kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বমহিমায় উদ্ভাসিত ৭ বিচারপতি

এম বদি-উজ-জামান    

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



স্বমহিমায় উদ্ভাসিত ৭ বিচারপতি

তাঁরা সাতজন স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। নিজেদের মেধা, প্রজ্ঞা দিয়ে তাঁরা বিচারাঙ্গনের মতো কঠিন জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা হলেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সাত নারী বিচারপতি।

তাঁদের মধ্যে বিচারপতি জিনাত আরা আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি ছয়জন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি। তাঁরা হলেন বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ, বিচারপতি কাশেফা হোসেন ও বিচারপতি ফাতেমা নজীব।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা এখন ৯৯ জন। হাইকোর্ট বিভাগে দায়িত্ব পালন করা নারী বিচারপতিদের মধ্যে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ছাড়া বাকিরা পাঁচজন স্ব স্ব বেঞ্চের নেতৃত্বদানকারী বিচারপতি। এর মধ্যে বিচারপতি কাশেফা হোসেন একক বেঞ্চে আছেন।

আপিল বিভাগের বিচারপতি জিনাত আরা ৪০ বছর ধরে বিচার বিভাগে রয়েছেন। আর বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী হাইকোর্ট বিভাগের ৯২ জন বিচারপতির মধ্যে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

উচ্চ আদালতে তাঁদেরও একজন অগ্রজ ছিলেন। তিনি এখন অবসরে। তিনিই ছিলেন দেশের প্রথম নারী বিচারক ও বিচারপতি। তিনি বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

বিচারপতি জিনাত আরা

বিচারপতি জিনাত আরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি হার্ভার্ড ল স্কুল ও ক্যামব্রিজ থেকে সার্টিফিকেট কোর্স করেন। বিচারপতি জিনাত আরা ১৯৭৮ সালের ৩ নভেম্বর বিচার বিভাগে মুনসেফ হিসেবে চাকরি শুরু করেন। এরপর ১৯৯৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে তিনি পদোন্নতি পান। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন। ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্টের বিচারপতি পদে নিয়োগ পান। এরপর গত বছরের ৯ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এর মধ্য দিয়ে আপিল বিভাগে দ্বিতীয় নারী বিচারপতি হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী

বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর বাবা সাবেক বিচারপতি এ টি এম মাসুদ। ১৯৮১ সালের ২২ আগস্ট তিনি ঢাকা জেলা জজ আদালতে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৮৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯৬ সালের ১৪ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তাঁকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দুই বছর পর ২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব

বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের বাবা সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম পাসের পর ১৯৯২ সালে জেলা আদালতে আইন পেশা শুরু করেন। তিনি ১৯৯৪ সালের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টে এবং ২০০২ সালের ১৫ মে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন। ২০০৬ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে পূর্ণাঙ্গ বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

বিচারপতি নাইমা হায়দার

বিচারপতি নাইমা হায়দার সাবেক বিচারপতি মরহুম বদরুল হায়দার চৌধুরীর মেয়ে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশুনা করেন। এ ছাড়া কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কেল বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে জেলা আদালতে আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৯৩ সালে হাইকোর্টে আইনজীবী এবং ২০০৪ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি ২০০৯ সালের ৬ জুন হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১১ সালের ৬ জুন হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে লেখাপড়া সম্পন্ন করার পর মুনসেফ হিসেবে ১৯৮১ সালের ৮ ডিসেম্বর বিচার বিভাগে যোগদান করেন। এরপর ১৯৯৮ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। এর দুই বছর পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

বিচারপতি কাশেফা হোসেন

বিচারপতি কাশেফা হোসেনের বাবা মরহুম বিচারপতি মোহাম্মদ হোসেন। তিনি ইংরেজি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। এ ছাড়া লন্ডনেও একই বিষয়ে পড়াশুনা করেন। এরপর ১৯৯৫ সালে জেলা আদালতে আইন পেশায় যোগ দেন। পরে ২০০৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান কাশেফা হোসেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা