kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

ব্যাংকে দুরবস্থা : প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে বৈঠক আজ

খেলাপি ঋণ কমাতে আসছে কঠোর নির্দেশনা

সরকারি ব্যাংকের এমডি চেয়ারম্যান পরিচালকদের সঙ্গে বসছেন অর্থমন্ত্রী

সজীব হোম রায়   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খেলাপি ঋণ কমাতে আসছে কঠোর নির্দেশনা

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার একঝাঁক নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে দেশের সব খাতের দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করার অঙ্গীকার করেছে। মন্ত্রীরাও যাঁর যাঁর ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছেন। নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও অর্থনীতির বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে ব্যাংক খাতে জেঁকে বসা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিচ্ছেন; খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতিসহ নানাভাবে ধুঁকতে থাকা ব্যাংকগুলোর সার্বিক অবস্থায় পরিবর্তন আনার কথা বলছেন। গত ১০ বছরে যা সম্ভব হয়নি তা-ই এবার করে দেখাতে চাইছেন নতুন অর্থমন্ত্রী। আজ সোমবার তিনি প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যাংকগুলোর এমডি, চেয়ারম্যানসহ পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারের চাওয়া এবং তার বাস্তরায়ন কিভাবে করতে হবে সে সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে। বৈঠকে আরো উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামসুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই প্রথম এত বড় পরিসরে আমাদের ডাকা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনাসহ অর্থমন্ত্রী নানা দিকনির্দেশনা দেবেন।’

আজকের বৈঠক সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলামও গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের বৈঠকটি বড় পরিসরে হবে। সরকারি সব ব্যাংকের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হবে। এ নিয়ে আমরা একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছি।’ প্রয়োজন হলে এ ধরনের বৈঠক আরো হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র মতে, ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। গত ১০ বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে চার গুণেরও বেশি। এর মধ্যে আবার অর্ধেকের বেশি খেলাপি ঋণ শুধু সরকারি ব্যাংকগুলোতে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ প্রায় ৪৮ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২২৪ কোটি, সোনালী ব্যাংকের ১২ হাজার ৬১ কোটি, বেসিক ব্যাংকের আট হাজার ৬৩১ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের পাঁচ হাজার ৭৫০ কোটি, রূপালী ব্যাংকের চার হাজার ১৪০ কোটি এবং বিডিবিএলের ৮৮৬ কোটি টাকা।

সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির পরিমাণও বিশাল, ২৬ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা।

মহাজোট সরকারের ১০ বছরে এর কোনোটিই না কমে বরং বেড়েছে। এই দুরবস্থার প্রেক্ষাপটেই অর্থমন্ত্রী আজ সরকারি ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বতনদের নিয়ে বসছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় ২০০ জনের মতো অংশগ্রহণকারীর আয়োজন করছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব কটি সরকারি ব্যাংক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বৈঠকে প্রতিবেদনগুলো উপস্থাপন করা হবে।

বৈঠকে খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা আসতে পারে। যেসব ব্যাংক ভালো করবে তাদের ম্যানেজমেন্টকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি খারাপ পারফরম্যান্সের ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

একটি ব্যাংকের ৯০ শতাংশের মালিক জনগণ। কিন্তু পরিচালনা বোর্ড ১০ শতাংশ মালিকের স্বার্থ রক্ষা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বৈঠকে এই বিষয়ও বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। ব্যাংকগুলো যাতে কোনো পরিচালক বা নির্বাহী কমিটির কোনো সদস্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে সে বিষয়েও বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে বৈঠকে। খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন টিম বৃদ্ধি এবং পরিদর্শন কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ বাড়ানোর নির্দেশনাও আসতে পারে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ কমাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি কিভাবে কাজ করবে সে সম্পর্কেও বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হতে পারে। সরকারি ব্যাংকগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ের আলোচনাও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা