kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধলেশ্বরী দখলদার তালিকা হাইকোর্টে দাখিল

নির্দেশনার অপেক্ষায় মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ ও মোবারক হোসেন, সিংগাইর   

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধলেশ্বরী দখলদার তালিকা হাইকোর্টে দাখিল

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা হয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদীর জমি দখলকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানসহ ৩৭ জনের তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে। তারা প্রায় ৩০ একর জমি দখল করে রেখেছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন তালিকাটি দাখিল করে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে উচ্চ আদালতের কাছ থেকে আর কোনো নির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পঙ্কজ ঘোষ তালিকা দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাইকোর্টের পরবর্তী কোনো নির্দেশনা আমরা এখনো পাইনি। নির্দেশনা পেলেই সে মোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

গত বছরের ২৩ অক্টোবর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই তালিকা দাখিল করার নির্দেশ দেন।

ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল, ১৯৯০ অনুযায়ী নদীর দুই তীরের যে অংশ শুষ্ক মৌসুমে চর পড়ে বা জেগে ওঠে এবং বর্ষ মৌসুমে ডুবে যায় তাকে ফোরশোর বলা হয়। কেউ এই ফোরশোর দখল করলে তাকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা তিল্লি ইউনিয়ন থেকে সিংগাইরের ধল্লা পর্যন্ত ধলেশ্বরী নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার। এই ৬০ কিলোমিটারের অসংখ্য স্থানে ফোরশোর দখল হয়ে গেছে।

সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল ধল্লা মৌজায় ৩৭ জন অবৈধ দখলদারের কবলে রয়েছে ধলেশ্বরীর প্রায় ৩০ একর জমি। দখলদারদের নাম, ঠিকানা এবং দখল করা জমির পরিমাণ উল্লেখ করে তালিকা পাঠানো হয়। এর আগে গত বছর ফোরশোরে অনুপ্রবেশ, মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে ঢাকা নর্দান পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের নির্মাণাধীন একটি বিদ্যুেকন্দ্রের নামে মামলা হয়েছে। বিবাদী করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোস্তফা মঈন, ব্যবস্থাপক আশিকুছ ছালাম, সিংগাইর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শহিদুর রহমান ও জামির্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হালিমকে।

জানা গেছে, সিংগাইর উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদীতে চর জেগে উঠলে গত ১৯৮৬-৮৭ সালে চাষাবাদের জন্য কয়েকজন ভূমিহীনকে ১৫ বছর মেয়াদি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। পরবর্তী সময় তাদের কেউ কেউ বন্দোবস্ত পাওয়া জমি নামমাত্র টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালীদের কাছে হস্তান্তর করে। আবার অনেকের জমি দখল করে নেয় প্রভাবশালীরা। মূলত এই প্রভাবশালীরাই পরবর্তী সময়ে ওই সব জমি মাটি ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা শুরু করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে সিংগাইর উপজেলা কৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটির এক সভায় বন্দোবস্ত দেওয়া ২৯৭টি কেস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এসংক্রান্ত চিঠিতে মানিকগঞ্জের তত্কালীন জেলা প্রশাসক মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ মন্তব্য করেন, সংশ্লিষ্ট সব জমি বছরের অধিকাংশ সময় ধলেশ্বরী নদীর পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এখানে স্থাপনা গড়ে তুললে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে যা পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। নদী তথা পরিবেশ রক্ষায় তিনি ওই ২৯৭টি বন্দোবস্ত কেস বাতিলের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। এরপর থেকে ধল্লা মৌজার বন্দোবস্ত দেওয়া খাসজমি হস্তান্তর, নামজারি, খাজনা গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিন্তু কাগজে-কলমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কোনো কিছুই থেমে থাকেনি। নোটিশ দেওয়া হয়েছে, বাধা দেওয়া হয়েছে কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করলেও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত বছরের ২৬ জুন মানিকগঞ্জ জেলা নদীরক্ষা কমিটির এক সভায় উপস্থিত ছিলেন নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। সে সময় তিনি ধলেশ্বরী নদী দখলদারদের তালিক তৈরি এবং সীমানা পিলার স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে যান। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে দখলদার একটি অংশের তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা