kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

বিবিএসের প্রাক্কলন

জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে রেকর্ড ৮.১৩%

মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১৯০৯ ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে রেকর্ড ৮.১৩%

বর্তমান সরকারের টানা দুই মেয়াদে (২০০৯-১৮) মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬-এর বৃত্ত ছেড়ে ৭ শতাংশও পেরিয়ে গেছে। টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই জানা গেল, প্রবৃদ্ধি এবার ৮ শতাংশ ছাড়াবে। পাশাপাশি বছর শেষে মাথাপিছু জাতীয় আয় দাঁড়াবে এক হাজার ৯০৯ ডলার। এমন আভাস বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)।

সংস্থাটি বলছে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৮.১৩ শতাংশ। এবারই প্রথমবারের মতো প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ঘর ছাড়াতে যাচ্ছে। অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিবিএস জিডিপির এই তথ্য প্রাক্কলন করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে বিবিএসের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, গত অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭.৮৬ শতাংশ। এবার তা বেড়ে ৮.১৩ শতাংশ হতে পারে। টাকার অঙ্কে জিডিপির আকার দাঁড়াবে ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ কোটি। আগের বছর তা ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা।

রাজধানীর শেরেবাংলানগরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীসহ অন্যরা।

এদিকে বিবিএসের দেওয়া তথ্য মতে, জিডিপির প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মাথাপিছু জাতীয় আয়ও বেড়েছে। বছর শেষে তা এক হাজার ৯০৯ ডলার (এক লাখ ৬০ হাজার ৩৫৬ টাকা) হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করেছে বিবিএস। অর্থাৎ ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে একেকজনের বার্ষিক আয় হতে পারে এক লাখ ৬০ হাজার ৩৫৬ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৫৮ ডলার।

তবে বিবিএসের এই প্রাক্কলন বাড়তেও পারে আবার কমতেও পারে। কারণ এখন যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা আট মাসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে। পুরো বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত তথ্য দেওয়া হবে অর্থবছর শেষে।

মূলত সেবা খাতের ওপর ভর করে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ঘর ছাড়াবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৬.৫০ শতাংশে উন্নীত হবে। আগের বছর তা ছিল ৬.৩৯ শতাংশ। বিবিএসের তথ্য বলছে, এই সময়ে কৃষি ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হবে না।

মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, জিডিপির অনুপাতে এ বছর বিনিয়োগ হবে ৩১.৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি খাতে ৮.১৬ শতাংশ এবং বেসরকারি খাতে ২৩.৪০ শতাংশ। অন্যদিকে আগের বছর মোট বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ৩১.১৩ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরে বিনিয়োগ বেড়েছে দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ কম হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছর থেকে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ আকর্ষণে যত ধরনের প্রণোদনা দেওয়া দরকার, আমরা তা-ই করব। আমার বিশ্বাস তারা আসবে।’

প্রবৃদ্ধি বাড়ার কারণ হিসেবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি আয় বেড়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ কিছুটা বেড়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের আয়ও বেড়েছে। সেবা খাত প্রসারিত হয়েছে। এসব কারণে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে।’ আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রবৃদ্ধির হার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছবে বলে জানান তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আট মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা