kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

ব্রেক্সিট চুক্তি ফের প্রত্যাখ্যান ব্রিটিশ পার্লামেন্টে

বাকি আছে আর মাত্র ১৫ দিন, ছাড় দিতে নারাজ ইইউ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




ব্রেক্সিট চুক্তি ফের প্রত্যাখ্যান ব্রিটিশ পার্লামেন্টে

অচলাবস্থায় পড়া ব্রেক্সিট নিয়ে চরম রাজনৈতিক টানাপড়েন চলছে ব্রিটেনে। পার্লামেন্টে ব্রেক্সিটসংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে ভোটাভুটি চলছে টানা তিন দিন ধরে। তাই প্রতিবাদী বা সমর্থনকারীদের ভিড়ও বাড়ছে পার্লামেন্ট এলাকাতেই। গতকাল সেখানে এভাবেই ক্যামেরাবন্দি হন ব্রেক্সিটপন্থী ও বিরোধী দুই ব্রিটিশ। ছবি : এএফপি

সমঝোতার ভিত্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের হয়ে যেতে (ব্রেক্সিট) প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের আনা পরিমার্জিত চুক্তিটিও প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। গতকাল বুধবার চুক্তি ছাড়াই তারা ইইউ ছাড়তে চায় কি না সে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। ব্রেক্সিট কার্যকরের মাত্র ১৫ দিন আগে এই পরিস্থিতি ব্রিটেনকে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মঙ্গলবারের ভোটাভুটির পর ইইউ নেতারা আবারও দ্রুততার সঙ্গে এবং সমন্বিতভাবে তাঁদের হতাশার কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, এই ফলাফল নিয়ে তাঁদের ভয় থাকলেও ব্রিটিশ এমপিদের কাছ থেকে এটিই প্রত্যাশিত ছিল।

এই ফলের পর আবারও জানুয়ারি মাসের পরিস্থিতিতেই ফিরে গেছে ব্রিটেন। জানুয়ারির প্রথম ভোটের তুলনায় ব্যবধান কমলেও এবার ১৪৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন মে। গতকাল এমপিদের চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট চাইছেন কি না সে ব্যাপারে ভোট দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেও তাঁরা এ নিয়ে ভোট দিয়ে নেতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সামনে থাকা পথগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, ব্রেক্সিট কার্যকরের মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউয়ের কাছে আবেদন জানাতে হবে। সেই আবেদন জানানো হবে কি না সে ব্যাপারে পার্লামেন্ট ভোট দেবে আজ বৃহস্পতিবার।

মে গত মঙ্গলবার তাঁর আনা প্রস্তাব আবারও ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমনসে দেওয়া এক ভাষণে মূলত এই সংকটগুলো নিয়েই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘চুক্তি ছাড়াই ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভোট দেওয়া বা সময় বাড়ানো আমাদের সমস্যার সমাধান নয়। সময় বাড়িয়ে আমরা কী করতে চাই সে ব্যাপারে প্রশ্ন করবে ইইউ। এ প্রশ্নের জবাব এই হাউসকেই খুঁজে বের করতে হবে।’ ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া নিয়ে আইনের ধারার কথা উল্লেখ করে মে বলেন, ‘হাউস কি ৫০ নম্বর ধারা বাতিল করতে চায়, নাকি আরেকটি গণভোটের দিকে এগোতে চায়? নাকি তারা একটি চুক্তি নিয়েই এগোতে চায়, কিন্তু বর্তমানেরটি নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। প্রশ্নগুলো খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত, কিন্তু জবাবগুলো অবশ্যই খুঁজে পেতে হবে।’

জানা গেছে, ব্রেক্সিট আগামী ২২ মে পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে একটি প্রস্তাব গতকাল পার্লামেন্টে তোলার কথা ভাবছিলেন কয়েকজন এমপি। ওই সময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইইউ চায়, তার আগেই ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক। তাতে পরবর্তী অনেক জটিলতাই এড়ানো সম্ভব হবে। ব্রিটিশ এমপিরা আগামী ২২ মের মধ্যে ২০২১ সাল পর্যন্ত চলতে কয়েকটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির বিষয়ে ইইউয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। 

ব্রেক্সিট নিয়ে এ অচলাবস্থার জন্য ইইউ সরাসরি ব্রিটিশ পার্লামেন্টকেই দোষারোপ করেছে। তারা মনে করে, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। আলোচনা যখন শুরু হয় তখন থেকে এ পর্যন্ত কী ধরনের ব্রেক্সিট চুক্তি তারা চায় এ নিয়ে কখনো আলোচনা হয়নি। যদিও যেকোনো চুক্তির সারকথাটি সবারই জানা ছিল—এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এমপিরাই দেবেন। ইইউয়ের ব্রেক্সিটবিষয়ক প্রধান আলোচক মাইকেল বার্নিয়ার স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ব্রেক্সিট বিষয়ে ব্রাসেলস এরই মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ করেছে। ব্রাসেলসের পক্ষ থেকে এখন আর এ নিয়ে নতুন কিছু করার নেই। নতুন করে আলোচনা শুরুর কোনো ইচ্ছাও ব্রাসেলসের নেই। ব্রাসেলসকে এখন বিশৃঙ্খল ব্রেক্সিটের প্রস্তুতি নিতে হবে। এই অচলাবস্থার সংকট ব্রিটেনের। তাদেরই এই সংকটের সমাধান করতে হবে।’ একই অবস্থানে ফ্রান্সও। তারা যত দ্রুত সম্ভব ব্রেক্সিট সম্পন্ন দেখতে চায় এবং বর্তমান চুক্তিতেই। তবে জার্মানির কণ্ঠে ভিন্ন সুর। ব্যবসার কারণেই তারা কিছুটা নমনীয়। একটু ধীরগতিতে সময় নিয়েই এগোতে চায় তারা। জার্মানির ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল রথ বলেন, ‘ব্রিটেনকে স্পষ্ট করে বলতে হবে তারা কী চায়। আমরা আলোচনায় প্রস্তুত। কিন্তু ব্রিটেনের কাছ থেকে আমরা স্পষ্ট কোনো বার্তা পাচ্ছি না। তারা সর্বশেষ যে ছাড় চেয়েছিল তা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাধ্যের প্রায় শেষ সীমায় রয়েছি আমরা।’ 

আরেকটি প্রক্রিয়ায় এগোতে পারে ব্রিটেন। আগামী ২৩ থেকে ২৬ মে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ব্রিটেন সেই নির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারে। যদি ইইউয়ের সম্মতি পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে তারা আরো ২১ মাস সময় পেতে পারে। তাহলে ব্রিটিশ এমপিদের পছন্দ অনুযায়ী বর্তমান ৫৮৫ পৃষ্ঠার  ব্রেক্সিট চুক্তি বাতিল করে দিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।

এর আগে বর্তমান চুক্তিটি নিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি ভোট দেন ব্রিটিশ এমপিরা। সেবার লজ্জাজনকভাবে হেরে যান টেরেসা মে। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটও বাতিল করে দেয়। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।  

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা