kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুলতান মনসুরের শপথ গ্রহণ, শুরু ধানের শীষের প্রতিনিধিত্ব

বহিষ্কার করল গণফোরাম এমপি পদ থাকবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সুলতান মনসুরের শপথ গ্রহণ, শুরু ধানের শীষের প্রতিনিধিত্ব

নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগেই সংসদ ভবনের স্পিকারের দপ্তরে পৌঁছান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। শপথ অনুষ্ঠানের সব আয়োজন আগেই ছিল। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও প্রধান হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন অপেক্ষায় ছিলেন। একসময়কার তুখোড় এই ছাত্রনেতা পৌঁছানোর পর শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে শুরু হয় আড্ডা, চলে স্মৃতিচারণা। ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মনসুর একপর্যায়ে বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। বিশেষ দিন হওয়ায় এই দিনে আমি শপথ নিতে চেয়েছি। এই দিনে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এখনো উদ্বেলিত করে। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘কত হাজারবার শুনেছি বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ। তার পরও ভাষণটা পুরনো মনে হয় না।’ তাঁর সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন স্পিকারসহ অন্যরা। ১১টা বাজতে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথ গ্রহণ শেষে চা-নাশতার সঙ্গে নানা কথোপকথন শেষে একাদশ সংসদের ধানের শীষের একমাত্র প্রতিনিধি সংসদ সচিবের কক্ষে গিয়ে নির্ধারিত বইয়ে স্বাক্ষর করেন ও ছবি তোলেন।

গতকালই গণফোরামের প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খানের শপথ গ্রহণের কথা থাকলেও তিনি শপথ নেননি। তিনি আগের দিন চিঠি দিয়ে শপথ না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, তিনি (মোকাব্বির) এই মুহূর্তে শপথ নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। পরে শপথ গ্রহণের সময় জানাবেন বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

শপথ শেষে সংসদ থেকে বেরিয়ে ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফ্রন্টের শীর্ষ নেতাকে জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন এমপি হিসেবে আমার দায়িত্ব হচ্ছে সংসদীয় এলাকার জনগণের পক্ষে কথা বলা। সংসদ নির্বাচনে যখন অংশগ্রহণ করেছি স্বাভাবিক কারণেই সংসদে এসে কথা বলাই প্রধান কাজ।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের রাজনীতির শিক্ষাগুরু হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তিনি যা ওয়াদা করতেন, তা রক্ষা করতেন। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী। বঙ্গবন্ধুর কর্মী হিসেবে আমি ৩০ ডিসেম্বরের পর জনসমক্ষে বা গণমাধ্যমে যা বলেছি, তাই কার্যকর করেছি।’

ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে দল বা জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই সরকারি দলের প্রতিনিধিত্ব করছি না। ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেছি। অনেকেই জানেন না এই ধানের শীষ বা ধানের ছড়া একসময় ছিল মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানির ন্যাপের মার্কা। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এই মার্কা হয়েছে বিএনপির। এখন হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মার্কা। আমি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন নীতিনির্ধারক হিসেবে সেই ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচন করেছি।’

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সংসদে যোগ দেওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করেছে গণফোরাম। ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বিকেলে মতিঝিলে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। মন্টু বলেন, সুলতান মনসুর গণফোরামের গণমুখী নীতি-আদর্শের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী কাজ করেছেন। ‘আমরা সুলতান মনসুরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করছি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করলে, আমরা সেটা পরবর্তিতে করব। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পদ থেকেও তাঁকে অব্যাহিত দেওয়া হয়েছে।’ মনসুরকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক দেওয়াটা ভুল ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্টু বলেন, ‘কেউ তো আর আগে থেকে বুঝতে পারে না কার মনে কী আছে। আমরা তাঁকে ঠিক চিনে উঠতে পারিনি।’ সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম নেতা মোশতাক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম পথিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুলতান মনসুর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তারা দল হিসেবে সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকুন, আমার ভূমিকার অপেক্ষায়ও থাকেন। স্পিকার ৭০ অনুচ্ছেদ মেনেই শপথ পাঠ করিয়েছেন।’ দল বহিষ্কার করলেও তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এমপি পদ যাবে না আভাস দিয়ে বলেন, ‘আমি একজন সাবেক ও বর্তমান এমপি হিসেবে ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা জানি।’ তিনি ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী বাকি সাতজনকে শপথ নিয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে জনগণের দাবি নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানান।

দল থেকে বহিষ্কার হওয়াতে সুলতান মনসুরের সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’ এর আলোকে বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদল থেকে পদত্যাগ বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তবেই আসন শূন্য হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা