kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্রেক্সিট পেছাতে সম্মত ব্রিটিশ এমপিরা

জুয়েল রাজ, লন্ডন   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রেক্সিট পেছাতে সম্মত ব্রিটিশ এমপিরা

দীর্ঘ বিতর্ক ও দুই দফা প্রধানমন্ত্রীর আনা প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পর আগামী তিন মাসের জন্য ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিতে সম্মত হয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপিরা। তবে এ জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনুমোদন লাগবে। এ সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্রেক্সিট পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে।

কনজারভেটিভ সরকারের আনা এই প্রস্তাব বৃহস্পতিবার ২১০ ভোটের বড় ব্যবধানে পাস হয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে ৪১২টি ও বিপক্ষে ২০২টি ভোট পড়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ব্রেক্সিট পেছাবে। তবে এ জন্য ২০ মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের ব্রেক্সিট পরিকল্পনাকে অনুমোদন দিতে হবে পার্লামেন্টেকে। তা না হলে আবার গভীর অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে ব্রেক্সিট।

২০ মার্চের মধ্যে চুক্তি অনুমোদিত না হলে সরকারকে আরো সময় বাড়াতে আবেদন করতে হবে। তবে ইইউকে এতে অবশ্যই রাজি থাকতে হবে। এর আগে আরো চারটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপিত হয় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবটি ছিল, ব্রেক্সিট পিছিয়ে দিয়ে আরো একটি গণভোট আয়োজন। এর পক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ৮৫টি। আর বিপক্ষে ভোট ৩৩৪টি। দ্বিতীয় সংশোধনীটি আনেন লেবার এমপি লুসি পাওয়েল। এটির বিষয় ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত ব্রেক্সিট পেছানো। এটি মাত্র তিন ভোটে হেরে যায় (পক্ষে ৩১১টি ও বিপক্ষে ৩১৪টি ভোট পড়ে)। এরপর ওঠে হিলারি বেনের বহুল আলোচিত পার্লামেন্ট নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সংশোধনীটি। এটি মাত্র দুই ভোটের ব্যবধানে হেরে যায়। প্রস্তাবটির পক্ষে ৩১৪ ও বিপক্ষে ৩১২টি ভোট পড়ে। ফলে অল্পের জন্য পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ থেকে যায় টেরেসা মের হাতেই। পরে এমপিরা লেবার পার্টির ফ্রন্ট বেঞ্চ সংশোধনীটি বাতিল করে দেন ১৬ ভোটে। এটি পাস হলে প্রধানমন্ত্রীর চুক্তি, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এবং নতুন কিছু করার জন্য ৫০

অনুচ্ছেদের সময়সীমা বাড়ানো প্রচেষ্টা বাতিল হয়ে যেত। তবে মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ২৯ মার্চ যুক্তরাজ্যের ইইউ ত্যাগের সম্ভাবনা খুব কম।

এর পরই পার্লামেন্টে বক্তৃতা দেন বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চুক্তি অথবা চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আর কার্যকরী কিছু নয়, এটা তাঁর মেনে নেওয়া উচিত। তিনি ব্রেক্সিটের তারিখ পরিবর্তনের জন্য আবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। এই ভোটাভুটি নিয়ে পার্লামেন্ট উত্তপ্ত থাকলেও প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে উপস্থিত ছিলেন না। টেরেসা মে এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর করা ব্রেক্সিট চুক্তি পাস করাতে আরো একটি ‘অর্থপূর্ণ ভোট’ আয়োজন করবেন। তিনি এমপিদের বলেন, তাঁর চুক্তিটি যদি আরো একবার এমপিদের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়, তবে ব্রেক্সিটে দীর্ঘ মেয়াদে দেরি হতে পারে। এ কারণে আগামী সপ্তাহেই তৃতীয় ভোট আয়োজন করতে চান তিনি।

এদিকে দ্বিতীয় গণভোটের দাবিতে অনেকেই আবার মত দিচ্ছে। তবে টেরেসা সরকার এখনই এটি গ্রহণে নারাজ। টেরেসার সহকারী, ক্যাবিনেট অফিস মন্ত্রী ডেভিড লিডিংটন বলেছেন, দ্বিতীয় গণভোট আবারও বিভেদ সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া আবার গণভোট করতে চাইলে ব্রেক্সিটে দেরি হবে। এর ফলে সৃষ্ট ক্ষতি সামাল দেওয়া যাবে না। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক ব্রেক্সিটের দীর্ঘ মেয়াদে সময়সীমা বাড়ানোর জন্য ইইউ নেতাদের আহ্বান জানাতে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, যত দেরি হবে ব্রেক্সিট বিষয়ে ওয়েস্টমিনস্টার তত ভালোভাবে গুছিয়ে উঠতে পারবে। টুইটারে নিজের এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন টাস্ক। এটি হলে ইইউ নির্বাচনের আগে ব্রেক্সিট না-ও সম্ভব হতে পারে।

ব্রেক্সিট প্রত্যাহার চুক্তির প্রধান বিষয় মূলত তিনটি, ইইউ ত্যাগের সময় যুক্তরাজ্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ইইউকে তিন হাজার ৯০০ কোটি ডলার দেবে, যুক্তরাজ্যের যেসব নাগরিক ইইউভুক্ত দেশগুলোতে রয়েছে তাদের এবং যুক্তরাজ্যে ইইউভুক্ত দেশগুলোর যেসব নাগরিক আছে তাদের কী হবে এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড রিপাবলিকের মাঝামাঝি ইইউ ও যুক্তরাজ্যের সীমানা কিভাবে নির্ধারণ হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা