kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থে বিকৃতি

ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালককে তলব হাইকোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালককে তলব হাইকোর্টে

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি না ছাপিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বইয়ের সম্পাদক ও বাংলাদেশ বাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১২ মার্চ তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির পরিবর্তে আইয়ুব খান ও মোনায়েম খানের ছবি কেন ছাপানো হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বইটির পুরনো যত কপি আছে, তা সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একুশে বইমেলায় যাতে বই না যায় সে জন্যও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা  হয়েছে।

বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। এ সময় আদালত বলেন, উনি হাজির না হলে তাঁকে হাজির করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এ পর্যায়ে ব্যাংকের কৌঁসুলি আইনজীবী জোবায়ের রহমান বলেন, উনি অবশ্যই হাজির হবেন। থানাকে নির্দেশনা দিতে হবে না।

গতকাল আদালতে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জোবায়ের রহমান। গতকাল তিনি ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ নামের নতুন বই আদালতের হাতে তুলে দেন। একপর্যায়ে আদালত বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি না ছাপানো অমার্জনীয় ভুল। ইতিহাস বিকৃতি অমার্জনীয় অপরাধ।

গতকাল শুনানির একপর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, এই বই প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধরে আনা দরকার।

এ সময় রিটকারীর আইনজীবী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছবি না ছাপানো হলে বাংলাদেশ থাকে না। এ জন্য এ ঘটনায় জড়িতদের বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আদালতের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি তা না করা হয় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী শিখবে?

এ সময় ব্যাংকের কৌঁসুলি বলেন, প্রথম যে বইটি বের করা হয়েছিল তা বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশোধিত মুদ্রণ প্রকাশ করা হয়েছে। এ সময় তিনি সংশোধিত একটি কপি আদালতে দাখিল করেন। তিনি বলেন, নতুন বইয়ে আগের ভুল শুধরে নেওয়া হয়েছে। আগেরটির সঙ্গে তুলনা করলে তা বোঝা যাবে। এ সময় আদালত বলেন, ‘আগের বইটি আমরা খুলেও দেখতে চাই না।’ আদালত বলেন, ‘যে ভুল আপনারা করেছেন সেটা অমার্জনীয়। এই ভুলের জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? প্রকাশ্যে কি ক্ষমা চেয়েছেন? যদি তা না করে থাকেন তাহলে কাউকে আমরা সহ্য করব না। ভুল করেছেন এবং তা পরে শুধরে নিয়েছেন—এটা বেশি বেশি করে প্রচার করতে হবে। যাতে সঠিক ইতিহাসটি সবাই জানতে পারে।’

এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগের সত্যতা ফুটে ওঠে। এর কারণ হিসেবে বইটি সম্পাদনা কমিটি এবং গবেষণা ও পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের অবহেলা ও গাফিলতিকে দায়ী করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ওই গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ছবি ব্যবহার করা হয়নি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা