়েছিলেন তা নিষ্পত্তি হয়েছে। নকল চেয়ে করা আবেদন নাকচ করা হলো।’

পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘সব আসামি আবেদন দিয়ে আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানি করেছে। বারবার বলার পরও আপনারা আবেদন করেননি।’ শুনানির নতুন দিন ঠিক করে বিচারক এজলাস ছেড়ে যান।

এরপর খালেদা জিয়া তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন। আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, কেন মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করছেন না? তখন এ জে মোহাম্মদ আলীসহ অন্যরা খালেদা জিয়াকে জানান, আগামী শুনানির দিন মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়া গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি  থেকে কারাগারে আছেন।

খালেদার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন এদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় আইকন পরিবহনের বাসে আগুন দিয়ে আট ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে এ আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৬ মার্চ খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেন।

আইকন পরিবহনের বাসে বোমা নিক্ষেপ করে আগুন দিয়ে আটজনকে হত্যার অভিযোগে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লায় একটি হত্যা মামলা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ মামলায় হাইকোর্ট গত বছর ২৮ মে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট ছয় মাসের জামিন দেন। একই সঙ্গে কেন নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। এ জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে পরদিন ২৯ মে জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি। এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ সময়ে সময়ে বাড়ানো হয়। এরপর গত ২ জুলাই আপিল বিভাগ পৃথক এক আদেশে চার সপ্তাহের মধ্যে জামিন প্রশ্নে রুলের নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। এই রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত রুল নিষ্পত্তি করে গত ২৩ জানুয়ারি আদেশ দেন। আদেশে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করতে কুমিল্লা আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর কুমিল্লা আদালতে শুনানি শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করেন। এ অবস্থায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হলে আদালত শুনানি শেষে জামিন দেন। এখন সেই জামিন স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা