kalerkantho

শুক্রবার । ৮ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ডাকসু পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি আজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ডাকসু পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি আজ

ডাকসু ও হল সংসদের পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আজ সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে গত ১১ মার্চের নির্বাচন বর্জনকারী পাঁচ প্যানেল। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা। গতকাল রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত পৃথক তিনটি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে দুপুর ১টায় মধুর ক্যান্টিনে প্রথমে সংবাদ সম্মেলন করে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য। বিকেল সাড়ে ৫টায় একই স্থানে সংবাদ সম্মেলন করে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এ সংবাদ সম্মেলনের পরই একই স্থানে পাঁচ প্যানেলের ব্যানারে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট বর্জন করা স্বতন্ত্র জোট, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, ছাত্র ফেডারেশন, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা ভিপি নূরের

‘ভিপি হিসেবে আমি এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম চালাইনি বা দায়িত্ব নিইনি। পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং আমরা যারা একসঙ্গে আন্দোলন করেছি, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব’—এ কথা ডাকসুর সদ্য নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূরের। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

নূর বলেন, ‘আমার সহযোদ্ধারা যে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন সেটি আমারও দাবি। তাঁরা যদি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে বলেন তাহলে নেব, না বললে নেব না। শিক্ষার্থীরা যে দাবি তুলেছে, আমরা দেখেছি এই নির্বাচনে অনিয়ম কারচুপি হয়েছে, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কালিমা লেপন করা হয়েছে। সে জন্য আমরা বলেছি এই নির্বাচন পুনরায় দিতে হবে। একই সঙ্গে জড়িতদের পদত্যাগ করতে হবে। ভিপি পদপ্রার্থী হয়ে আমি রোকেয়া হলে শিক্ষকদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছি। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কলঙ্কিত নির্বাচন চাই না। আমরা সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।’

প্রধানমন্ত্রীর সামনে ‘নির্বাচনে দু-একটা ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে’ এমন বক্তব্য প্রদান ও আপনাকে নমনীয় মনে হওয়ার কারণ কী—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নূর বলেন, ‘আমরা শুনেছিলাম যে গণভবনে শুধু ডাকসুর কেন্দ্রীয় নেতারা ও হল সংসদের নেতাদের চায়ের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু আমরা গিয়ে দেখি এর বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রলীগের নেতারা উপস্থিত। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরাও ছিলেন। ফলে সেখানে যাওয়ার পর আমি নিজেই একটু অস্বস্তিতে পড়েছি, ভুল হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই একবার যদি মানুষের কনসেনট্রেশন (মনোযোগ) নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কথা বলার মুডটা থাকে না। সে কারণে আমি অনেক কথা বলতে পারিনি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আমাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করবে না। এর আগে আমি বলেছিলাম, যেহেতু কারচুপির মধ্যেও দুটি পদে আমরা জয় পেয়েছি তাই এই দুটি পদ ছাড়া অন্য পদে নির্বাচন দেওয়ার জন্য। পরে আমি বলেছি পাঁচজন শিক্ষার্থীও যদি যৌক্তিক ও ন্যায্য বিষয়ে কথা বলে আমি তাদের সঙ্গে আছি। যখন শিক্ষার্থীরা পুনর্নির্বাচন চাইল, আমিও তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছি। প্রথমটি ছিল আমার ব্যক্তিগত এবং পরেরটি শিক্ষার্থীদের চাহিদার আলোকে বক্তব্য। সুতরাং এটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো কারণ নেই।

অবস্থান কর্মসূচির ডাক পাঁচ প্যানেলের 

ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে নির্বাচন বর্জন করা পাঁচটি প্যানেল। বিকেলে মধুর ক্যান্টিনে সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র জোটের ভিপি পদে নির্বাচন করা অরণী সেমন্তী খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আজ সোমবার দুপুর ১২টায় ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। তিনি ডাকসু নির্বাচন বাতিল, নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ, হামলাকারীদের বহিষ্কার এবং মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন।

বাম জোটের সংবাদ সম্মেলন

এদিকে গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আলাদা এক সংবাদ সম্মেলনে বাম জোটের ভিপি পদে নির্বাচন করা লিটন নন্দী বলেন, গণভবনে গিয়ে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ধোঁয়াশাপূর্ণ। এটি পুনর্নির্বাচনের যে আন্দোলন চলছে, সেটির জন্য ক্ষতিকর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জোটের জিএস প্রার্থী ফয়সাল মাহমুদ, এজিএস প্রার্থী সাদেকুল ইসলাম সাদিক, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাস প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিটন নন্দী বলেন, ডাকসু নির্বাচনে সামান্যতম ত্রুটিও মেনে নেওয়া যায় না। ১১ মার্চের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছে। এ নির্বাচন আমরা মানি না। এই ডাকসু আমাদের ডাকসু না। এ কারণে ছাত্রলীগ ব্যতীত পাঁচ প্যানেল এই প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্য প্যানেলের কেউ নেই কেন—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্যরা এখনো অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে। তারা এখনো সাংগঠনিকভাবে এক হতে পারেনি। এ বিষয়ে আলোচনা করছে। সবার সামনে তারাও তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবে বলে আমরা আশা করছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা