kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশ্ব ইজতেমা এক দিন বাড়ল বৃষ্টিতে দুর্ভোগ

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্ব ইজতেমা এক দিন বাড়ল বৃষ্টিতে দুর্ভোগ

টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা মাঠে গতকাল বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় পানি জমে যায়। ফলে ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা দুর্ভোগে পড়েন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈমান, আমল ও আখলাকের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে আখেরি মোনাজাতে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার সমাপনী পর্ব। মাওলানা সাদ কান্দলভি অনুসারীদের আয়োজনে দ্বিতীয় পর্বের কার্যক্রম চলছে। এর আগে গত শুক্র ও শনিবার সাদবিরোধী মাওলানা যোবায়েরপন্থীদের উদ্যোগে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

তাবলিগ জামাতে সাম্প্রতিক বিভেদ ও সংকটের কারণে এ বছর বিবদমান দুই পক্ষকে সরকার দুই দিন করে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি দেয়। তবে ইজতেমা মাঠ গোছানোর সময় কম পাওয়া ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সমাপনী পর্ব এক দিন বাড়ানো হয়। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফলে শেষ পর্বের আখেরি মোনাজাত হবে মঙ্গলবার।

প্রথম পর্বের মোনাজাতের পর শনিবার রাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাদপন্থীদের প্রধান সমন্বয়কারী ওয়াসেফুল ইসলামসহ ৩২ জন মুরব্বির উপস্থিতিতে ইজতেমা ময়দানে সমাপনী পর্ব পরিচালনা ও মাঠের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

গতকাল রবিবার বাদ ফজর দিল্লি থেকে আগত মাওলানা হাফিজ ইকবালের দাওয়াতে তাবলিগের ছয় উছুলের হাকিকত সম্পর্কিত আমবয়ানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা ঘটে। এরপর বাদ জোহর মাওলানা আব্দুল বারী, বাদ আসর মাওলানা মোশাররফ হোসেন ও বাদ মাগরিব মাওলানা শামিম আহমেদ বয়ান পেশ করেন।

গতকাল ভোর থেকে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় বজ্রপাতসহ ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রবল বর্ষণ চলতে থাকে। বৃষ্টিতে ভিজে দূর-দূরান্ত থেকে বাস, ট্রাক, লঞ্চ, পিকআপ, ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহনে মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে আসতে থাকে। বৃষ্টির কারণে ইজতেমা মাঠের বিভিন্ন খেত্তায় পানি জমে যায়। পুরো মাঠের চটের শামিয়ানা চুয়ে নিচে পানি ঝরতে থাকে। আগত মুসল্লিদের বিছানাপত্র ও কাপড়চোপড় ভিজে যায়। এ সময় তাবলিগের মুরব্বিরা বৃষ্টির ফজিলত ও ধৈর্য ধারণের উপকারিতা সম্পর্কে মাইকে আলোচনা করেন। বৃষ্টির জন্য দুর্ভোগে পড়লেও আগত মুসল্লিদের মধ্যে কোনো ধরনের বিরক্তি লক্ষ করা যায়নি। মুসল্লিরা ভিজে মাঠে অবস্থান করে বয়ান শুনেছে। গতকাল সারা দিনই মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশ নিতে আসছিল।

তাবলিগের সাদপন্থী জামাতের প্রধান সমন্বয়কারী ওয়াসেফুল ইসলামের পক্ষে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ মনসুর শেখ জানান, গতকাল বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে চার শতাধিক মেহমান ইজতেমা মাঠে এসে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সমস্যার কারণে এবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি মেহমান ইজতেমায় যোগ দেয়নি।

গতকাল রবিবার ইজতেমা মাঠে গিয়ে দেখা যায়, আগত মুসল্লিদের মধ্যে অধিকাংশই বয়স্ক লোক। আলাপ করে জানা যায়, তাঁরা সবাই দীর্ঘদিনের পুরনো সাথি। সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে ইজতেমার সংকট সম্পর্কে তেমন কোনো অভিব্যক্তি নেই—তাঁরা বলেন, ‘আল্লাহকে রাজি-খুশি করতে এসেছি। দ্বিনের কাজে নিজেকে শামিল করতে এসেছি। আমলের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে এসেছি।’

গতকাল বিকেল পর্যন্ত মাঠের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা টহল দিচ্ছে। ওয়াচ টাওয়ারে দায়িত্ব পালন করছে র‌্যাবের সদস্যরা। পুরো টঙ্গীতে র‌্যাব-পুলিশের পদচারণ অব্যাহত রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান  চলছে। সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আগতদের ফ্রি চিকিৎস্য দেওয়ার জন্য মাঠের উত্তর পাশে স্থাপিত ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎস্যসেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। প্রথম পর্বের পর টয়লেট, ওজু- গোসলখানা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। তাবলিগ জামাতের বিভিন্ন কর্মসূচি নিজস্ব আঙ্গিকে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাবলিগের প্রধান কেন্দ্র ভারতের নিজাম উদ্দিন থেকে শীর্ষ মুরব্বিরা  তাশরিফ এনেছেন। সমাপনী পর্বের আখেরি মোনাজাতের পর সিদ্ধান্ত অনুসারে মাঠের প্যান্ডেল খোলাসহ অন্যান্য কাজ সাদপন্থীদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা