kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

পশুপাখির খাদ্য ওষুধে ভেজাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পশুপাখির খাদ্য ওষুধে ভেজাল

কোনোটির গায়ে কোরিয়ার খ্যাতনামা ডাউ ওয়ান কম্পানির লেবেল, কোনোটিতে লেখা ইউএসএ বা ভারত। সাধারণভাবে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে এগুলো পুরোটাই নকল। পুরান ঢাকা থেকে আনা কেমিক্যালের সঙ্গে নানা সলিউশন মিশিয়ে ঘরোয়াভাবে গাজীপুরেই তৈরি হচ্ছিল পোল্ট্রি, ফিশারি ও গবাদি পশুর এসব ভিটামিন, টিকা ও অ্যান্টিবায়োটিক। এমনকি বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ডের পশু-পাখির খাবার।

গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গত মঙ্গলবার থেকে টানা ২৫ ঘণ্টার অভিযানে সদর থানার হাতিয়াব এলাকার ‘ইউলিট্স’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে জব্দ করেছে বিপুল পরিমাণ এই ভেজাল ওষুধ ও খাবার। এসবের বাজারমূল্য তিন কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি চটকদার লেবেল, প্যাকেট ও বোতলে এসব ভেজাল ওষুধ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে আসছিল।

গতকাল বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অভিযানে নেতৃত্বদানকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরকার। তিনি জানান, অভিযানকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। তাঁরা হলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সুজন ও দীপক রেসা, শেরপুরের শ্রীবরদীর রাজিউস ও পাবনার সুলতান মাহমুদ। তাঁরা সবাই কারখানার তথাকথিত কেমিক্যালম্যান। 

ড. রুহুল আমিন জানান, গাজীপুর সদরের হাতিয়াব এলাকায় গোডাউন ভাড়া নিয়ে প্রাণিজ ভেজাল ওষুধ ও খাবারের কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছিল। কাগজপত্রে ইউলিট্স লিমিটেডের ঠিকানা ঢাকার পান্থপথ লেখা থাকলেও গাজীপুরের কারখানায় তৈরি হচ্ছিল এসব ভেজাল ওষুধ ও খাবার। এখানে কৃত্রিম ভিটামিন ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে গোখাদ্য ও মৎস্য খাদ্য তৈরি করা হচ্ছিল। প্রতারকরা এর পাশাপাশি নিম্নমানের কেমিক্যালের সঙ্গে নানা মিশ্রণ দিয়ে পোল্ট্রি ও মৎস্য খাদ্য, গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ ইঞ্জেকশন, পোল্ট্রি ভ্যাকসিন, অ্যান্টিবায়োটিক, ভিটামিন, প্রোটিন এবং নানা প্রকার ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরি করছিল। এমনকি অ্যান্টিবায়োটিক সিপ্রোসিন ইনজেকশন নিজেরাই উৎপাদন ও বাজারজাত করলেও কারখানায় কোনো কেমিস্ট পাওয়া যায়নি। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ইউলিট্স নামের প্রতিষ্ঠানটির কোরিয়া থেকে এক লিটার বোতলের টিলমারু সলিউশন (প্রোটিন) আমদানির অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু তারা এক বোতলও আমদানি না করে পুরান ঢাকা থেকে ৫০০ মিলিগ্রামের বোতল কিনে এনে নিজেরাই ওই সলিউশন তৈরি করে মেড ইন কোরিয়া লিখে বাজারজাত করছিল। তা ছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা কেমিক্যাল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসতবাড়িতে রাখা হয়েছিল। মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণের ইঞ্জেকশন, মাছ দ্রুত বড় হওয়ার খাবার, পশুখাদ্যে মিশ্রণের জন্য সাপ্লিমেন্ট ভিটামিন, অ্যালকোহল, পোল্ট্রি মুরগির ওজন বাড়ানোর জন্য সিনথেটিক নিউট্রিয়েন্ট তৈরি করা হচ্ছিল এই কারখানায়। এসব ভেজাল ওষুধ ও ভিটামিন বাজারজাত করার সময় এগুলোর গায়ে কোরিয়া, ইউএসএ ও ইন্ডিয়ার নামে লেবেল লাগানো হতো।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা