kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা ভোট শান্তিপূর্ণ : ইসি

ভোটার উপস্থিতি খুব কম

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



ভোটার উপস্থিতি খুব কম

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও অনেক কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল অনেক কম। অনেক উপজেলার ভোটকেন্দ্র ছিল নিরুত্তাপ ও ফাঁকা। দেড় ঘণ্টায় মাত্র একটি ভোট পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রকাশ্যে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। রাঙামাটির তিন উপজেলায় আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরে ফেলার অভিযোগ তুলে পাঁচ প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এই পার্বত্য জেলার সাজেক ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরের কন্ট্রোল রুমে ফেরার পথে অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ঘটনাস্থলে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ভোট চলাকালে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার একটি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা থামাতে পুলিশ তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ উপজেলার আরেকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারকে লাঞ্ছিত করার অপরাধে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে আটক করা হয়। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মধ্য বোয়ালখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলচেষ্টার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল কাশেমের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে সেই চেষ্টা ভণ্ডুল করে। একই জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার একটি কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দুই এজেন্টকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের (প্রসিত গ্রুপ) বিরুদ্ধে। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় যুবলীগের স্থানীয় এক নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়। অন্য কয়েকটি উপজেলায়ও জাল ভোট এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়।

এদিকে নির্বাচন কমিশন ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মারা ঠেকাতে নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে ভোটের আগের রাতে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হলেও আগামীতে সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে সকাল ৮টার পরিবর্তে ৯টায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা নির্বাচনে না হলেও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ এ তথ্য জানান।

কালের কণ্ঠ’র স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, অনেক ভোটকেন্দ্রে ভোটারের অপেক্ষায় ছিলেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। মূলত বেশির ভাগ উপজেলায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া অন্য দলের প্রার্থী না থাকায় ভোটারদের আগ্রহ দেখা যায়নি। ফরিদপুরের কয়েকটি উপজেলায়, বগুড়ার আদমদীঘি, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এবং সিলেট সদর উপজেলাসহ অন্যান্য জেলার উপজেলা নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে এ ধরনের নিরুত্তাপ পরিবেশ দেখা গেছে।

তবে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এ ধাপে বেশির ভাগ এলাকায় ভোটার উপস্থিতি ব্যাপক ছিল বলে তথ্য পেয়েছি। কোথাও কোথাও কম উপস্থিতি ছিল। তবে সব মিলিয়ে প্রথম ধাপের চেয়ে ভোটের হার বেশি হবে আশা করি।’

উপজেলা পরিষদের পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে গতকাল সোমবার ১১৬ উপজেলায় সাত হাজার ৩৯ কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। ভোটগ্রহণ শেষে ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। অনিয়ম ও ত্রুটির কারণে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা আটটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেছেন। অন্য সব কেন্দ্রে কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়নি।’

ইসি সচিব এ সময় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত’ বলে মন্তব্য করেন।

চেয়ারম্যান পদে যাঁরা বিজয়ী হলেন : গতকাল রাতে পাওয়া বেসরকারি ফলাফলে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঘোড়া প্রতীক) সোয়েব আহমদ ৪৩ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম সুন্দর পেয়েছেন ২০ হাজার ৫৭৩ ভোট। এ ছাড়া বগুড়া সদর উপজেলায় আবু সুফিয়ান সফিক, সারিয়াকান্দিতে মুনজিন আলী সরকার, সোনাতলায় মিনহাদুজ্জামান লিটন, ধুনটে আবদুল হাই সরকার, নন্দীগ্রামে রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, শাজাহানপুরে ছারোয়ার হোসেন ছান্নু, গাবতলীতে রফি নেওয়াজ খান রবিন, দুপচাঁচিয়ায় ফজলুল হক, কাহালুতে আল হাসিবুল হাসান সুরুজ, শিবগঞ্জে ফিরোজ আহমেদ রিজু, শেরপুরে মজিবুর রহমান মজনু এবং আদমদীঘিতে সিরাজুল আলম খান রাজু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

মৌলভীবাজার সদরে মো. কামাল হোসেন, বড়লেখায় সোয়েব আহমদ, জুড়িতে এম এ  মোঈদ ফারুক, কুলাউড়ায় অধ্যক্ষ এ  কে এম সফি আহমদ সলমান, রাজনগরে শাহজান খান, কমলগঞ্জে অধ্যাপক রফিকুর রহমান, শ্রীমঙ্গলে রনধীর কুমার দে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

সিলেটের ১২ উপজেলার বেসরকারি ফলাফলে সাতটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সিলেট সদর উপজেলায় আশফাক আহমদ (আওয়ামী লীগ), দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় মোহাম্মদ আবু জাহিদ (আওয়ামী লীগ), বিশ্বনাথ উপজেলায় এস এম  নুনু মিয়া (আওয়ামী লীগ), কানাইঘাট উপজেলায় আব্দুল মুমিন চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় মো. নুরুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শামীম আহমদ (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী), বালাগঞ্জ উপজেলায় মো. মোস্তাকুর রহমান মফুর (আওয়ামী লীগ), গোয়াইনঘাট উপজেলায় ফারুক আহমদ (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী), গোলাপগঞ্জ উপজেলায় অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), বিয়ানীবাজার উপজেলায় আবুল কাশেম পল্লব (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী), জকিগঞ্জ উপজেলায় লোকমান উদ্দিন চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), জৈন্তাপুর উপজেলায় মো. কামাল আহমদ (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী)।

নওগাঁর বদলগাছীতে শামসুল আলম খান, মহাদেবপুরে মো. আহসান হাবিব, ধামইরহাটে মো. আজহার আলী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় খলিলুর রহমান চৌধুরী, বান্দরবানের লামায় মোস্তফা জামাল, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় নৌকা প্রতীকে হাজি মো. কাশেম বিজয়ী হয়েছেন।

বগুড়ার সদর উপজেলায় আবু সুফিয়ান সফিক, সারিয়াকান্দিতে মুনজিন আলী সরকার, সোনাতলায় মিনহাদুজ্জামান লিটন, ধুনটে আবদুল হাই সরকার, নন্দীগ্রামে রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, গাবতলীতে রফি নেওয়াজ খান রবিন, দুপচাঁচিয়ায় ফজলুল হক, কাহালুতে আল হাসিবুল হাসান সুরুজ, শিবগঞ্জে ফিরোজ আহমেদ রিজু, শেরপুরে মজিবুর রহমান মজনু এবং আদমদীঘিতে সিরাজুল আলম খান রাজু।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জসিম উদ্দিন, সীতাকুণ্ডে এস এম আল মামুন, সন্দ্বীপে মো. শাহজাহান, হাটহাজারীতে এস এম রাশেদুল আলম, রাউজানে এহেছানুল হায়দার চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ায় খলিলুর রহমান চৌধুরী এবং ফটিকছড়িতে এইচ এম আবু তৈয়ব।

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় রুহুল আমিন, তারাগঞ্জে আনিসুর রহমান লিটন, পীরগাছায় মাহবুবার রহমান, বদরগঞ্জে ফজলে রাব্বী সুইট, কাউনিয়ায় আনোয়ারুল ইসলাম মায়া, পীরগঞ্জে নূর মোহাম্মদ মণ্ডল।

নওগাঁর বদলগাছীতে শামসুল আলম খান, মহাদেবপুরে মো. আহসান হাবিব, ধামইরহাটে মো. আজহার আলী, পত্নীতলায় আব্দুল গাফফার, ঠাকুরগাঁওয়ের সদরে অরুনাংশু দত্ত টিটু, হরিপুরে জিয়াউল হাসান মুকুল, বালিয়াডাঙ্গীতে আলী আসলাম জুয়েল।

দিনাজপুরের কাহারোলে আবদুল মালেক সরদার, বোচাগঞ্জে জুলফিকার আলী, ফুলবাড়ীতে আতাউর রহমান মিল্টন, বীরগঞ্জে আমিনুল ইসলাম, খানসামায় আবু হাতেম, বিরামপুরে খায়রুল আলম রাজু, চিরির বন্দরে তারিকুল ইসলাম তারিক, বিরলে একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় দিনাজপুর সদর উপজেলায় ইমদাদ সরকার, ঘোড়াঘাটে রাকে খন্দকার সাহান শা, পার্বতীপুরে হাফিজুর রহমান প্রামাণিক, হাকিমপুরে হারুন অর রশিদ।

পাবনার চাটমোহরে আব্দুল হামিদ মাস্টার, আটঘরিয়া উপজেলায় তানজির ইসলাম, চাটমোহরে আবদুল হামিদ মাস্টার, ভাঙ্গুড়ায় বাকি বিল্লাহ, ফরিদপুর উপজেলায় গোলাম হোসেন গোলাপ, বেড়া উপজেলায় আবদুল কাদের, সাঁথিয়ায় আবদুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার, ঈশ্বরদীতে নুরুজ্জামান বিশ্বাস, পাবনা সদর উপজেলায় মোকাব্বর হোসেন, সুজানগর উপজেলায় শাহীনুজ্জামান শাহীন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

গাইবান্ধার পাঁচটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন তাঁরা হলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলায় শাহ সারোয়ার কবীর, ফুলছড়ি উপজেলায় জি এম সেলিম পারভেজ, সাঘাটা উপজেলায় জাহাঙ্গীর কবির, পলাশবাড়ী উপজেলায় এ কে এম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুত্, সাদুল্যাপুর উপজেলায় সাহরিয়া খান বিপ্লব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা