kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

দিনরাত অবিরাম সংগ্রাম

আজাদুর রহমান চন্দন   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিনরাত অবিরাম সংগ্রাম

‘সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম/চলবেই দিনরাত অবিরাম’—এ রকম অনেক উদ্দীপনামূলক গান বেতারে টিভিতে প্রচারিত হচ্ছিল ১৯৭১ সালের মার্চের উত্তাল দিনগুলোয়। ১৭ মার্চও এর ব্যতিক্রম ছিল না। বরং তত দিনে বাংলার শিল্পী-সাংবাদিক-লেখকরাও রাজপথে শামিল, এমনকি তুলি হাতে চিত্রশিল্পীরাও। সংগত কারণেই একাত্তরের এই দিনে দৈনিক পূর্বদেশ শিরোনাম করেছিল ‘শিল্পীর তুলি বন্দুকের চেয়েও তীক্ষ’। চারু ও কারু শিল্পী সংগ্রাম পরিষদের আগের দিনের এক সভার ওপর ছিল প্রতিবেদনটি। একই দিনে দৈনিক সংবাদের শিরোনাম ছিল ‘বিক্ষুব্ধ শিল্পীসমাজ : শহীদ মিনারে গণনাট্য পরিবেশন’, ‘মহিলাদের কুচকাওয়াজ’।

একাত্তরের উত্তাল মার্চের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে  জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিল মুক্তিপাগল হাজারো বাঙালি। সেদিন দুপুরে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শুভেচ্ছা জানাতে সমবেত স্বাধীনতাকামী বাঙালির উদ্দেশে জন্মদিনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কামনা জনগণের সার্বিক মুক্তি।’

একাত্তরের এই দিনে পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। খোদ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় অবস্থান করে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে এ অংশে কার্যত পাকিস্তানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বঙ্গবন্ধুর ইশারায়ই চলছে সব কিছু। স্বাধীনতার প্রশ্নে বীর বাঙালির অকুতোভয় সংগ্রাম আর রণপ্রস্তুতিতে ইয়াহিয়ার বুঝতে বাকি থাকে না পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষা করা আর সম্ভব নয়। তাই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের পথ নেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। প্রতিটি বৈঠকেই বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন। ফলে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ভেতরে ভেতরে বাঙালি নিধনযজ্ঞ চালিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামকে ভণ্ডুল করার ছক কষতে থাকে। প্রতিদিনই পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সেনা, অস্ত্র ও সরঞ্জাম এনে মজুদ করা হচ্ছিল বাংলাদেশে।

মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠকের ওপর দ্য পিপল ১৭ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে শিরোনাম করেছিল ‘পাকিস্তান থাকবে কী থাকবে না সিদ্ধান্ত নিতে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক : বাংলাদেশের স্বাধীনতা একটি নিষ্পন্ন কার্য’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, “শেখ মুজিবুর রহমান গতকাল (১৬ মার্চ) পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল এ এম ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ঢাকার প্রেসিডেন্ট হাউসে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট হাউসের বাইরে এসে গাড়ি থামিয়ে কথা বলেন অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে। শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আগামীকাল সকাল ১০টায় পুনরায় আমরা মিলিত হব।’ আলোচনা বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল কি না জানতে চান একজন বিদেশি সাংবাদিক। শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘দয়া করে আর কোনো প্রশ্ন করবেন না’। এটা দু-তিন মিনিটের আলোচনার বিষয় নয়। আমি বলেছি আলোচনা চলতে থাকবে এবং আমরা পুনরায় আগামীকাল সকাল ১০টায় মিলিত হব।’ শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটি সকাল ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে।”

একাত্তরের এই দিনে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ছিল ‘ইয়াহিয়া-মুজিবের মধ্যে জাতির ভাগ্য নির্ধারণী আলোচনা শুরু’। পত্রিকাটির প্রথম পাতায় আরেকটি শিরোনাম ছিল ‘অসহযোগ আন্দোলনের পঞ্চদশ দিবসে বিক্ষুব্ধ ঢাকা নগরী’। নিচে ছিল চারু ও কারু শিল্পীদের মিছিলের তিন কলাম খাড়া ছবি।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা