kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘বন্দুকযুদ্ধে’ বদির আত্মীয়সহ ৪ ইয়াবা কারবারি নিহত

মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলি নিহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘বন্দুকযুদ্ধে’ বদির আত্মীয়সহ ৪ ইয়াবা কারবারি নিহত

ছবি কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির নিকটাত্মীয়সহ চার ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার আব্দুল জলিল ওরফে জানে আলমের ছেলে নজির আহমদ ও মো. জাকারিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দীন। প্রায় একই সময় সাবরাং এলাকায় বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় দুই ইয়াবা কারবারি। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, নজির আহমদ টেকনাফের সশস্ত্র ডাকাতদলের সর্দার রোহিঙ্গা আব্দুল হাকিম ওরফে হাকিম ডাকাতের ছোট ভাই। সাবেক সংসদ সদস্য বদির মামাতো ভাই মো. জাহাঙ্গীরের জামাতা নজির আহমদ হাকিম ডাকাতদলের অন্যতম সদস্য এবং সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি। হাকিম ও নজির ডাকাত টেকনাফ সদর ইউপির মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি।

স্থানীয়রা জানায়, উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির জামাতা পরিচয়ে নজির ও তার বড় ভাই হাকিম এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, নিহত রোহিঙ্গা নজির ডাকাত বদির ছোট ভাই ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডন মৌলভি মুজিবুর রহমানের ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য।

স্থানীয়রা আরো জানায়, রোহিঙ্গা আব্দুল জলিল ওরফে জানে আলমের পরিবারটি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এলে সে সময় আব্দুর রহমান বদি তাদের টেকনাফে আশ্রয় দেন। জানে আলমের ছয় সন্তানের মধ্যে বড় আব্দুল হাকিম ওরফে হাকিম ডাকাত ও নজির ডাকাতকে নিজের কাজে ব্যবহার করতেন বদি।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস জানান, হোয়াইক্যং বটতলী এলাকায় ইয়াবা বিক্রির খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। ইয়াবা কারবারিরা পুলিশ দেখে অতর্কিত গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে ইয়াবা কারবারিরা পিছু হটলে পুলিশ ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে ছয় হাজার পিস ইয়াবা, তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, চার রাউন্ড কার্তুজ ও ২৩টি গুলির খোসা পাওয়া যায়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত দুজনই তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি।

এদিকে টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আছাদুদ জামান চৌধুরী বলেন, সাবরাং ইউপির পুুরাত মগপাড়া এলাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান বাংলাদেশে ঢুকতে পারে এমন গোপন খবর পেয়ে গতকাল ভোরে বিজিবির টহল দল সেখানে অভিযানে যায়। এ সময় মগপাড়া কাঁকড়া প্রজেক্ট এলাকায় ওৎ পেতে থাকা ইয়াবা পাচারকারিরা বিজিবি টহল দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালালে পাচারকারীরা পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে অচেনা দুই ব্যক্তির মৃতদেহ পাওয়া যায়। তিনি জানান, বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে এক লাখ পিস ইয়াবা, একটি বন্দুক ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগরে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নৌ ডাকাত সেলিম (৪২) নিহত হয়েছে। এ সময় অপর দুই-তিন ডাকাত পালিয়ে যায়। গতকাল সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ দুটি রামদা ও একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি টহল দল সিরাজদিখানের সৈয়দপুর বাজারে ফুলহার চরসংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর কাছে পৌঁছলে তাদের লক্ষ্য করে ডাকাতরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলির একপর্যায়ে সেলিম গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। অন্যরা পালিয়ে যায়। সেলিম কেরানীগঞ্জের সোনাকান্দা গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেন মেম্বারের ছেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা