kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

নাইকো দুর্নীতি মামলায় হাজির

খালেদা বললেন শরীরটা ভালো যাচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালেদা বললেন শরীরটা ভালো যাচ্ছে না

ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, তাঁর শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। গতকাল রবিবার নাইকো দুর্নীতি মামলায় তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এ কথা বলেন।

গতকাল নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ছিল। পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দীন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এ মামলার বিচার চলছে। বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান শুনানি গ্রহণ করছেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। দুটি দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন। তাঁকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারেই রাখা হয়েছে। তাঁকে হুইলচেয়ারে করে আদালতে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ।

আদালতে প্রবেশের সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোশাররফ হোসেন কাজল খালেদা জিয়াকে সালাম দেন। মির্জা ফখরুল তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘ম্যাডাম কেমন আছেন?’ উত্তরে খালেদা জিয়া বলেন, ‘ভালো নেই, শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।’

এরপর ১২টা ৩৫ মিনিটে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযোগ গঠনের শুনানিতে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে এই মামলার আসামি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলাম এবং আরেক আসামি সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনের পক্ষে তাঁদের আইনজীবীরা শুনানি করেন। তাঁদের পক্ষে শুনানি শেষে মামলার আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আবারও শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘মামলায় আমার বিষয়ে কোনো কিছু নেই। নেই কোনো দলিল, সাক্ষী বা কোনো কাগজ। আমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে শুধু মতামত দিয়েছি, যা সব সরকারের আমলে দেওয়া হয়। খালেদা জিয়াও নিয়ম অনুযায়ী স্বাক্ষর দিয়েছেন। আগের প্রধানমন্ত্রী, জ্বালানি সচিবও এ কাজ করেছেন, যা চার্জশিট দেখে প্রতীয়মান হয়। তাই খালেদা জিয়াসহ সব আসামির অব্যাহতি চাচ্ছি।’

মওদুদের শুনানি শেষে বিচারক খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বলেন, ‘আপনাদের অন্য দরখাস্তের বিষয়ে বলেন।’ তখন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়ে একটি আবেদন করেছি। আদালত এ বিষয় কোনো আদেশ এখনো দেননি। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পাঁচ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম খালেদা জিয়াকে দেখেন। তার পরের দিন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার প্রয়োজন মর্মে একটি প্রতিবেদন দেন।’ আইনজীবী বলেন, সব মিলে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা আগে প্রয়োজন। পরে বিচারের ব্যবস্থা।

আদালত বলেন, চিকিৎসার বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। নিম্ন আদালত কী করতে পারে? তখন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ বলেন, ‘আপনি কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিতে পারেন।’

অভিযোগ গঠন বিষয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানির বিষয়টি আদালত উল্লেখ করলে আইনজীবীরা বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাইনি। কাগজপত্র হাতে পেলে শুনানি করা সম্ভব হবে।’ পরে আদালত আগামী ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা