kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস

দখলদার উচ্ছেদই নয়, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দখলদার উচ্ছেদই নয়, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি

দেশের নদ-নদী রক্ষায় সরকারের উচ্ছেদ অভিযান আর বিভিন্ন পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। বর্তমানে নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। শুধু এটা করলেই হবে না, দখলদারদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নদ-নদী রক্ষায় দরকার সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে দেশের নদ-নদী থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবিতে সাতটি স্থানে মানববন্ধন ও নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এর মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।

এ ছাড়া বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ তীরের ছয়টি স্থান—টঙ্গী ব্রিজ, চীন মৈত্রী সেতু-১ (পোস্তগোলা ব্রিজ), সদরঘাট, কামরাঙ্গীর চর ব্রিজ, শহীদ বুদ্ধিজীবী ব্রিজ (বছিলা) ও আমিনবাজার ব্রিজে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন করে উপমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ছোট বড় মিলিয়ে ৪৩০টি নদী রয়েছে। বর্তমানে অনেক নদী মরে গেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এরই মধ্যে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরীসহ বিভিন্ন নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলছে। নদী ও জলাশয় দখলদারদের তালিকা করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা ও থানা পর্যায়ের সব কার্যালয়কে এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।’

অন্য বক্তারা বলেন, নদী রক্ষায় হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। নদী বাঁচাতে হবে, নয়তো রাজধানীসহ দেশের পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে যাবে। নদীর ওপর অপরিকল্পিত ব্রিজ-কালভার্ট করার কারণে নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নয়ন সবাই চায়। উন্নত বিশ্বে উন্নয়ন করার ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিকল্পনা করা হয়, যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। কিন্তু এ দেশে উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্ষতির পাল্লা ভারী হয়ে যায়।

তাঁরা আরো বলেন, দখলদার নদী দখল করলেও দূষিত করছে কিছু অসচেতন মানুষ। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নদীগুলো ধ্বংসের মুখে যাওয়ার অন্যতম কারণ দূষণ। এমন কোনো পদার্থ নেই, যা নদীতে ফেলা হয় না। এ ছাড়া নদীর সীমানা নির্ধারণ করে নামফলক দিতে হবে। যারা নদী ইজারা (ঠিকাদারদের) দেয় তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ। সংবাদ সম্মেলনে আদি বুড়িগঙ্গা সম্পূর্ণ দখলমুক্ত ও খনন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের আইনগত ও প্রশাসনিক সামর্থ্য বৃদ্ধি, এর মধ্যে নির্মিত ভুল ওয়াকওয়ে অপসারণ করে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নদী তীর থেকে ১৫০ ফুট দূরে নতুন করে ওয়াকওয়ে তৈরিসহ বেশ কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের নদ-নদীর ওপর যে আক্রমণ তা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের নদীর ওপর হয় না। আজ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস। কিন্তু বাংলাদেশের নদীর দুরবস্থা দেখে এটিকে নদীর ‘শেষকৃত্য দিবস’ বললেও বেশি বলা হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা