kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হলেই ভোট, বাইরের শিক্ষার্থীরা শঙ্কায়

রফিকুল ইসলাম   

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হলেই ভোট, বাইরের শিক্ষার্থীরা শঙ্কায়

আর মাত্র তিন দিন পর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রায় তিন দশক ধরে অচল থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এ নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও নিজেদের স্বাধীন মত প্রকাশ ও সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে অনেক শিক্ষার্থীর। হল ও ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য, বাম ধারার কয়েকটি সংগঠন ছাড়া অন্য সংগঠনের সহাবস্থান না থাকা এবং তীব্র আপত্তির পরও হলের মধ্যে ভোটকেন্দ্র রেখেই নির্বাচন বিশেষ করে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানকারী অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের শঙ্কার কারণ হয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই জানা গেছে।

‘হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হলে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হতো। কারণ যারা হলে থাকে আর যারা বাইরে থাকে তাদের সুযোগ-সুবিধা ভিন্ন রকম। হলে থাকা শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতির দোহাই দিয়ে সবখানে প্রভাব বিস্তার করে, হুমকি-ধমকি আর মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ক্ষেত্রে ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনা বা সমস্যায় পড়তে পারে—এ জন্য অনেকে ভোট দিতে নাও আসতে পারে’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লাস বাসে চলাচলকারী ও বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত এক বিভাগের শিক্ষার্থী কালের কণ্ঠকে বলেন কথাগুলো। সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে উত্তরা রুটে চলাচলকারী ক্ষণিকা বাসে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছে অনেক সময় হুমকি-ধমকি খেতে হয়েছে। হলে ভোট দিতে গেলেও কতটা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়া সম্ভব হবে সেটা প্রশ্নের বিষয়।’

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও বাম জোট সমর্থিত সহসভাপতি প্রার্থী লিটন নন্দী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের শঙ্কা চিন্তা করেই হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন সে বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। হলের বাইরের অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর, তাদের নিশ্চিতে বা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই হবে।’

কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্মের সহসভাপতি প্রার্থী নুরুল হক নূর বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছে। কাজেই সুষ্ঠু ও সার্থক আয়োজন না হলে অধিকার ফিরে পাওয়া সফল হবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ অনাবাসিক। প্রতিবছর যে পরিমাণ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, সে তুলনায় প্রতিটি হলের সিট ফাঁকা হয় না। আবার অনেকের ছাত্রত্ব শেষ হলেও বছরের পর বছর অবৈধভাবে অবস্থান করে। এতে নতুন ভর্তি শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ভোটে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু তাদের ভোট দিয়ে আসার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। হল ও ক্যাম্পাসে একক সংগঠন হিসেবে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকলেও বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রায় সময় মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় গোপনে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে রয়েছে হলের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। আর এ জন্য হলের শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বন্ধু হিসেবে পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছে তারা। পাশাপাশি অনাবাসিক ভোট টানতে দিন-রাত ক্যাম্পাস চষে বেড়াচ্ছেন ছাত্রলীগের সম্মিলিত শিক্ষার্থী পরিষদ মনোনীত প্রার্থীরা। তাদের টানতে নানা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন তাঁরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা