kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানি

বিচার করার ক্ষমতা আমাদের নেই : ড. কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিচার করার ক্ষমতা আমাদের নেই : ড. কামাল

ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী-কর্মী-সমর্থকরা ঢাকায় ‘গণশুনানি’তে অংশ নিয়েছেন। ভোটের দিনে তাঁদের অভিজ্ঞতার তথ্য তুলে ধরেছেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্যানেলের সামনে। গণশুনানি শেষে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, তাঁরা বিচারক নন। বিচার করার ক্ষমতা তাঁদের নেই। বিচার হবে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে। অন্যদিকে শুনানিতে নির্বাচন বাতিল ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবিতে কঠোর কর্মসূচি দিতে শীর্ষ নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী মিলনায়তনে এই গণশুনানি চলে। ‘একাদশ জাতীয় সংসদের তথাকথিত নির্বাচনের ওপর গণশুনানি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উঠে আসে।

শুনানিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৩০০ প্রার্থীর মধ্যে ৪২ জন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। মঞ্চে বিচারক হিসেবে ড. কামাল হোসেন ছাড়াও ছিলেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, সাবেক বিচারক সাকম আনিসুর রহমান খান ও অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ।

গণশুনানি শুরুর আগে পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুনানিতে মিলনায়তন প্রার্থী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ ছিল। গণশুনানিতে মির্জা ফখরুল ও ড. আবদুল মঈন খান ছাড়া স্থায়ী কমিটির অন্য কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁদের কাউকে দেখা যায়নি। ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক অলি আহমদসহ শরিক নেতাদের অধিকাংশই ছিলেন অনুপস্থিত ছিলেন।

আট ঘণ্টা শুনানির শেষে ড. কামাল বলেন, ‘আজকে এই শুনানিতে আমরা বুঝতে পেরেছি, এটা কোনো নির্বাচন হয়নি। ৪২ জনের কথা শোনার পর আমরা বলতে পারি—এটাকে নির্বাচন বলা যায় না, এটাকে বলা যেতে পারে সরকার একটা প্রহসন করেছে। সংবিধান অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার মালিক জনগণ। তাদেরকে মালিকানা থেকে বঞ্চিত করা, এর চেয়ে বড় অপরাধ কিছু হতে পারে না। এটাকে আমি বলব, স্বাধীনতার ওপর আঘাত হচ্ছে।’

গণশুনানিতে বিএনপির আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, নিতাই রায় চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, হাবিবুর রহমান তালুকদার, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, এস এম আকরাম, গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

টাঙ্গাইল-৮ আসনে ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী গণশুনানিতে বলেন, এবার বাংলাদেশে ভোট হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের আগের দিন।

যশোর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমার ওপর তিন দফা বোমা হামলা, গুলিবর্ষণ ও আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ভোটের দিনও হামলায় আমি আহত হয়েছিলাম।’

হবিগঞ্জ-১ আসনের রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমার হবিগঞ্জ-বাহুবল নির্বাচনী এলাকায় ভোটের আগেই নেতাকর্মী-সমর্থকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এক নেতাকে না পেয়ে তাঁর ১৬ বছরের ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে।’

গাজীপুর-৩ আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার নিজের নামের স্কুলের কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা রিটার্নিং অফিসার খুলে ফেলেছেন।’

লালমনিরহাট-৩ আসনের আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আমার এলাকায় ভোটের আগের দিন রাত ১টা থেকে ব্যালট নিয়ে সিল মেরেছে।’

কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আমসা আমিন বলেন, ‘ভোটের আগের দিন কুড়িগ্রাম শহরে আমার বাসার সামনে পুলিশের চৌকি বসিয়েছিল, যাতে কেউ বাসায় আসতে না পারে।’

ঢাকা-৬ আসনে গণফোরামের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আমার এখানে ৯৮টি সেন্টার ছিল, সব কেন্দ্রে এজেন্ট দিলেও কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি।’

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রার্থী আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব বলেন, ‘আমরা যারা ভোট করেছি তাদের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বর নাগরিকরা অপমানিত হয়েছেন।’

নোয়াখালী-২ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘আমি বিনয়ের সঙ্গে মহাসচিবকে বলতে চাই, আর সহ্য হচ্ছে না মাননীয় মহাসচিব। শেষ প্রস্তাব দিয়ে যাই, আজকে গণশুনানি। প্রয়োজনে কৌশলে আমরা কোথাও ভুল করেছি কি না দলের জন্য একটু শুনানি করা প্রয়োজন।’

শুনানিতে প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী (মাগুরা-২), মিজানুর রহমান মিনু (রাজশাহী-২), জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২), ফজলুর রহমান (কিশোরগঞ্জ-৪), নির্বাচনের সময়ে কারাগারে থাকা খায়রুল কবীর খোকন (নরসিংদী-১), শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি (লক্ষ্মীপুর-৩), রুমানা মাহমুদ (সিরাজগঞ্জ-২), সাবিনা ইয়াসমীন ছবি (নাটোর-২), আনিসুর রহমান তালুকদার (মাদারীপুর-৩), মাহমুদুল হক রুবেল (শেরপুর-৩), আবুল হোসেন খান (বরিশাল-৬), ডা. শাহাদা হোসেন (চট্টগ্রাম-৯), শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২), সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল (নরসিংদী-৪), লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (পিরোজপুর-২), জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন (কুষ্টিয়া-২) প্রমুখ বক্তব্য দেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা