kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

ছেলের হাত ভাঙা মামলার প্রতিশোধ বাবার পা গুঁড়িয়ে

যুবলীগ নেতার হুমকিতে মেয়ের পড়াও বন্ধ

শরীফ আহেমদ শামীম, গাজীপুর    

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




ছেলের হাত ভাঙা মামলার প্রতিশোধ বাবার পা গুঁড়িয়ে

যুবলীগ নেতা শহীদ মণ্ডলের কর্মীরা দুই পা গুঁড়িয়ে দিয়েছে রফিকুল ইসলামের। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছেলে উচ্চ মাধ্যমিকের (এইচএসসি) পরীক্ষার্থী সজীবের হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা করেছিলেন বাবা পোশাক কারখানার কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। এই মামলার ‘খেসারত’ তাঁকে দিতে হলো নিজের দুই পা দিয়ে। মামলার আসামি স্থানীয় যুবলীগ নেতা শহীদ মণ্ডলের কর্মীরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে তাঁর দুই পা। কারখানায় কর্মী ছাঁটাইয়ের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে গাজীপুর নগরের বাদে  কলমেশ্বর এলাকায়।

চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, রফিকুল ইসলামের (৪৬) দুই হাঁটুরই বাটি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়ায় আর কোনো দিন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবেন না তিনি।

হাড় জোড়া না লাগায় সজীব (১৭) পরীক্ষা দিতে পারবে কি না তারও নিশ্চয়তা নেই। এরই মধ্যে হামলাকারীদের হুমকিতে বন্ধ হয়ে গেছে একমাত্র মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী জেসমিনের স্কুলে যাওয়া। নিরাপত্তাহীনতায় ২৪ ঘণ্টাই ঘরের দরজা আটকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে পরিবারটিকে। অথচ এলাকায় থাকলেও পুলিশ আসামিদের ধরছে না।

আসামি শহীদ মণ্ডল আগে বিএনপির রাজনীতি করতেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দল বদল করেন। এখন তিনি গাছা থানা যুবলীগ সভাপতি পদপ্রার্থী।

রফিকুল জানান, তাঁর বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায়। তিনি ওই এলাকার ইস্টওয়েস্ট গার্মেন্টের একটি অংশের উত্পাদন ব্যবস্থাপক। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কারখানা কর্তৃপক্ষ শহীদ মণ্ডলের দুই ভাগিনা রবিউল ইসলাম রাহাত (২৪) ও রাসেল আহম্মেদসহ (২৭) কয়েকজন শ্রমিককে কারখানায় অনিয়ম ও সন্ত্রাসের অভিযোগে ছাঁটাই করে। এ ঘটনায় তাঁর ওপর দায় চাপায় শহীদ মণ্ডল ও তাঁর ভাগিনারা। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে তাঁর ছেলে সজীব বাসার কাছে খেলতে গেলে কথা আছে বলে নির্জনে ডেকে নিয়ে যায় রাহাত ও রাসেল।

‘তোর বাপেরা তো পাই না, তোরে সাইজ করমু’—বলেই তার ওপর দা, রড, চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। রড দিয়ে পিটিয়ে সজীবের বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়। কুপিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম এবং ইট দিয়ে পায়ের নক থেঁতলে অচেতন অবস্থায় তাকে ফেলে যায় তারা। এ ঘটনায় তিনি ১০ জনকে আসামি করে গাছা থানায় মামলা করেন।

রফিকুলের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে কারখানায় যাওয়ার পথে আসামিরা রাস্তার পাশে ফেলে ইটের ওপর হাঁটু রেখে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তাঁর স্বামীর দুই পা গুঁড়ো করে দেয়। তাঁর স্বামী হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিন বছর আগে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন বলে জানান তিনি।

হোসনে আরা বলেন, চিকিত্সার জন্য ধারদেনা করে ইতিমধ্যে তিন লাখ টাকা খরচ করেছেন। শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছেলের হাত আর স্বামীর পা গেল। অথচ ঘটনার ১৫-১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও কারখানার কেউ রফিকুলের খোঁজ নেয়নি। চিকিত্সার ব্যাপারেও এগিয়ে আসেনি। আসামিরা এলাকায় থেকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। একমাত্র মেয়েকে তুলে নিবে বলছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, শহীদ মণ্ডল ও তাঁর ভাগিনারা বাদে কলমেশ্বরের ভুসির মিল এলাকার বাসিন্দা। এলাকায় তারা সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। রাহাত ও রাসেল ছাড়াও শহীদের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত আল আমিন, জাহাঙ্গীর আলম, শাকিল, ফারুক, কাশেমসহ ১০-১২ জন। জমি ও বাড়ি দখল, গার্মেন্ট শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত।

গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ঘটনাটি এতটা অমানবিক তিনি আগে জানতেন না। জানার পর তিন-চার দিন আগে রফিকুল ইসলামের ভাড়া বাসায় গিয়ে বাবা-ছেলেকে দেখে এসেছেন।

আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে জানিয়ে ওসি বলেন, পরিবারটির নিরাপত্তার জন্য যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থা করছে পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা